-
-
-
শিরোনামে ভ্যাবাচেখা খাইতে পারেন। পুরাটাই আমার দোষ। আমি ব্যাকা ট্যারা শিরোনাম করতে খুবই মজা পাইতেছিলাম কিনা। যাক শিরোনাম পছন্দ করবার কারন একটু স্ক্রল করেই পাইবেন।
ব্লগ নিয়ে হতাশ হওয়া খুবই সহজ/সওজ
সওজ, সোজা(য), সুজা(য), সজা(য), শুজা(য বা ঝ) কত উপায়েই না আমরা সোজা শব্দটিকে আঞ্চলিক/এলাকাভিত্তিক ব্যবহার করি। সোজা জিনিস দেখা আমাদের দেশের মানুষদের পক্ষে এক প্রকার অসম্ভব। এই যেমন ধরেন ইসলাম ইসলাম করে পাগল হওয়া ফেসবুক ইসলামিস্টরা বাস্তবে ঊঠতে বসতে কবিরা গুনাহ করেন। আমার এক সেলিব্রেটি বন্ধু আছে যে কিছুদিন পরপরই কচি মেয়ে খেয়ে দেয় এবং ইহা নিয়ে গর্ববোধও করে। ঘরে স্ত্রী আছেন কিন্তু উনার সম্মান হইতেছে চুড়ান্ত। এই যে যেনা করা ইসলামে হারাম করা ইহা নিয়ে না ভেবে ঐ বন্ধুটি নিয়ম করে শুক্কুরবারে নামাজ পড়তে যায়, বাবার সাথে, ছেলের সাথে একদম পাক্কা মুসল্লী হইয়া। আমি দেখি আর হাসি।
সোজা পথ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন দুনিয়াতে শান্তির পথে চলার নাম ইসলাম। নামাজ পড়া আল্লাহর নৈকট্যলাভের উপায়, যাতে আত্মার মধ্যে প্রকৃত শান্তি পাওয়া যায়। ইহা জোর করে ভালবাসা না। এই সোজা জিনিস দেখবেন শতকরা ৯৯% ভাগ মানুষই জানে না/খবর করে না। অথচ ধপাস ধপাস করে মসজিদে/বাড়িতে নামাজ পড়ে ফেলতে দেখবেন। ঐ বেকাতেড়া উপায়ে ইহারা জান্নাতে যাইতে চায়।
ধুরঃ কই থেকে কই এসে গেলাম। ব্লগ নিয়ে পোস্ট দেবার কথা আর এনে ফেললাম ইসলাম/কোরআন। যাক গা। আসল কথায় আসি। ব্লগে এক দল নৈরাশ্যবাদ দেখা যাইতেছে যারা ব্লগের কোন ভবিষ্যৎ দেখেন না। ইহারা পারলে সামুকে হেফাজতে ইসলামের আস্তানা ঘোষনা দিয়ে ব্লগ ত্যাগ করে যেন নিস্তার পান অথচ দেখা যায় কাকের ঠ্যাং বকের ঠাং দেখতে পড়তে ইহারাই আবার সামুর পাতায় ভীড় জমায়। এই বকধার্মিকতা অবশ্য নতুন আবিস্কার না। অনেক আগের।
ব্লগে অন্যান্য ব্লগারদের উত্যক্ত করা, নীতি জ্ঞানের তোয়াক্কা না করে ধর্মের বিষয়ে কটুক্তি, বংগবন্ধু ও অন্যান্য জাতীয় স্বনামধন্য ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত তাচ্ছিল্যকরণ যার কর্ম এমন একজনকে নিয়ে সম্প্রতি কেউ কেউ কান্নাকাটি করছেন। অথচ উনাকে কত বার যে ভুল ধরিয়ে দেওয়া হইয়াছে তাহার কি হিসাব আছে? উনার অসম্ভব বেয়াদবি ও দম্ভপুর্ণ কমেন্ট ডিলিট করতে হয়েছে, কত খারাপ খারাপ কমেন্ট যে ডিলিট করতে হয়েছে তাদেরই চোখের সামনে অথচ দেখা যাইতেছে ইহারা এমনতরক একটা ভাব ইনারা করেন যেন উনি ছিলেন ধোয়া তুলসী পাতা। আবার এমনো আছেন কেহ কেহ যে উনার গন্ডার মার্কা কমেন্ট মিস করতেছেন। হুট হাট আগা নাই মাথা নাই কমেন্ট উনারা মিস করেন দেখে আমার খুবই মায়া হয়। যে ইনারা মানসিক ভাবে এতই ইম্যাচিউর যে ব্লগে এসে এক মানসিক সমস্যাগ্রস্থ লোকের বুলিং তাদের কাছে দরকারী হইয়া গেছে।
