somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির আয়না

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদের দিন খুব সকালে শুরু হতো আমাদের তোড়জোড়। মাঠ ঝাড়ু দেওয়া, হোগলা বিছানো, মাইক বাধানো—কত কাজ। এসব করতাম আমরা কয়েকজন। মাঠের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে নিজেরা তৈরি হয়ে এসে নামাজ পড়া।

নামাজ শেষে দল বেধে বাড়ি বাড়ি ঘোরা। অনেকগুলো বছর এই ছিল প্রতি ঈদে আমার রুটিন কাজ। কিন্তু গত কয়েক বছর কোনো ঈদেই ঘর ছেড়ে বের হইনি। ঈদের পুরোটা দিন কার অপেক্ষায় যেন থাকি। আমি হাসতে গেলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি শোকার্ত মুখ।

এই তো কয়দিন যেন হলো রমজানের ঈদ উদ্‌যাপন শেষে বাড়ি থেকে আসলাম। এখন আবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত রমজানের ঈদে নামাজ সেরে ঘরে ফিরতেই আম্মা খাবার খাওয়ার জন্য তাড়া দেন। সেমাইয়ের প্লেটটা সামনে রেখে চামচ ঘুরাই আমি। এখনো ফোন দেওয়া হয়নি খালাম্মাকে।
খালাম্মা মানে আমার বন্ধু হাসানের মা। একসঙ্গে পড়তাম আমি ও হাসান। স্কুল ও কলেজজীবন কেটেছে একই হোস্টেলে। এক রুমে ছিলাম অনেকগুলো বছর।
এইচএসসি পাস করার পর সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স মিলল আমাদের দুই ফাঁকিবাজের। এ আনন্দকে উপভোগ্য করতে সিদ্ধান্ত নিই সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়ার। চার কলেজ বন্ধু একসঙ্গে যাব বলে দিনক্ষণ ঠিক করি। ঈদের পরদিন গাবতলী থেকে বাসযোগে ছুটে চলি সাতক্ষীরার উদ্দেশে। শহরে পৌঁছে আরেক বন্ধু ফিরোজের বাড়ি উঠি। শুনতে অদ্ভুত শোনাবে হয়তো, ওই অঞ্চলের মানুষগুলোর কেমন যেন ঈদ আনন্দ নেই। তাদের দেখে ঠিক মনে হলো না এ অঞ্চলে ঈদ আছে। পরদিন সকালে খুলনা ও সাতক্ষীরার মাঝ দিয়ে চান্দগাঁও গ্রাম হয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করি পাঁচজন। সন্ধ্যায় ফেরার পথে শিবশাহ মোহনায় যাব বলে গো ধরি আমরা। ফিরোজ না করে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, শিবশাহ একবার যাকে পছন্দ করে সে আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না। তবু একটি নৌকায় চেপে বসি পাঁচজন। শিবশাহ নিয়ে আজগুবি মনে হয় স্থানীয়দের রূপকথা। একেবারে শান্ত সে। যেতে যেতে বহু দূর চলে যাই। হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই তলিয়ে যায় নৌকাটা। আমরা চারজন তীরে পৌঁছতে পারলেও হারিয়ে যায় বন্ধু হাসান। তীরে পৌঁছে আমরা ওকে কতক্ষণ খুঁজি।

সেই ঘটনার আজ পাঁচ বছর। একমাত্র ছেলের ফেরার অপেক্ষায় থাকা খালাম্মা আমাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছেন। ঈদের সকালে আমি ফোন দিই খালাম্মাকে। হাসান বলেই কাঁদতে থাকেন তিনি। আমার চোখেও নির্বাক জল। আম্মা রান্নাঘর থেকে এসে আঁতকে উঠে বলেন, কিরে তোর চোখ দিয়ে আবার কবে থেকে পানি পড়ে, কিরে...

গল্পটি ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর দূর পরবাস পাতায় প্রকাশিত: গল্প স্মৃতির আয়না
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×