somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সান্তনার ছল

১০ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। আমার কোন গল্পই নেই

আমার কোন গল্পই নেই। আবার বলি আছে। গল্পের কথা বলতে গেলে পুরনো হারমোনিকা বাজে। আমার কোন গল্পই নেই। শোনাবো কি। ভেবেই পাইনে। সাত সকালে উঠি। দাঁত মাজি। আয়নায় কাত হয়ে ফিটফাট বাবু সাজি। আফিসে দৌঁড়াই। ফিরে আসি ঘামের জলে স্নান করে। ছুটির দিনে দাঁতের তলে মুড়ি চিবাই। রিমোট ঘুরাই। টিভি দেখি। অথবা সময় পার করি। ভূড়ির ভাঁজে চর্বির পরত গুনি। রাত ভারী হয়। আয়নায় চোখ বুলাই। চোখের কোলে বয়সের ছাপ মাপি। আটপৌরে জীবনের খাটে বন্দী হয়ে ঘুমিয়ে পরি।


২। অকাজে

দৃশ্যের পর দৃশ্য রাস্তার পর রাস্তা
মাথার পর মাথা বাড়ির পর বাড়ি
নর-নারী মিলে জগতের কান্ডারী
চলছে ভালই কেউ দমে নেই।

কাজ করো খাও ঘুমাও বিনোদন করো
বংশ বৃদ্ধি করো উঠো দৌঁড়াও
এত কিছুর মাঝে একলা একলা ভাবো
নশ্বর অনশ্বর নিয়ে তোলপাড় করো।

আমার ভাবতে ভাল লাগে না
খেতে ভাল লাগে না ঘুমাতেও না
তবে কি আমি মানুষ নই
মানুষ নামের অমানুষ কেউ।

বিধি মানুষ করেই যদি সৃষ্টি করলে
অকাজে ফেলে রাখলে কেন!


৩। তীর

লক্ষ্যভেদী তীর উল্কার গতিতে ছুটছে
পৃথিবী অন্তরীক্ষ ভেদ করে দূর্নিরীক্ষে
উল্কা পতনে ছন্নছাড়া দৃশ্যান্তর
দৃশ্য আবার খাট পালঙ্কে কার্নিশ দেয়াল
ঘড়ির কাটায় তছনছ সময়
হাতের মুঠোয় বাহুতে
আয়ুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে জঙ্ঘায় জানুতে
ছাদের তলায় কেদারায় কাপ পিরিচে
চায়ের বাস্পের প্রতিটি কণায়।

এ তীর এমন এক ছিলায় ভর করে আছে
ছুটে চলে প্রতি পলে পলে
জলের ঢেউ যেমন সাগর তলে
ঘুমিয়ে গেলে এক পলকে নীল হ্রদ।


৪। নেমেছি অসীমে

ছেড়ে যাচ্ছি পথ, নেমেছি অসীমে
কাল ছিলাম পথে আজ একা অন্ধকারে হাঁটছি
নির্জন প্রান্তরে আনমনে বিষণ্ণ গগনে
হিসেবের পাতায় নেই কোন লাভ-লোকসান
জমা খরচ মিটিয়ে চলে যাচ্ছি।

ভাল লাগে একা চলা সবুজ নির্বিঘ্ন মাঠ
তাই চলছি। তোমরা থাকো আদর আপ্যায়নে
সজনে দশজনে মিলেমিশে রীতিতে নীতিতে
হেসে খেলে হেলে দুলে
আমি নির্ঝঞ্ঝাট পথে চললাম।


৫। নেই ব্যাকুলতা

এ ব্যাকুলতা হারালো কোথায়
অপেক্ষায় রাত জাগা
ঘুমঘোরে স্বপ্নের লেবুপাতা
সুগন্ধী মাতোয়ারা দরদী দীঘল
ব্যাকুল করেনা অপেক্ষা
নেই আজ ঘড়ির কাটা
নেই নেই ব্যাকুলতা।


৬। সান্তনার ছল

অতনু বাহক বসে আছে
কোন টেলিগ্রাম নেই
ভালমন্দ কোন খোঁজ খবর নেই
আমি প্রেরকের অপারগতার চেয়ে
বাহকের মুখভঙ্গীতেই তুষ্ট হই
অন্তত সান্তনার একটা
ভাষা খুঁজে পাওয়া যায়
মুখপাঙ্গের অচল সমীকরণে
তৃপ্ত ছলনার ঢেউ খেলে যায়
তা থেকেই অনুমান কার্যসিদ্ধ হয়।

আর তো কোন ব্যতিক্রম অবশিষ্ট নেই
তাই সেটাই বা কম কিসে!


৭। সুখ পাখিটা

একটা কালসাপ
ফণা তুলে উদ্ধত
জমিন থেকে আসমানের দিকে
তেঁড়ে আসছে
আমার আকাশ নীড়ের
সুখ পাখিটার সুখ রইলো না বুঝি।

যে আশায় নীড় বেঁধেছিল পাখি
সেখানে আজ কাল নাগিনীর হাঁকাহাঁকি।


৮। দুর্ভাগা সন্তান

কেউ জন্মে পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে
জন্মে পাপ জনমভর পাপ
জন্মান্তরেও পাপ।

ইচ্ছে ছিল ললাটের মলাট খুলে
পিতা ও পিতামহের
পাপের চিহ্ন মুছে ফেলবো
বিধি হলেন বাম
তাই শূন্য মনস্কাম
সবাই মিলে হলাম দুর্গত
পুড়লো ভাগ্য পুড়লো জাহান
আমার দুর্ভাগা সন্তান।


৯। ভাসাও তরী

আসতে চাও আসো
কিছু বলবো না
টেনে নিবো গহীনে
সাইক্লোন যেমন টানে বন্দর
ভাসতে চাও ভাসো
এই নাও দিলাম পাল তুলে
সাত সাগর ছাড়িয়ে
আমি দু'হাত উজার করে
অপেক্ষায় থাকবো কূলে
তুমি ভাসাও ময়ূরপঙ্খী।

এক তোমাকেই ভালবেসেছি
আমার লক্ষ্য ও গন্তব্য একটাই
সে তুমি!
তোমার গন্তব্য কি
নই আমি
যদি বলো হ্যা
ভাসাও তরী খানি।


পাদটীকা: এই কোবতেগুলোর মিনিমাম বয়স ২ বছর। ড্রাফটে অযত্নে পরে আছে। ড্রাফট খালি করার প্রচেষ্ঠায় তুলে দিলাম আরকি। :/
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:৫৪
৩২টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×