যাক ইহাকে নিয়া আর তেনা পেচাইতে চাইতেছি নাহ। হেডলাইনের আগাছা পরিস্কার করে ইতি দেই।
মনে করেন একটা পোস্টে Click This Link ক্রেডিট কার্ড নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেস্টা করা হইল। তো জনৈক ব্লগার এসে বলবেন যে হালাল কার্ড কি নিয়ে কেন বলেন নি? আপনি একটা বেকুব।
এই হইল সওজ। সহজ না, সওজ। হাঃহাঃহাঃ
এই সওজ'র উদাহরণ অনেক বেশি আছে, নিয়মিত ব্লগে থাকলেই চোখে পড়িবে। যাক আরেকটা উদাহরণ দেই, সওজ এর-
মুক্তিযুদ্ধ/মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে আপনার মতামত প্রকাশ করতে চাইলেন, তো দেখবেন মোটামুটি এইরকম Click This Link "রাজীব নুর বলেছেন: ব্লগে চাঁদগাজী ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের কথা কেউ নিরপেক্ষ ভাবে লিখতে পারে না।
ইতিহাস বলার সময় নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে হয়।"
মনে করেন এক লোক ধর্মের মিরাকল/টাইপ জিনিস নিয়ে লিখেছেন। তো জনৈক ব্লগার এসে বলবেন যে আপনি প্রশ্ন ফাঁস করে এইসব আবোল তাবোল লিখছেন। ভাবটা এমন যেন ব্লগে এইসকল জিনিস লেখা যাবে না। এইটা উনাব বাপের সম্পত্তি তাই উহা রক্ষা করতে তৎপর হইয়াছেন। Click This Link
তো খানিক পরে আরেকজন শিষ্য এসে বলবেন যে- আপনার মগজ হইতেছে পিপড়েরে মত। এই আরকি। ইহাকেই বলে সওজ। বুঝা গেছে ব্যাপারটা?
এক অখ্যাত মণিষী বলিয়াছিলেন-
সোজা কথা হইল আরে বেটা তোর বাপে কি ব্লগের মালিক? তুই যে জিনিস পসন্দ করিস না উহাতে পা মাড়াস কেন? সোজা পথে হাটলেই তো হয়। অন্যথায় যৌক্তিক উপায়ে ইহাকে নিয়ে সমালোচনা করা তো চলে। তা নিয়ে তো কেউ আঙ্গুল তুলবে না। সরাসরি আজে বাজে কথা বলার দরকার কি?
তো ক্লিয়ার হইছেন সওজ পথ? মনে রাখিবেন ইহা কোনক্রমেই কবি গোলাম মোস্তফার সেই পথ নহে-
অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী।
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।
দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।
সরল সঠিক পূণ্য পন্থা
মোদের দাও গো বলি,
চালাও সে-পথে যে-পথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।
যে-পথে তোমার চির-অভিশাপ
যে-পথে ভ্রান্তি, চির-পরিতাপ
হে মহাচালক,মোদের কখনও
করো না সে পথগামী।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


