somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রাম-বাংলার ছেলেমেয়েদের অদ্ভূত কিছু আচরণ!

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্ম গ্রামে হলেও বেড়ে ওঠা শহরে। তবুও নাড়ির টানে প্রায়ই ছুটে যাই গ্রামে। অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করে গ্রামের মায়াভরা পথে। যাই হোক, ছোট বেলায় যখন গ্রামে যেতাম, তখন কিশোর-যুবকদের মাঝে অদ্ভূত কিছু আচরণ লক্ষ্য করতাম; যেগুলো এখন প্রায়ই মনে করি আর হাসি। সেরকম কিছু মজার আচরণ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।


১. মিশতে না চাইলে মেয়েদের অহংকারী বলা


গ্রামে সুন্দরী কিংবা স্মার্ট মেয়েদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। এর মধ্যেও যেসব মেয়ে দেখতে খানিকটা সুন্দরী, গ্রামের কিশোর-যুবকরা তাদের পেছনে ঘুরঘুর করে এবং আশপাশের কয়েকগ্রাম জুড়ে যুবকদের কাছে সেই মেয়ের খবরাখবর থাকে। যাই হোক, মূল কথায় আসি। সুন্দরী মেয়েরা তাদের সৌন্দর্য্যের অহঙ্কারে হোক কিংবা ছেলেদের বিরক্তির শিকার হয়ে হোক, কিছুটা রিজার্ভ থাকতে পছন্দ করে। সকলের সাথে কথা বলে না, রাস্তাঘাটে আত্মমর্যাদার সাথে চলাফেরা করে, ছেলেরা কথা বলতে প্রচণ্ড আগ্রহী হলেও সহজে তাদেরকে পাত্তা দেয় না....।

যেসব ছেলে ঐ মেয়েটির সাথে কথা বলতে চায়, তারা তখন সুন্দরী মেয়েটির আত্মমর্যাদা চর্চার এই দিকটিকে বিকৃত করে এর নাম দেয় 'অহংকার', 'ভাব', পার্ট ইত্যাদি। ছড়িয়ে দেয় 'মেয়েটা খুব অহংকারী', 'বেশি ভাব নেয়' ইত্যাদি ইত্যাদি।

এক কান দুই কান করে ব্যাপারটা সেই মেয়ের কানে আসে। প্রথমে মেয়েটা কষ্ট পায়, একটু কাঁদে। তবে আস্তে আস্তে সে আগের চেয়ে কিছুটা উদার হয়। ছেলেদের সাথে কথা একটু-আধটু বাড়িয়ে দেয়, 'অহংকারী' তকমাটা গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে ছেলেদের সাথে একটু একটু মেশা শুরু করে।

২. সামান্য কারণেই মাফ চাইতে বাধ্য করা

একটা গল্প বলি। একবার গ্রামে গিয়ে দেখি, এক মেয়ে প্রচণ্ড মন খারাপ করে আছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, মেয়েটাকে একটা ছেলে বিরক্ত করত বলে সে তাকে 'বেআদব' বলেছে। আর এতেই মানসম্মান প্লাস্টিক হয়েছে সেই ছেলের। সে এখন গোঁ ধরেছে যে, মেয়েটাকে মাফ চাইতে হবে তার কাছে। ছেলেটা তার পরিচিত কিছু মেয়েকে বারবার পাঠিয়ে সেই মেয়েটাকে চাপ দিচ্ছে তার কাছে মাফ চাওয়ার জন্য। পরে মেয়েটা মাফ চেয়েছিল কিনা, সেটা আমার জানা হয় নি, তবে তুচ্ছ কারণে এরকম আরো বেশ কিছু মাফ চাওয়ার ঘটনা দেখেছি আমি।

৩. পছন্দের মেয়েকে নিয়ে উপন্যাস লেখা

পড়াশোনার ঠিক নাই, কয়েকবার ফেইল করেছে এরকম এক ছেলে আমাদের গ্রামে উপন্যাস লিখত। তার পছন্দের মেয়েকে নায়িকা বানিয়ে, নিজেকে নায়ক কল্পনা করে এই উপন্যাস রচিত হত। উপন্যাস লেখার ব্যাপারটি প্রকাশ হলে, যেই মেয়েটি এই উপন্যাসের নায়িকা, তাকে নিয়ে কানাঘুষা শুরু হত গ্রামে।

কখনো কখনো এধরনের উপন্যাস বই আকারেও প্রকাশ পেত। আমার পরিচিত সেই 'ঔপন্যাসিক' এরকম একটা বই প্রকাশ করে। আমি তখন অনেক ছোট। কোনো কারণবশত সেই উপন্যাসের একটা কপি আমার মায়ের হাতে আসে। তিনি সেটা পড়বার পরে ঘৃণায় থুথু ফেলেন এবং চুলায় পুড়িয়ে ফেলেন।

জানি না, এধরনের উপন্যাস কতটা মানহীন আর অশ্লীল হয়ে থাকে। তবে ঢাকায় আসবার পর প্রথম আলো পত্রিকা মারফৎ এধরনের ঔপন্যাসিকদের সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য জানতে পেরেছি। এসব ঔপন্যাসিক ঢাকার বাংলাবাজারে বইয়ের ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। কোনো লেখকের বই প্রকাশ হলে, তাকে সম্মানি দেয়া হয়। কিন্তু এই লেখকদের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। তারাই বরং প্রকাশকদের মোটা অংকের একটা অর্থ দিলে তবেই তার বই বাজারে আসে।

বাংলাবাজারে এই শ্রেণীর লেখকদের বিশেষ একটা নামও আছে- 'মুরগা লেখক' B-)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×