somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ছায়ীদ আল আরিফ
আমি ছাইদুর রহমান।অ্যাকোইন্টেন্সরা আরিফ নামে জানে।ব্লগে লিখি “ছায়ীদ ‍আল আরিফ” নামে।কতো ভেরিয়েশন তাইনা? আমিও ঠিক এমনই, ভেরাইটিজ।কোন বিষয়ে স্পেশালিটি নাই বাট নানান বিষয় জানতে ভালো লাগে...nস্বপ্ন দেখি সুন্দর কিছুর...

ভিক্ষা ও হিংসা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘড়ির কাটা সাড়ে এগারোটার ঘর ছুঁই ছুঁই করছে। দাঁড়িয়ে আছি কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের সুপ্রসিদ্ধ এবং প্রাণবন্ত সাত্তার খান টাওয়ারের সামনে। সিঁড়ির বেশ কয়েক ধাপ উপরে একপাশ ঘেঁষে। হাতে সমকালের ঈদ সংখ্যা ২০১৪।মাত্র কিনলাম।ঝকঝকে তকতকে ।গ্লাস পেপারের তৈরি একটি প্যাকেটে মোড়ানো।সাথে রান্না বিষয়ক ছোট্ট পুস্তিকা একদম ফ্রি। দাম খুব চড়া।আমার ধারণার চেয়ে ঢের বেশি। দুইশ টাকা। সমকালের ঈদ সংখ্যা এই আমার প্রথম কেনা। আসলে এখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি এক বন্ধুর জন্য।একই জায়গায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আমার মতো আরো কিছু মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছে।এদের মধ্যে নারী পুরুষ উভয়শ্রেণীই চোখে পড়ছে।শহরের জনসমুদ্রের মধ্যে খুব সহজে কাউকে খুঁজে পাওয়া এরচেয়ে উত্তম পন্থা তেমন নেই বললেই চলে। কারণ,এই সুবিশাল নান্দনিক মার্কেটটি চেনে না কুমিল্লা জেলায় এমন মানুষ হাজারে একজন পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।'এই বলল, সাত্তার খানের সামনে চলে এসো; চলে এলাম'। বিশেষ করে কান্দিরপাড় এলাকায় এই স্থানকেই বেছে নেয় সবাই। এটির সংলগ্নই খন্দকার টাওয়ার । আর বিপরীত পাশে ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার। মোটামুটি কুমিল্লা শহরের মধ্যে এই তিনটিকে সেরা এবং অভিজাত শ্রেণীর মার্কেট বলা যায়। আরো একটির কথা না বললে ভুল হবে হয়ত।সেটা হচ্ছে শাসনগাছার ইস্টার্ন প্লাজা। ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে। মানুষের উপচে পড়া ভিড় এসব মার্কেটে।গেটের মাঝে দাঁড়ালে নির্ঘাত জনস্রোতে ভাসিয়ে ভিতরে নিয়ে যাবে কিংবা বাইরে রাস্তার উপর নিয়ে ফেলে দেবে। অপেক্ষমান সবাই একটু পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে।তাছাড়া মাঝে দাঁড়ালে কর্তৃপক্ষ কটুবাক্য 'ঈদ বোনাস' দেবেন নিঃসন্দেহে । গেটের সাথেই আড়াআড়ি বয়ে গেছে রাস্তা। রিক্শা,অটো রিক্শা,সিএনজির যেন হাট মিলেছে এখানে।গরুর হাটের মতো;এমনভাবে আটকে আছে জ্যামে। খানিকক্ষণ পর পর রিক্শার পেছনে ধাম ধাম করে ঘাঁ মারছে রোডগার্ড।মানুষের এই ঢলের মধ্যে আমার চোখ নিবদ্ধ হয়ে আছে ভিন্ন এক শ্রেণীর মানুষের দিকে। ওরা এখানে কেনাকাটা করতে আসেনি। সংখ্যায়ও একেবারে নগণ্য। হাতে গোনা কয়েকজন।ওরা সিঁড়ির একদম নীচে সমতল জায়গাটায় মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেও ঘুরঘুর করছে।একবার এর কাছে আবার ওর কাছে এভাবে বিরামহীন হাত পেতে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে আবার নাছোড়বান্দার মতো আলতোভাবে কারো হাত ধরে বসছে।