somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকায় তিন শিক্ষার্থী হত্যা ও গণমাধ্যম…

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১. যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তিন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হলো।এদের মধ্যে আবার দু’জন ইয়াং লেডি।সুতরাং এখানে নারী অধিকারের বিষয়টিও চলে আসে।একদল খ্রিস্টান উগ্রবাদীর আক্রমণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।আমরা জানি পশ্চিমা বিশ্বে শুধু মানুষ নয় যে কোনো প্রাণীর মৌলিক অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।পশ্চিমা দেশগুলোতে একটি কুকুর যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আামাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশের একজন মানুষ সে সব কল্পনাও করতে পারে না।বাস্তবে আমাদের সাথে ওদের জীবন মানের পার্থক্য আসলে এতটাই।এরপরও আমাদের দেশের কমন দৃশ্য হলো-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে হাজার হাজার ছাত্র তার জন্য রাস্তায় নেমে পড়ে।কোনো ছাত্র মারা গেলে বিশাল শোরগোল শুরু হয়।আসলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে উচ্চশিক্ষারত একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মৃত্যকে মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে না বলেই এমনটা হয়।পাবলিক সেন্টিমেন্টকে মাথায় রেখে মিডিয়া বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে।
২. কেন এই তিন সংখ্যালঘু মুসলিম শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হলো তা জানাতে পারেনি আমেরিকান পুলিশ। তবে ধারণা করা হচ্ছে ইসলাম বিদ্বেষের জের ধরে একদল (বা একজন) উগ্র খ্রিস্টান এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে দেখবেন-আমাদের দেশে আশুরার বড় মিছিল হলেও পশ্চিমামিডয়া তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।ধর্মীয় স্বাধীনতা যেন ক্ষুণ্ন না হয় এ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের উপদেশ দেয়।আমাদের দেশের সংখ্যালঘূদের নিয়ে ওদের উৎসাহের কোনো কমতি নেই।ওরা কোনো যুক্তি ছাড়াই তাদের হাতে গড়া আইএস নামক এক অসভ্য সংগঠনের অপকর্মের দায়ভার মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
যাই হোক ফেসবুকে এ মৃত্যুর খবরটি পেয়ে আমি গতকাল পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে ঢুঁ মারি।তিন তিনটা তরুণ তাজা প্রাণ স্রেফ সন্ত্রাসী হামলায় ঝরে গেল।যাদের কোনো অপরাধ ছিল না।নিতান্তই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওরা।আমাদের আশা ছিল পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর তরফ থেকে বিশেষ কোনো বিবৃতি আসবে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে।মিডিয়াগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খবরটি ছাপবে।সম্পাদকীয়তে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাবে।আসলে ঘটেছে ভাবনার ঠিক উল্টোটি।পশ্চিমা মিডিয়া খবরটি প্রকাশের প্রয়োজনও মনে করল না।আমি বেশ আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিশেষ করেবিবিসি খুঁজলাম।তাদের প্রচ্ছদে এ সংক্রান্ত কোনো খবর নেই।একদম নিচে এ নিয়ে ছোট্ট একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন চোখে পড়ল।যা দেখে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।শেষ পর্যন্ত আমাকে আল জাজিরা পড়েই সন্তুষ্ট খাকতে হলো।
তাহলে এই তিন খুন নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার এমন আচরণকে কিভাবো মূল্যায়ন করেব আমরা।আমরা এ পর্যায়ে এসে বলতেই পারি আসলে ধর্ম-বর্ণ তথা সব কিছুর উর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দিতে পারেনি পশ্চিমারা।এ ঘটনায় প্রমাণ হলো পশ্চিমা মিডিয়া বর্ণবাদী খ্রিস্টীয় ধর্মবাদে আবদ্ধ।যা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন তথা প্রাণ হরণকেও সমর্থন করে।আমরা এমন ধর্মীয় বর্ণবাদী আচরণের নিন্দা জানাই।এই সাথে পৃথিবীর প্রতিটি দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানাই।
