somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর সংসারের মালিকানা

২১ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারীদের সমান সম্পত্তি লাভের আলাপে যে সবসময়েই কেবল পিতার সম্পত্তিতে ভাইয়ের সমান অধিকার বুঝানো হয়, বিষয়টা কি গোলমেলে লাগে না? পিতার বাড়িতে থাকা অবস্থায় নারীরা মোটাদাগে সম্পদ সৃষ্টিতে সাধারণত তেমন কোন কাজ করে না।বাবা-মায়ের সাথে থাকবার সময় বরং, তাঁরা তাঁদের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সম্পদ, খাটাখাটুনী, এনার্জি, মনোযোগ মেয়েদের জন্যে খরচ করেন।এমনকি আমাদের গ্রামে দরিদ্র পরিবারেও আমি মেয়েদের ছাড় দিতে দেখেছি।অনেক বাড়িতে মেয়েদের দিয়ে মা সংসারের কাজ করান না, এই বলে যে, তাকে নিজের সংসারে অনেক খাটনির দিন সামনে পড়ে আছে, মা যদিও কিছু সাহায্য প্রত্যাশা করেন, বাবারা মেয়েদের নিজের কাজে না লাগিয়ে বরং আরও সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করেন।ভবিষ্যতের কষ্টের কথা চিন্তা করে তাদের অনেকটা বিশ্রামে রাখা হয়।এই অতি সম্প্রতি, মাত্র কয়েক দশক বড় জোর, হয়তো চাকরী করা মেয়েরা তার বেতনের কিছু টাকা মা-বাবার জন্যে ব্যয় করবার সুযোগ পাচ্ছে।কিন্তু, সেটাও ঠিক সামাজিক নরমেটিভ প্রত্যাশা নয়, এটাকে সমাজে এখনও মোটামুটি নেতিবাচক হিসাবে দেখানো হয়।মেয়েদের লেখাপড়া শেখাতেও আজকাল ভাল টাকা পয়সা খরচ করা হচ্ছে। আমার নিজের দেখা অনেক পরিবার মেয়েদের সমান সম্পত্তি দিতে ছেলের আগেই লিখে দিচ্ছেন, ছেলে পাবে মৃত্যুর পরে।অথচ, এই বাবামায়ের রোগে-শোকে, বৃদ্ধ অবস্থায় তাদের সময় দেয়া, দেখাশোনা, প্রয়োজনে টাকা পয়সা যোগানোর দায়িত্বও মেয়েরা ঠিক পুরোপুরি নিতে পারে না।কেন? তার সময় কেড়ে নেয় আরেক গৃহস্থালি।

প্র্যাকটিকালি, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পূর্ণশক্তি যেখানে ব্যয় হয়, পরিশ্রমের মূল সময়টা যেখানে নরমেটিভ ভাবে কাটে সেটা হল, নতুন যে সংসারে সে প্রবেশ করে, সেটাই তার মূল কর্মক্ষেত্র। সেখানে তার ৭ দিনের ২৪ ঘণ্টার খাটুনী, সময়, এনার্জি, দক্ষতা দিয়ে একটি গৃহস্থালি গঠন করতে হয়, যেটা অনেকটা জাহাজের ঘাঁটির মত, যেখান থেকে নৌকাগুলো ছেড়ে যায় বিভিন্ন ব্যবসা করে নতুন সম্পদ নিয়ে ফেরার জন্যে।এই গৃহস্থালিগুলো সমাজ ও অর্থনীতির ফাউনণ্ডেশন রচনা করে।অথচ, এই সম্পদে নারীর হক নিয়ে কেউ কোন আলাপ তোলে না।

