
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক একটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যেখানে দেখানো হয়েছে যে দক্ষিন এশিয়ার অর্ধেক মানুষ জলবায়ুগত কারণে সবচেয়ে ঝুকির মধ্যে রয়েছে মূলত দুটি কারনে। একটি হচ্ছে অত্যাধিক তাপমাত্রা ও আর একটি হচ্ছে শুষ্কতা বা মরুকরণ। প্রায় ৮০ কোটি লোক ২০৫০ সালের মধ্যে মধ্যম মাণের ঝুকি থেকে চড়ম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। এই অঞ্চগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মরুকরণের সাথে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃষ্টিপাত কমতে থাকে এবং তাতে যা ক্ষতি হয় ত প্রায় জিডিপির শতকরা ২.৮ ভাগ। এভাবে কমতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি দুইজনে একজনের জীবনমাণ নেমে যাবে চড়ম দরিদ্র সীমার নীচে। এর মদ্ধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশের সেইসব ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের লোকেরা এবং এক্ষেত্রে তাদের ক্ষতির সম্ভবনা প্রায় জিডিপির প্রায় শতকরা ১.৪ ভাগ।
তথ্য সূত্র: Half of South Asia living in vulnerable climate hotspots: World Bank

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে যে কারণটা সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে কার্বন বা জীবাস্ম জ্বালানী বা সোজা কথায় তেল পোড়ানো। এই তেল পোড়ানোর উপর বিশ্ব ব্যাংকের একটা রিপোর্ট আছে। বাংলাদেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ১২২২ জন (২০১৪) এর তথ্য অনুযায়ী। তার মানে একজনের জন্য বরাদ্ধ ৮৮০৮ বর্গফুট, ১২ কাঠা বা ২০ শতাংস জায়গা। ওয়ার্লড ব্যাংকের Energy use (kg of oil equivalent per capita) হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৩ তে জনপ্রতি বছরে ২১৬ কেজি মানে দিনে ০.৫৯ কেজি মানে প্রতি বর্গকিমিতে ৭২৩ কেজি তেল পোড়ানো হয় যা আগামী পাচ বা দশ বছরে দ্বীগুন হবে। দেশের প্রতি বর্গকিমিতে (জাতীয় সংসদ ভবন এর মূল এলাকাটা প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার) যদি প্রতিদিন ৭২৩কেজি তেল এবং ভবিষ্যতে ১৪৪৬ কেজি বা প্রায় দড় টন তেল পুড়ে সে দেশের জলবায়ু কিভাবে স্বাভাবিক থাকবে আমার মাথায় আসে না। দেশ তো পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে, এখনিতো শীতকাল উধাও হয়ে গেছে বাংলাদেশ থেকে আর কিছুদিন পর মরুভূমি দেখতে পাব। ব্যাপারটা যে কত ভয়াবহ হবে তা হয়ত কেউ আনদাজ করতে পারছে না।
তথ্য সূত্র: Energy use (kg of oil equivalent per capita)
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




