somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অদিতি

২৫ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৬
সিদ্ধান্ত নিতে পারে না অদিতি। ফোনটা ধরবে? না ধরবে না? নিজের অজান্তেই নওরিনের দিকে তাকায়। মেয়েটার প্রতি কেমন একটা আস্থা জন্মে গেছে। চোখের দৃষ্টিতে সম্ভবতঃ কিছু একটা ছিল, নওরিন মুহূর্তে বুঝে যায়, অদিতি ভয়ানক কোন বিপদে আছে, আর তার সাহায্য চাইছে। দ্রুত নিজের বিছানা থেকে উঠে এসে অদিতির পাশে বসে। ইশারায় জানতে চায়, কি করবে?
অদিতির ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি বুঝিয়ে দেয়, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। নওরিন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। ফোনটা রিসিভ করে। মোলায়েম কণ্ঠে বলে
— হ্যালো
— কি সিদ্ধান্ত নিলা?
নওরিন বুঝতে পারে, আওয়াজ যে অদিতির না, ব্যাপারটা অপর পক্ষ বুঝতে পারেনি। সে তাই ব্যাখ্যা দেয়
— অদিতি আপু একটু বাথরুমে। আপনি কি একটু পরে ফোন করতে পারবেন?
— ঠিক আছে। আমি মিনিট দশেক পরে করব। ওকে একটু জানিয়ে দেবেন, ফয়সাল ফোন করেছিল।
ফোনটা রেখে নওরিন অদিতির দিকে তাকায়। অদিতির চোখে তখনও একরাশ ভীতি। শিরিনও ব্যাপারটা লক্ষ্য করে। সে ভাবছিল আজকে কি কি হয়েছে তার কিছু কিছু বর্ণনা দিবে, কিন্তু পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন। অদিতি বিপদে বুঝতে পেরে সে ও উঠে এসে অদিতির পাশে বসে। কাঁধে হাত রাখে। নওরিনের দিকে তাকায়। ইশারায় জিজ্ঞেস করে, কি করবি? নওরিন ইশারায় বোঝায়, যা করার আমি করছি। এরপরে অদিতির মুখটা নিজের দিকে ঘোরায়, বলে
— ঝামেলায় যে আছো, বুঝতেই পারছি। যদি বিশ্বাস রাখতে পার, তাহলে বলে ফেল। হালকা লাগবে
অদিতি তখনও ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। তবে এটা বুঝতে পারে, এদের বিশ্বাস করা যায়। হয়তো কোন সাহায্য করতে পারবে না, তবে ক্ষতিও করবে না। সিদ্ধান্ত নেয়, সব খুলে বলবে
— দশমিনিট পরে কিন্তু আবার ফোন করবে।
নওরিন তাগাদা দিল। অদিতি একবার শিরিন, একবার নওরিনের দিকে তাকিয়ে সব কথা বলতে শুরু করে। কথাগুলো শুনে শিরিন মাঝে মাঝে চমকে উঠলেও নওরিন ঠাণ্ডা মাথায় সব কথা শোনে। কিছুক্ষণ ভাবে। এরপরে পায়চারী শুরু করে। অদিতির চোখে ভেসে ওঠে নীরবের পায়চারী। সেদিন নীরব ভাবছিল, ওর কি হবে। আর আজ নওরিন ভাবছে, অদিতির কি হবে। কেমন যেন সবকিছু অচেনা মনে হয়। মনে হয়, জীবনে দেখার আর শেখার অনেক বাকী।
নওরিন ঝট করে একবার ঘড়ির দিকে তাকায়। একবার ভাবে, ঠিক দশ মিনিটের মাথায়ই কি ফোন করবে? না খানিকটা দেরী করবে? এমন সময় হোস্টেলের খালা ডাকতে আসে।
— আপা, খাইয়া নেন।
নওরিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, অদিতির দিকে তাকিয়ে বলে
— আক্টিং করতে পারবা?
— মানে?