পৃথিবীর কোন ইকোনমি গৃহস্থালির পাটাতন ছাড়া চলতে পারে না। পুঁজিবাদী ইকনমি এই গৃহস্থালির গুরুত্বকে অদৃশ্য করে রাখে।ফলে মেয়েদের কাজের মূল জায়গাটাও অদৃশ্য হয়ে যায়।পুঁজির মালিক পুরুষের কাজগুলোকে তাও বেতন দিয়ে মূল্য দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু মেয়েদের নরমেটিভ কাজকে তারা ফ্রি ভোগ করে। আবার মেয়েদের শ্রম, বুদ্ধি, সৌন্দর্য, যৌনতা, মাতৃত্ব - সবকিছুকে সের দরে বেচার হাজারো ফন্দী বের করতে থাকে। মেয়েদের ডিসপজেসড করবার, বঞ্চিত করবার এই এক ভয়ংকর দুষ্ট চক্র। কয়েকশত বছর আগেও কৃষক সমাজে ঘর-গৃহস্থালি জীবনের কেন্দ্র ছিল বলে মেয়েদের কাজও ছিল সমাজের কাছে মূল্যবান। এখন যে আধুনিক নগরসমাজ, সেখানে, যাকে এখন বলেন হাউজহোল্ড, এই অতীব প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানটাকে অদৃশ্য এবং গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়েছে, নারী ও শিশুরা এর মর্মান্তিক ভুক্তভোগী।পুরুষেরাও ভুক্তভোগী, কিন্তু নারী ও শিশুদের প্রয়োজনগুলো একেবারে চরমভাবে গায়েব করে দেয়া হয়েছে।শতশত বছর ধরে টিকে থাকা জোয়ান-বুড়া সবার শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, আবেগিক, আধ্যাত্মিক বিশ্রাম ও আশ্রয় লাভের কাঠামো হয়ে দুর্গঘাঁটির মত ঘরগুলো আর টিকে থাকতে পারল না।এখন নারী তথাকথিত স্বাধীনতার জন্যে সম্পূর্ণ শ্রমবাজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।কর্পোরেশনের কর্তা এখন তার হর্তাকর্তা, বিধাতা বনেছে। চাকরী কিভাবে স্বাধীনতা হয়, এটা কখনও ভেবে দেখছেন? চাকরী কি এক ধরনের অধীনতা নয়? স্বাধীন চিন্তা ও বিবেক সম্পন্ন কোন লিবারেটেড মানুষের কি বেতনের জন্যে মরাল-এথিকাল বিবেচনাবর্জিত মুনাফালোভী পুঁজিপতিদের অধীনে চাকরী করার কথা? একশো বছর আগের সাহিত্যেও দেখবেন, ছেলেদের চাকরী করাকেও গোলামী বলা হত। যাদের কোন সহায়-সম্বল আছে, তারা চাকরীতে সহজে ভিড়তে চাইত না। অথচ কি আশ্চর্য এই যুগের মধ্যবিত্ত্বেরা চাকরীকে স্বাধীনতা বলে ভাবে ও প্রচার করে! ফলে নারীর স্বাধীনতা মানে দাঁড়াচ্ছে, বেশীর ভাগ সময়ে নিজের খাইখোরাকি নিজের পরিশ্রমে নিজেকে যোগাড় করে নেয়া, যেটা আদৌ তার টু ডু লিস্টে ছিল না, আবার, যেখানে তার জন্যে আগের ট্র্যাডিশনাল কেয়ার ওয়ার্ক এবং ভূমিকাগুলোর বোঝা এতটুকু নড়চড় হয় নাই।স্বাধীনতা তো দূর কি বাত, ওয়ার্ক- লাইফ ব্যালেন্স করতে গিয়ে মেয়েরা এখন ডাবল বোঝায় জেরবার।মেয়েদের যেখানে জীবনের মূল পরিশ্রমটা ঢালতে হয়, তার সারা জীবনের সমস্ত শক্তি যেখানে বিনিয়োগ করে, সেখানে যে সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে নারীর হক, মালিকানা, অধিকার নিয়ে এ যাবৎকালে কোন আলাপ আমার চোখে পড়ে নাই।

এপ্রিল ২১, ২০২৪
রবিবার উইস্কন্সিন

এপ্রিল ২১, ২০২৪
রবিবার উইস্কন্সিন
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৫:৩০
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরে দেখা - ২৭ মে

লিখেছেন জোবাইর, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ৯:০৪

২৭ মে, ২০১৩


ইন্টারপোলে পরোয়ানা
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বেনজীর আহমেদ ও আমাদের পুলিশ প্রশাসন

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে মে, ২০২৪ রাত ৯:৪২



বৃষ্টিস্নাত এই সন্ধ্যায় ব্লগে যদি একবার লগইন না করি তাহলে তা যেন এক অপরাধের পর্যায়েই পরবে, যেহেতু দীর্ঘদিন পর এই স্বস্তির বৃষ্টির কারণে আমার আজ সারাদিন মাটি হয়েছে তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

**অপূরণীয় যোগাযোগ*

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ২৮ শে মে, ২০২৪ ভোর ৫:১৯

তাদের সম্পর্কটা শুরু হয়েছিল ৬ বছর আগে, হঠাৎ করেই। প্রথমে ছিল শুধু বন্ধুত্ব, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা গভীর হয়ে উঠেছিল। সে ডিভোর্সি ছিল, এবং তার জীবনের অনেক কষ্ট ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজার যুদ্ধ কতদিন চলবে?

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৮ শে মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার আগে মহাবিপদে ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু৷ এক বছর ধরে ইসরায়েলিরা তার পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন৷ আন্দোলনে তার সরকারের অবস্থা টালমাটাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রায় ১০ বছর পর হাতে নিলাম কলম

লিখেছেন হিমচরি, ২৮ শে মে, ২০২৪ দুপুর ১:৩১

জুলাই ২০১৪ সালে লাস্ট ব্লগ লিখেছিলাম!
প্রায় ১০ বছর পর আজ আপনাদের মাঝে আবার যোগ দিলাম। খুব মিস করেছি, এই সামুকে!! ইতিমধ্যে অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়েছে! আশা করি, সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×