৩. এতো গেল পশ্চিমা মিডিয়ার কথা।এবার আমার দেশের মিডিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।আমরা দেখেছি কয়দিন আগে মহানবী (স.) কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশকারী ‘শার্লি এবদো’র অফিসে কথিত মুসলিম আইএস জঙিদের হামলা নিয়ে বিডি মিডিয়ার সেকি উত্তেজনা।যেখানে নানাভাবে ইসলাম ধর্মটাকে কুলষিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আজ সকালে আমি বাংলাদেশি মিডিয়ায় খবরটি দেখার চেষ্টা করি।না কোথাও নেই এখবরটি।দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিকটি সংক্ষিপ্ত আকারে সংবাদটি ছাপিয়েছে।কয়েকবার তাদের আন্তর্জাতিক পাতা অনলাইন ভার্সনে ঘোরার পর এটা আমার নজরে পড়ল।তাদের প্রতিবেদনে কে হামলা করেছে তার কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই।কারা মারা গেছে তাদেরও তেমন কোনো পরিচয় বলা হয়নি।ধরে নিলাম পত্রিকাটি ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে এ জঘন্য আক্রমণকে নিতান্তই একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখতে চাইছে।যে নীতি তারা মিয়ানমারে বৌদ্ধরা যখন হাজার হাজার রোহিঙা মুসলিমদের পুড়িয়ে মারে, ভারতে যখন উগ্র হিন্দুরা মুসলিমদের হত্যা করে তখন অনুসরণ করে।তারা বিষয়গুলোকে দুই পক্ষের দাঙা হিসেবে আখ্যা দিয়ে খুব ছোট করে উপস্থপন করে।কারা হত্যার শিকার হয়েছে, কারা হত্যা করেছে এসবের উল্লেখ থাকেনা তাদের প্রতিবেদনগুলোতে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে নিজ দেশের বেলায় কি একই নীতি অনুসরণ করে দৈনিকটি।আমরা দেখি অনাহুতই বিভিন্ন সাধারণ ঘটনাকে ধর্মীয় রুপ দিয়ে উপস্থাপন করছে পত্রিকাটি।যেমন বেশ কয়েক মাস আগে বরিশালে ফুটবল মাঠে খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একজন খুন হয়।নিহতের ক্ষুদ্ধ স্বজনেরা খূনির বাড়ি আগুণ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।যে নিহত হয়েছে সে মুসলমান।আর যার বাড়ি আগুণে পুড়েছে সে হিন্দু।দৈনিকটি পরদিন বিশাল্ আকারে নিউজ প্রকাশ করেছে-বরিশালে সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুণ!এখানে তারা সংখ্যালঘুর অধিকারের কথা বলতে গিয়ে একজন মানুষ খুন হওয়ার বিষয়টিকেই বেমালুম চেপে যায়।খেলা নিয়ে দুই পক্ষের এ বিরোধকে তারা শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় সংঘাতে রুপ দিয়ে ছাড়ল।এভাবেই আসলে মিডিয়া তাদের একরোখা দৃষ্টিভঙির প্রতিফল ঘটাচ্ছে প্রতিদিন।যেখানে সত্য কোনটা তা জরুরি বিষয় না, উদ্দেশ্য সাধনই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪. এমন নানা কারণে মিডিয়ার কথা এখন খুব মানুষই বিনা বাক্যব্যয়ে বিশ্বাস করে।তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে পশ্চিমা মিডিয়াগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।আর দেশীয় মিডিয়াকে সাধারণ মানুষ দেখে নিতান্তেই দলীয় দৃষ্টিভঙি থেকে।বাংলাদেশে মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ৫ শতাংশ খবরও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে বলে আমি মনে করি না।অনেকে সাংবাদিকতাকে দেখেন দুবৃত্তায়ন হিসেবে।কেন এমনটা হচ্ছে তা মিডিয়া মালি ও সংশ্লিষ্টরা ভেবে দেখতে পারেন।আসলে ক্রমবর্ধমান স্যোশাল মিডিয়ার এ যুগে কোনো কিছুই যে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হবে না এ বাস্তবতাকে মেনে সাংবাদিকতা করাটা এখন সময়ের দাবি।সাংবাদ মাধ্যম হিসেবে বিকল্প ধারার স্বাধীন মিডিয়াকে বিবেচনায় না নেয়া মানে নিজের পয়ে নিজেই কুড়াল মারা।

সরোজ মেহেদেী
[email protected]

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ভোর ৪:২৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×