কেউ দিচ্ছে দু একটি টাকা কেউবা উপেক্ষা করে চলে যাচ্ছে। এদের মধ্যে আমার দৃষ্টি কেবল এক বৃদ্ধার দিকে। রং জ্বলে যাওয়া জোড়াতালি বিশিষ্ট একটি বোরকা পরিহিত।মুখ আবৃত রাখার অংশটুকু মশারির কাপড়ের তালিযুক্ত স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। হাত পা খোলা।চামড়ায় কয়েক ভাজ পড়ে গেছে ।আমার দাদি নানির বয়সের হবে। পায়ে পঞ্চাশ ষাট টাকা দামের একজোড়া 'বার্মিছ' স্যান্ডেল। সাদা চটিতে নীল ফিতাবিশিষ্ট।দেখে খুব মায়া লাগছে।বৃদ্ধ মহিলা প্রতিবন্ধী বা বিছানায় পড়া নয়। এখনো চটপটে হাঁটাচলা করতে পারে। তাইতো হেঁটে হেঁটে এর ওর কাছে হাত পাতছে।এখানে লোক সমাগম বেশি হওয়ায় কামাই হয়ত একটু চড়া।তাই এখান দিয়েই ঘুরঘুর করে।খানিকটা পর আমাকে সম্পূর্ণ অবাক করে আরেক ভিক্ষুক এসে হাজির হল।দুটি পায়ের একটিও নেই।উরুর মাঝামাঝি থেকে নেই। এই প্রচণ্ড জ্যামের ভিতর হঠাৎ এখানে এল কী করে?আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম।রিক্শায় এল কিনা ভাবলাম একটুক্ষণ। কিন্তু জ্যামের মধ্যেতো উড়ে চলবে না রিক্শা। তাহলে ?আমার দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে রাস্তার একদম কিনার দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে এসেছে। কাদা মাটিতে মাখামাখি।বাচ্চারা দেখলে নিশ্চয়ই ভয় পাবে। হাতে একটা লাল রঙের প্লাস্টিকের গামলা। গামলাটা কীভাবে যে উপরমুখি করে রাখে কে জানে! কয়েক মিনিট বাদে চলে গেলো করুণ ভিক্ষুকটি। গিজ গিজে মানুষের কারণে তার সমস্যা।কে কোন সময় পাড়া টাড়া দিয়ে বসে সেই ভয়ে হয়ত। এবার লাঠিতে ভর করে সামান্য কুঁজো দাড়ি পাকা এক বৃদ্ধ এল। দেখতে বেশ সবলই মনে হয়। সে এখানে স্থির হল বেশ কিছুক্ষণ।তখনই দেখলাম এক মজার খেলা।বৃদ্ধের প্রতি অগ্নিমূর্তি হয়ে হাত নেড়ে নেড়ে শক্তভাবে ধমকাচ্ছে বৃদ্ধা। যেন এই এরিয়া সে দলিল করে নিয়েছে।আর কেউ এখানে স্থায়ী হতে পারবে না।তার ব্যবসার ঘাটতি হচ্ছে। বকুনি খেয়ে বৃদ্ধ লোকটা ভেজা বিড়ালের মতো কোন প্রতিবাদ ছাড়াই অন্যদিকে পা বাড়াল।কাণ্ড দেখে মৃদু হাসলাম।আমার কেন যেন মনে হল এই দুইজনই পেশাদার ভিক্ষুক।প্রকৃত ভিক্ষুক ছিল পা বিহীন চলে যাওয়া সেই নিরীহ মানুষটি।আরো একজন মহিলা প্রতিবন্ধী চোখে পড়ল এইমাত্র।গেটের পাশেই ছিল কিন্তু লক্ষ্য করতে পারিনি। আমি সারাক্ষণ ঐ বৃদ্ধ মহিলার কাণ্ড দেখছি।প্রতিবন্ধী মহিলার পা দুটো বাঁকানো এবং তুলনায় অনেক ছোট ছোট।তার সামনে রাখা গামলাটিতে এক কপি লেমিনেটিং করা ফটো। ফটোতে তিনটি একই রকমের প্রতিবন্ধী মানুষ।তার মধ্যে একজন সে নিজেই। বাকিরা তার সন্তান।

[কয়েক বছর আগের লিখা। তখন ‍আরিফহাদী নামের আমার পূর্বের ব্লগ আইডিতে পোস্ট করেছিলাম যেটার কিনা পাসওয়ার্ড - মেইল সব হারিয়ে ফেলেছি। সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই আইডিতে পুনঃপোস্ট করা হলো ]
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:২২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×