somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ৩২ বছর

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩২ বছর আগে ১৯৯২ সালেই এই দিনে (ডিসেম্বর ৬)বিজেপির প্রচারণায়, শোভাযাত্রায় ও নেতৃত্বে উন্মত্ত আরএসএস, শিবসেনা এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে। গত বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল জাঁকজমক ও অর্থব্যয় করে বাবরী মসজিদের সাইটেই নির্মিত রাম মন্দির উদ্বোধন করা হয়েছে।কঠোর সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, অবিচল নীতিনিষ্ঠ, এবং শান্তি স্থাপনকারী অকুতোভয় যোদ্ধা হিসাবে রামচরিত্র ভারতীয় সমাজে আদরণীয়।রামায়ণ, রামের চরিত, রাবণের বিরুদ্ধে রামের রোমাঞ্চকর সিংহল অভিযান গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক বৃহৎ মানস-সম্পদ।কেবল পাক-ভারত-বাংলাদেশেরই নয়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া পর্যন্ত এই মিথোলজির অগণিত ভার্সন পাওয়া যায়।গ্রাম থেকে গ্রামে রামায়ণ এক নয়, বহুভাবে বর্ণিত, গীত, মঞ্চস্থ ও পরিবেশিত হয়ে আসছে। ঠিক কখন থেকে রামায়ণের শুরু ঐতিহাসিক ভাবে বলা মুস্কিল।রামায়ণ ও মহাভারত এপিক বা মিথোলজি হিসাবে সেকুলার ইন্দোলজিস্টরা পাঠ করেন, রাম সেই হিসাবে ঐতিহাসিক চরিত্র বলে সাব্যাস্ত নয়।আধুনিক জমানায় রামের এক রকম পুনরাবিষ্কার ঘটে ভারতীয় টিভি চ্যানেল দূরদর্শনে ১৯৮৭-৮৮ সালে প্রচারিত সিরিয়ালের মাধ্যমে।এই হিসাব মেলানো বড়ই কঠিন যে, কিভাবে বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্য-প্রমাণ দেবতা রামের জন্মভূমি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়েছে।বিজ্ঞান দেবদেবীর অস্তিত্ব, জন্ম-মৃত্যু প্রমাণ করতে পারেন কিনা, বিজ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন করা যায়।উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় ষোড়শ শতকের গোড়ায় মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি কর্তৃক নির্মিত মসজিদের নীচে হিন্দু দেবতা রামের জন্মস্থান নির্ণয়ের জন্যে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ক্যানিংহামের অনুসন্ধানকে ফলো করে কলোনিয়াল আর্কিওলজির টুলস অ্যান্ড টেকনিক ব্যাবহার করে সাক্ষ্য প্রস্তুত করা হয়েছে।আধুনিক ভারতের জুডিশিয়ারি আর্কিওলজির সেই সাক্ষ্য গ্রহণ করে র‍্যাশনাল যুক্তিতর্ক প্রয়োগ করে বাবরী মসজিদের সাইটেই দেবতা রামের জন্মভূমি স্মারক প্রাগৈতিহাসিক মন্দিরের অস্তিত্বকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন।সেই ২.৩৩ একর জমির উপরই নতুন করে রাম মন্দির নির্মাণ অনুমোদন করেছে, যেটি বিপুল ধনসম্পদ ব্যয় করে সাড়ম্বরে গত বছর উদ্বোধন করা হল।বাবরী মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড পৃথক জায়গায় মসজিদ নির্মাণের জন্যে জমি বরাদ্দ পেলেও সেই মসজিদের নির্মাণ অগ্রগতি আমাদের জানা নেই।রামজন্মভূমি আন্দোলন নামে একটি ধর্মীয় পুনঃজাগরন আন্দোলন একটা সুদীর্ঘ সময় ধরে "আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি" প্রয়োগ করে সত্যের সাথে কল্পনা, মীথের সাথে ইতিহাসকে গুলিয়ে দেবতার জন্মস্থান নির্ধারণ করে।ধর্ম ও বিজ্ঞানের জুটিবদ্ধ একই ধরণের মডেলে গোটা ভারতের আরও বহু মসজিদের নীচে মন্দির আবিষ্কার শুরু হয়েছে যার সর্ব শেষ উদাহরণ হল খাজা মইনুদ্দীন চিশতী (রহঃ)এর দরগাহ আজমীর শরীফ।ভারত জুড়ে মসজিদ ও দরগার নীচে মন্দির আবিষ্কার করে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের মডেলে আগামীতে কি হতে যাচ্ছে, তা অনুমান করা কঠিন কি? আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার হর্তাকর্তারা তাদের বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞতা এবং তাদের বিরাট তহবিল বরাদ্দ দিয়ে একের পর এক মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করবার একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অনন্ত সহিংসতার ফাঁদ তৈরি করেছেন, যার থেকে উত্তরণের রাস্তা আমাদের অবশ্যই খুঁজে নিতে হবে।

ডিসেম্বর ৬, ২০২৪

P/C: Babri Masjid at the top of the hill, seen from the Ghaghara River in 1783, drawn by William Hodges

#BabriMasjidDemolition
#BabriMasjid
#সায়েমারলেখা



সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৪ সকাল ১১:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×