somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার গণিত শিক্ষক শ্রদ্ধেয় “দিবানন্দ কুমার দাশ” যার অবদানে আমি গণিতে ডাবল জিরো থেকে লেটার মার্কস

০৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত দুইটা বিষয় ছিল আমার কাছে চরম আতংকের নাম। একটা ইংরেজি অপরটা হল গণিত। ইংরেজিতে তো কোনমতে ১০/২০ তুলতে পারতাম, কিন্তু গণিতে তো আর কোনমতে কিছু হয় না সুতরাং প্রত্যেক পরীক্ষায়ই গণিতে আমার প্রাপ্ত নাম্বার ছিল ডাবল জিরো। এই অবস্থা চলছিল ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা পর্যন্ত। আশা ছিল এই দুটি বিষয়ে বাদে বাকি বিষয়গুলোতে পাশ করে যথারীতি দ্বিতীয় বিবেচনায় দশম শ্রেণীতে উর্ত্তীন হব। আশা বিফলে যায়নি, দ্বিতীয় বিবেচনা’য়ই দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। আমাদের সময় এক বিষয়ে ফেল করলে ‘প্রথম বিবেচনা’, দুই বিষয়ে ফেল করলে ‘দ্বিতীয় বিবেচনা’, তিন বিষয়ে ফেল করলে ‘তৃতীয় বিবেচনা’ আর চার বা ততোধিক বিষয়ে ফেল করলে ‘বিশেষ বিবেচনা’র ব্যবস্থা ছিল। আর আমরা ক’জন ফ্রেন্ড ছিলাম এই বিবেচনা’র সুবিধা ভোগি।


[ছবি : স্যারের ফেইসবুক পেইজ থেকে]
দশম শ্রেণীর শুরুতে পেলাম দিবানন্দ স্যারকে আমাদের গণিতের শিক্ষক হিসেবে। পাল্টে যেতে থাকল আমার গণিত ভীতির হিসেব নিকাশ। আস্তে আস্তে পাটিগণিত আর বিজগণিত আয়ত্বে আসতে শুরু হল, ক্লাসের খাতায় ‘০’ শুণ্যের বদলে কিছু নাম্বার বসতে শুরু করল।কঠিন মগজের মত উপপাদ্য আর সম্পাদ্য ও সহজ মনে হতে লাগল। শুরু হল আমার গণিত ভালোবাসা।পাশাপাশি সব বই এর নিচে রাখা ইংরেজি বইটাও তুলে আনলাম গণিতের পরই। দশম শ্রেণীর প্রি-টেষ্ট পরীক্ষায় বুঝতে পারলাম কিছু একটা হবে।পরীক্ষার রেজাল্ট বের হবার পর অভ্যাসবশত নিচ থেকে আমার নাম খোজা শুরু করলাম, লিষ্টের নির্ধারিত জায়গা পর্যন্ত আমার নাম দেখতে না পেয়ে বুজলাম কম দিনের অভ্যাসে হয়তো সরল অংকের ফলাফল মিচিং হইছে।সম্পাদ্যের জায়গা উপপাদ্যের সূত্র মিলিয়ে দিয়েছি।কিন্তু ঘাড় ঘুড়িয়ে যখন লিষ্টের উপরের দিকে তাকালাম, রেজাল্ট দেখে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, আমি বিবেচনা মুক্ত হয়ে গেছি।এইবারই প্রথম কোন প্রকার বিশেষ বিবেচনার সুবিধা না নিয়ে সকল শিক্ষকদের সহযোগিতায় ও দোয়ায় একেবারে ক্রমিক নং- (২) দুইয়ে পৌছে গেছি।স্যারেরাও বিশ্বাস করতে পারছিলেন কি না জানি না তবে সবচেয়ে বেশী খুশি হয়েছিলেন মনে হয় শ্রদ্ধেয় তছর আলী স্যার, আশিক স্যার, রাধিকা স্যার ও কৃপেশ স্যার। কারণ উনারাই ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজীর ক্লাসে আমাকে মানুষ করতে উনাদের হাতের অক্লান্ত বিয়াম করতে হয়েছিল প্রতিনিয়ত। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নি:স্বার্থ শিক্ষাদানের কল্যাণে শুরু হল এস.এস.সি ফাইনাল পরীক্ষা দেবার স্বপ্ন । প্রি-টেষ্ট পরীক্ষার পর কিছুদিন স্কুল বন্ধ ছিল, এই সুযোগে ভর্তি হলাম দিবানন্দ স্যার এর কাছে গণিত প্রাইভেট পড়তে। আমার এখন মনে হইতেছে দিবানন্দ স্যার এর হাতে মনে হয় গণিতের একটা আলাদিনের চেরাগ আছে। ঘষা দিলেই সকল অংকের সহজ নিয়ম বের হয়। স্যারের কাছে মাত্র এক মাস প্রাইভেট পড়াকালিন সময়ের মধ্যেই গণিত বই আমার কাছে মাসী-খালার মত পরিচিত হয়ে গেল (বি:দ্র: প্রাইভেট পড়া বলতে এ যামানার প্রাইভেট নয়, আমাদের প্রাইভেট ছিল স্যারের নিজ বাড়ীতে নূন্যতম সম্মানীতে, অনেক সময় সম্পূর্ণ ফ্রিতে)।

এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হল। গণিতে লেটার মার্কস সহ উত্তীর্ণ হলাম। মার্কসীট দেখে পরে জানতে পেরেছিলাম সে বছর এস.এস.সি ফাইনাল পরীক্ষায় আমাদের রৌয়াইল হাই স্কুল থেকে আমিই মনে হয় গণিতে সবচেয়ে বেশী মার্ক পেয়েছিলাম। এই লেটার মার্কের পুরো অবদানই ছিল শ্রদ্ধেয় দিবানন্দ স্যার এর। স্যার আপনাকে খুব বেশি মিস করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×