— মানে তুমি বলবা, তুমি রাজী। শর্ত হচ্ছে, সব ছবি তোমার সামনে ডিলিট করতে হবে।
— রাজী হবে না।
— হবে। এই শালা যদি চালু চিজ, অবশ্যই টোপ গিলবে। রাজী হবে আর কপি রেখে তোমার সামনে ছবি ডিলিট মারবে।
— তাহলে লাভ?
— পুলিশের ডলা যেহেতু একবার খেয়েছে, তাই ভয় আছে। পুলিশকে দিয়ে একবার থ্রেট দাওয়ানো গেলে কাজ হতেও পারে।
— যদি না হয়?
— সে রিস্কটা আমাদের নিতে হবে।
অদিতি অবাক হয়ে নওরিনের দিকে তাকায়। কি অবলীলায় বলে ফেলল ‘আমাদের'। পরিচয়ের চব্বিশ ঘণ্টাও হয়নি। অথচ মুহূর্তেই অদিতির সমস্যাকে নিজের সমস্যা ভেবে ফেলল। কৃতজ্ঞতায় অদিতির মনটা ভরে যায়।
— গেট আপ দেন। খেয়ে আসি। দরকার হলে, আমারাই ফোন করব।
অদিতি কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। একবার শিরিনের দিকে তাকায়। শিরিনও ইশারায় বোঝায়, নওরিন যা বলছে, ঠিকই বলছে। অদিতি সম্মত হয়। ধীরে ধীরে ডাইনিং রুমের দিকে এগিয়ে যায়। শিরিন যাবে কি না তা ভাবে। জিজ্ঞেস করে
— আমিও আসব?
নওরিন বারণ করতে যায় এমন সময় অদিতি নিজেই বলে
— প্লিজ।
এরপরে তিনজনেই ডাইনিং রুমের দিকে এগিয়ে যায়। এরপরে তেমন কোন ঘটনা ছাড়াই ডিনার পর্ব শেষ হয়। রুমে ফিরে এসে নওরিন অদিতির পাশে এসে বসে।
— ভয় লাগছে?
— কি করতে চাও?
— পুলিশে আমার এক মামা আছেন। উনার হেল্প নিব। যেটা দরকার ব্যাটাকে হাতেনাতে ধরা। ছবিগুলো সহ ওকে পেলে সুবিধা। তা নাহলে অস্বীকার করবে যে ওর কাছে এমন কোন ছবিই নাই। একবার ধরা পড়লে, তখন রেসপনসিবিলিটি ঐ ব্যাটার। ছবি লিক হলে, তখন হারামজাদাকে ধরা যাবে।
— তখন আর ধরে কি লাভ? সবাইকে কি মুখ দেখাব?
— এই মুখই দেখাবে। শোন, যা হওয়ার, মাত্র কিছুদিনের জন্য হবে। কানাকানি, ফিসফিসানি সব কিছুরই একটা লাইফটাইম আছে। বাঙ্গালির জীবনে গসিপের অভাব কখনই হয় না। আর এক গসিপ এরা বেশিদিন করেও না। সেটা নিয়ে ভেব না।
— বাবা মা, ভাইয়েরা?
