
কুয়ালালামপুরে আমাদের বাসার উল্টা দিকের ঠিক নীচের বাসায় এক মালয়েশিয়ান ভদ্রমহিলা ( ২৬/২৭) থাকেন। উনার বেশ কয়েকটা বিড়াল আছে। বিড়ালগুলো দেখতে খুব সুনদ্র। সব চেয়ে সুন্দর বিড়ালটির নাম আবু।
এক দিন আমি যখন কাজ থেকে বাসায় ফিরছিলাম তখন নীচে উনার সাথে দেখা । আমাদের বাসার সামনে সারি সারি গাড়ী পার্ক করা। সেখানে কোন ছাউনি নেই। রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ীগুলো। আমাদের গরীব বাসায় কোন লিফট নেই বলে ৪ তলায় হেটেই উঠি।
বাসার দিকে এগুচ্ছি এমন সময় মহিলাটি সামনে এলেন। অনেক বিমর্ষ। কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে বললেনঃ তুমি কি আজ আবুকে দেখেছে? ওকে পাচ্ছি না।
আবু উনার বিড়ালের নাম।
আমি বললাম- কাল বিকেলে আমি যখন আমার বাচ্চাদের নিয়ে খেলতে নেমেছিলাম তখনও আবুকে দেখেছি। এখন কোথায় আর যাবে। আশে পাশেই আছে। ঠিক আছে আমি বিষয়টি মনে রাখব।
বিড়ালটি দেখতে খুব সুন্দর। ওটার সাথে আমার বাচ্চারও খেলে। তবে হারিয়ে যাবে এটা আমি ভাবতে পারছিলাম না। আমার খুব শংকা হচ্ছিল। কেননা, আমি প্রায়ই দেখতাম মহিলাটি বাসায় এসে গাড়ী থেকে নেমেই বিড়ালটিকে প্রথম কোলে নেয়। আজ বাসায় তাড়াতাড়ি ফিরে বিড়ালটিকে না পেয়ে বিমর্ষ হয়ে গেছে।
বাসায় এসে আমাদের বাচ্চাদেরকে বললাম- তোমরা কি জান, আবুকে পাওয়া যাচ্ছে না?
ওরা বলল- আবুর সাথে তো আমরা কাল খেলা করলাম কই যাবে। চল আমরা আবুকে খুঁজতে যাই।
ফে্রস হবার পর বাসায় প্রায় আধা ঘন্টা থেকে তার পর ওদেরকে নিয়ে নিচে নেমে গেলাম। ভদ্র মহিলা আমাকে দেখে ছুটে এলেন।
- জান, আমার আবুকে খুজে পেয়েছি।
- কোথায় ছিল সে?
- ওই যে গাছটা দেখছ সেই গাছে উঠে বসেছিল। গাছে উঠেছিল ঠিকই কিন্তু নামতে পারছিল না। আমি সব জায়গায় খুজেঁ শেষে গাছের নীচে দাড়িয়ে ওটার অবস্থান টের পাই। আমার খুব আনন্দ লাগছে।
- আমারও খুব আনন্দ লাগছে।
মালয়েশিয়ার মানুষ খুব বেড়াল পছন্দ করে। এরা বেড়ালকে খুব যত্ন করে। দোকান থেকে বেড়ালের খাবার কিনে দেয়। বিড়ালগুলো দোকানের খাবার ছাড়া অন্য খাবার খায় না। এরা খুব শান্ত শিষ্ট। শিশুদেরকে আচড় দেয় না। এমনকি ইদুর দেখলে ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

