somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা, প্রতিপক্ষ এবং দায় এড়ানোর খেলায় ব্যস্ত থাকা। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা সৃষ্টি করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সরাসরি মানুষের রান্নাঘর, পরিবহন ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর আঘাত হানে। যখন একটি পরিবার মাসের হিসাব মেলাতে হিমশিম খায়, তখন নীতিনির্ধারকদের উচিত ছিল ব্যাখ্যা দেওয়া—কেন দাম বাড়ানো হলো, কী বিকল্প ছিল, এবং জনগণকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখি সিদ্ধান্ত আসে, ব্যাখ্যা আসে না; বোঝা চাপানো হয়, দায় নেওয়া হয় না।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া প্রকল্প, মজুদনীতি, অবকাঠামো কিংবা প্রশাসনিক প্রস্তুতি যদি আজও দেশকে সহায়তা করে, তবে সেটি স্বীকার করতে লজ্জার কিছু নেই। একইভাবে আগের সরকারের ভুল থাকলে তা-ও তথ্যসহ বলা উচিত। কিন্তু আমাদের রাজনীতিতে সত্যকে স্বীকার করার সংস্কৃতি দুর্বল। এখানে কৃতিত্ব নিতে সবাই আগ্রহী, কিন্তু সংকটের দায় নিতে কেউ প্রস্তুত নয়।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাস্তব নীতির মধ্যে ফারাক। জনসভায় কঠোর ভাষণ দেওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবে সেই একই দেশের জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি বা সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হলে কূটনৈতিক সততা প্রয়োজন। জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তারা বুঝতে পারে কে নীতির কথা বলছে, আর কে শুধু আবেগ উসকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।

বর্তমান সংসদীয় সংস্কৃতিও প্রশ্নের মুখে। সংসদ যদি জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্র না হয়ে কেবল বাকবিতণ্ডা, প্রতিপক্ষ দোষারোপ এবং তাত্ত্বিক বিতর্কের মঞ্চে পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, স্বাস্থ্যখাতে উদ্বেগ বাড়ছে, শিশুদের টিকা কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বেকারত্ব বাড়ছে- এসব বিষয়ে স্পষ্ট নীতি, সময়সীমা এবং জবাবদিহিতা কোথায়?

একটি সভ্য রাষ্ট্রে শিশু মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য সংকট বা খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন কখনোই দলীয় বিষয় হতে পারে না। ক্ষমতায় কে আছে, বিরোধী দলে কে আছে—এসবের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় দেখা যায়, একই ঘটনা ভিন্ন সরকারের সময়ে ভিন্নভাবে বিচার করা হয়। এটি নৈতিক দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ক্ষতিকর।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনগণের আস্থা ক্ষয় হওয়া। মানুষ যখন দেখে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি একদিকে, বাস্তবতা অন্যদিকে; ভাষণে উন্নয়ন, জীবনে দুর্ভোগ- তখন তারা রাজনীতির ওপর বিশ্বাস হারায়। এই অবিশ্বাস কোনো সরকারের জন্যই শুভ নয়।

এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক পরিপক্বতার। দোষারোপের রাজনীতি নয়, সমাধানের রাজনীতি দরকার। সত্য গোপন নয়, সত্য স্বীকারের সাহস দরকার। প্রতিপক্ষকে শত্রু নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার মানসিকতা দরকার। এবং সবচেয়ে বেশি দরকার—জনগণকে শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে সম্মান করা।

রাষ্ট্র টিকে থাকে প্রচারণায় নয়, কার্যকর শাসনে। জনগণকে আর স্লোগান নয়, ফলাফল দেখাতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিটিভির আর্কাইভে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখা

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা সত্যিই পথ হারিয়েছি!

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১৭

আমরা সত্যিই পথ হারিয়েছি!
--------------------------------
আমরা যেন এক দূর্ভাগা জাতি দক্ষতা, জ্ঞান আর উন্নতির জন্য যেখানে আমাদের লড়াই করার কথা, সেখানে আমরা বারবার জড়িয়ে পড়ছি সস্তা রাজনীতির ফাঁদে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ আবারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×