মালয়েশিয়ার প্রচলিত গল্প- ৫
সোনালী সূঁচ রাজকন্যা এবং কালিঙ্গার রাজা।
অনেক দিন আগে সোনালী সূঁচ রাজকন্যা নামে এক রাজকন্যা ছিলেন। তাঁর পিতা সুলতান মাওলানা ছিলেন ইন্দেরা পাঞ্চালার রাজা।
রাজকুমারী যেমন ছিলেন সুন্দরী তেমনি ছিলেন চালাক চতুর। অনেক রাজ কুমারই তার প্রেমে পড়েছিল। এমনকি কলিঙ্গার রাজা তাঁর পাণি গ্রহণ করতে চাইলেন। কিন্তু রাজকুমারী তাকে ফিরিয়ে দিলেন। ফলশ্রুতিতে, কলিঙ্গার রাজা খুবই রেগে গেলেন।
কলিঙ্গার রাজা তাঁর দূতকে সুলতান মাওলানার কাছে সতর্ক বার্তা দিয়ে পাঠালেন এই বলে যে, রাজকুমারী যদি তাকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে তিনি ইন্দেরা পাঞ্চালা রাজ্য আক্রমণ করবেন।
এই বার্তা পেয়ে রাজা ও রাণী খুব ভেঙ্গে পড়লেন। তারা রাজকুমারীকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমরা এখন কি করবো”?
“ চিন্তা করো না , বাবা ও মা। আমি তাকে তাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা করছি”।
রাজকুমারী তখন দূতকে বললেন, আপনি কলিঙ্গার রাজাকে বলবেন আমি তাকেঁ বিয়ে করতে রাজি আছি। কিন্তু আমার কিছু শর্ত আছে। প্রথম শর্ত, তিনি আমার জন্য দশ বাক্স স্বর্ণের সূচঁ আনবেন। পরবর্তীতে তিনি অবশ্যই মহাসাগরের মাঝে জাহাজে অপেক্ষা করবেন যতক্ষণ না প্রাসাদে সূচগুলো গণনা শেষ না হয়।
শিগগিরই রাজার দশ বাক্স সোনালী সূঁচ নিয়ে এসে হাজির হলো। সেগুলোকে গণনা করার জন্য প্রাসাদের ভেতর নিয়ে যাওয়া হলো।
দুই সপ্তাহেও রাজার কর্মচারীরা সূঁচগুলো গণনা শেষ করতে পারলো না। কলিঙ্গার রাজা অস্থির হয়ে পড়লেন । তিনি আর অপেক্ষা করতে পারলেন না। তিনি নাবিকদেরকে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে জাহাজ চালাতে আদেশ করলেন।
যখন রাজা কুমারীর বাবা-মা দেখলেন দুষ্ট রাজার জাহাজ পাল তুলে চলে যাচ্ছে তখন তারা আনন্দে হেসে উঠলেন।
“মা মনি, তুমি কালিঙ্গার রাজাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছ”। সুলতান মাওলানা গর্বের সাথে বলে উঠলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