— শোন, এই হারামজাদা যা প্ল্যান করেছে, তা হচ্ছে তোমাকে লাইফ টাইমের জন্য রক্ষিতা বানাবে। তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেটা হতে চাও, না চাও না। যদি না চাও, দেন, ডোন্ট হেজিটেট। যা হবে দেখা যাবে।
শিরিনও এসে অদিতির কাঁধে হাত রাখে।
— নওরিন ঠিকই বলেছে। যা হবে দেখা যাবে। তুমি শুধু শক্ত থাক।
এমন সময় নওরিন বলে
— আমি বরং মামার সাথে একটু কথা বলি। দেখি উনি কিছু ওয়ে আউট বের করতে পারেন কি না।
অদিতি বুঝে উঠতে পারে না কি করবে। তবে নওরিনের ওপর কেমন যেন ভরসা করতে শুরু করেছে। মেয়েটা বুদ্ধিমতি এবং সাহসই। ওর প্ল্যানটাও খারাপ লাগছে না। পুরো ব্যাপারটায় পুলিশ ইনভল্ভ হলে, হয়তো এতোটা বেপরোয়া আচরণ না ও করতে পারে।
নওরিন এই ফাঁকে মামার সাথে কথা সেরে ফেলে। এসে জানায়
— ছেলের ডিটেলস দাও। নাম কি, বাবা কি করে। এরপরে মামা জানাচ্ছে কি করতে হবে।
অদিতি সেসব জানায়। নাম ঠিকানা নিয়ে নওরিন আবার ফোনে ব্যস্ত হয়ে পরে। কথা শেষে ফিরে এসে বলে
— মামা জানাচ্ছে। অ্যান্ড আপাততঃ নো দুঃখী দুঃখী চেহারা। তার চেয়ে বরং শিরিন আপুর রোমান্টিক গল্প শুনি।
— আর রোমান্টিক গল্প। আমারই তো ভয়ে গা কাঁপছে। অদিতিকে সাহস দিচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এমন কিছু আমার সাথে হলে আমি যে কি করতাম, ভাবতেই পারছি না।
শিরিনের হাবভাব দেখে নওরিন দুষ্টুমি করে বলে
— শিহাব ভাইও ছবি টবি তুলেছে নাকি?
শিরিন কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে যায়। খানিকটা ভেবে বলে
— ভাল বলেছিস। পুরুষ মানুষকে আর যদি কোনদিন বিশ্বাস করেছি।
নওরিন হেসে ফেলে
— ও, কাম অন। সবাইকে একই ভাবছ কেন?
এমন সময় অদিতির মোবাইল ফোনটা আবার বেজে ওঠে। সবাই এগিয়ে আসে অদিতির বিছানার দিকে। নওরিন এসে অদিতির কাঁধে হাত রেখে বলে
— একদম ভয় পাবে না।
অদিতি মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে। নওরিন জানতে চায়
— হাসছো কেন?
— ফয়সাল করেনি। ও করেছে।
এই বলে অদিতি ফোনটা ধরে। ওপাশে নীরব জানতে চায়
— কেমন লাগছে হোস্টেলটা?
— ভালোই।
— রুমমেটরা?
— খারাপ না।
— শোন, ওখানে দুটো সম্ভবতঃ সিঙ্গেল রুম আছে। ওগুলোর জন্য বলে রেখেছি, কোনটা খালি হলে, তোমাকে দিবে।
— লাগবে না। এখানেই ভাল।
— যা ভাল মনে কর। আচ্ছা, ঐ ব্যাটা কি আর ফোন দিয়েছিল?
— হ্যাঁ। দিয়েছিল।
— কি বলল?
কি বলবে এক মুহূর্ত ভাবল অদিতি। নওরিনের প্ল্যানটা বললে নীরব রেগে যাবে। ঠিক করল, ওকে কিছু জানাবে না। বলল
— আমার সাথে কথা হয়নি। বাথরুমে ছিলাম। রুমমেট মেয়েটা ধরেছিল। ওকে বলেছে দশমিনিট পরে করবে। এখনও করেনি।
— ওদের কিছু বলনি তো?
অদিতি, নওরিন আর শিরিনের দিকে একবার তাকায়। নওরিন ইশারায় জানতে চায় ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে কি না। ইশারায় বারণ করে অদিতি। খুব দরকারি না হলে নীরবকে সাধারনতঃ মিথ্যে বলে না। কি করবে? মন চাইছে না সত্যিটা বলতে।
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে কি করবে। বেশ সাবলীল ভাবেই মিথ্যেটা বলে
— নাহ। কাউকে কিছু বলিনি।
— ভাল করেছ। আচ্ছা শোন, যে কারণে ফোন করলাম, আমরা তো প্রটেকশান নিইনি এই কদিন। কোন সমস্যা না আবার হয়ে যায়। ডেট মিস হলে জানিও কিন্তু।
কথাটা শুনে ঘৃণায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত রি রি করে উঠল অদিতির।
চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১:১৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×