মানবতার সবচেয়ে বড় বন্ধু,পৃথিবীতে সাম্য শান্তি আর ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী সরবকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ,ইমামুল মুত্তাকিন,সাইয়্যেদুল মুরসালিন,খাতামুন নাবিয়্যিন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ(সা)কে অবমাননা করে চলচ্চিত্র নিরমান করেছে এক কুলাঙ্গার দুশ্চরিত্র ইহুদি স্যাম বাসেলে।
এই চলচিত্র প্রকাশের সুযোগ করে দিয়ে আমেরিকা তথা ওবামা সরকার সারা পৃথিবী্র সকল মুসলমান্দের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পুনরব্যক্ত করল।যতক্ষণ পরযন্ত ওবামা সরকার এই চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করে এর পরিচালক কে উপযুক্ত শাস্তি না দিবে, ততক্ষণ পরযন্ত প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্য হল,আল্লাহ ও তার রাসুলের এই দুশমনদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া।
খুব দুঃখ জনক যে, অনেক ইস্লামি সংগঠন ও এই ঘৃণ্য অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শুধু মাত্র বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে তাদের দায়িত্ত শেষ করেছেন।
আল্লার শপথ,প্রিয় নবী মুহাম্মদ(সা) এর চরিত্র হনন্কারী এই পাপীষ্ট দের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যদি সমগ্র উম্মাতে মুহাম্মদীর ধমনীতে প্রবাহিত সব রক্ত ও বিলিয়ে দিতে হয় তথাপি জিহাদের এই পথ থেকে আমাদের পিচপা হওয়া উচিত নয়।
প্রিয় নবী (সা) এর অবমাননা কারীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে যদি কাউকে প্রাণ ও বিসর্জন দিতে হয়,তবে সেটাই তো একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওনা হবে।এটা তার জান্নাতে যাওয়ার পথকে সুগম করবে,যেমন্টি করেছিল উহুদের শহিদ্দের,যারা রাসুল(সা) কে কাফেরদের তরবারির আঘাত হতে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।সেদিন রাসুল(সা) এর সামনে থেকে কাফের দের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ যিনি গড়ে তুলেছিলেন সেই তালহা(রা) সম্পর্কে রাসুল(সা) যুদ্ধের ময়দানেই কয়েকবার ঘোষনা করেছিলেনঃ “তালহা তার জন্য জান্নাত কে ওয়াজিব করে নিল”
অনেকে আজকে হিক্মত অবলম্বনের কথা বলছেন,আন্দোলনে গিয়ে শত্রু দের ফাদে পা না দেয়ার কথা বলছেন,তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি,আপনাদের ভূমিকা ঠিক তেমনি,যেমন্ টি ছিল তাবুকের যুদ্ধে না যাওয়ার জন্য অজুহাত পেশকারী কতিপয় ব্যক্তির।
আপনাদের আন্দোলন বিরোধী হিকমাহ আমদের কে সালাউদ্দিন আইয়্যুবীর সময় কার কিছু সূফীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেই যারা প্রথমে তো যুদ্ধে অংশ গ্রহনের জন্য সম্মত হয়েছিলেন কন্তু পরবরতিতে যখন দেখলেন যে রিচার্ড,ফিলিপ আর ফ্রেডরিখ এর নেতৃত্তে ৫ লাখ সৈ্ন্যের এক বিশাল বাহিনী আসছে মাত্র ১০,০০০ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলেন।অবশেষে কিন্তু সেই অকুতভয় বীর সেনানি ঠিক ই বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।
যারা আজকে হিকমতের কথা বলে নিজেরা চুপ থাকছেন এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ কারী বীর মুজাহিদ দের বিরোধিতা করছেন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই,আজকে যদি উমার(রা) এর মত রাসুল(সা) প্রেমিক থাকতো তাহলে কিন্তু আপনাদের মত চুপ করে থাকতো না।
আপনাদের নিশ্চ্য় স্মরণ থাকার কথা সেই ঘটনা- এক মোনাফিক রাসূল(সা) এর বিচার না মেনে উমার(রা) এর কাছে পুনঃ বিচার চাইতে এসেছিল,উমার(রা) দেহ থেকে শির আলাদা করে দিয়ে ওই মোনাফিকের ধৃষ্টতার বিচার করে দিয়েছিলেন।
এই খবর যখন রাসুল(সা) এর কাছে পৌছালো যে উমার একজন মুসলমান(মোনাফিক) কে হত্যা করেছে তখন রাসুল(সা) নিজে বিব্রত বোধ করছিলেন এই ভেবে যে উমার(রা) এর কাজটি ঠিক হয়েছে কিনা,তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উমার(রা)এর কাজকে certify করে অহী প্রেরণ করলেন-
“তোমার রবের শপথ লোকেরা কোন ক্রমেই ইমান্দার হতে পারবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা-হে নবী- আপনাকে তাদের পারষ্পরিক যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্তকারী হিসেবে মেনে না নেই…” (সূরা নিসা-৬৫)
আজকে যারা সংখ্যা,শক্তি সামর্থের অপ্রতুলতা কিংবা মিডিয়া,বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার দোহাই দিয়ে মুসল্মানদের অন্তরের দাবানলকে নিভিয়ে দিতে চাচ্ছেন তাদের কে বলে রাখি….
রোমান সম্রাটের দরবারে হারেচ বিন উমাইয়্যা(রা) এর সাথে কূটনৈ্তিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরনের প্রতিশোধ নিতে রাসুল(সা) যখন পুরু সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে দিলেন তখন কিন্তু তিনি সংখ্যা,শক্তি সামর্থের কথা ভাবেন্নি,বরং শুধু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের উপর ই তাওয়াক্কুল করেছিলেন। ১ /৩৩ অনুপাতের সেই অসম যুদ্ধে কোন হিকমতের অজুহাত দিয়ে সেদিন সাহাবিরা পিছপা হননি।তাহলে আজ আমরা কেন পিছপা হচ্ছি???
কারন সাহাবীরা ছিলেন আখিরাতের প্রত্যাশী আর আমরা দুনিয়ার মোহে বিভোর।সাহাবীরা হৃদয়ে সবসময় শাহাদাতের তামান্না লালন করতেন আর আমরা শাহাদাতের রক্তভেজা রাজপথ কে সবসময় এড়িয়ে চলি।
আল্লাহ আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় ঘটাক্।প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারী জালিমদের কে আসুন আমরা আরেকবার দেখিয়ে দেই,মুসলমানদের শক্তি ফুরিয়ে যায়নি,আজও তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ইহুদি-খৃষ্টান দের জাহেলী সাম্রাজ্য ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে্।আসুন বদর,উহুদ,খন্দকের প্রেরণা নিয়ে খোদাদ্রোহী এই জালেম দের বিরুদ্ধে সর্বাত্নক আন্দোলনে যাপিয়ে পড়ি।আল্লাহ আমাদের কে কবুল করুন।আমীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




