ঈদুল আযহা উপলক্ষে অনেক জায়গাতেই “বিরাট গরু-ছাগলের হাট” শিরোনামের ব্যানার চোখে পরতেছে। ব্যানারে একপাশে একটা ছাগল অন্য পাশে একটা গরুর ছবি মুখমোখি দাঁড়ানো। আবার অনেকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবিও আছে। যাই হোক, এবার ফার্মগেট গিয়ে একটা ব্যানারে চোখ আটকে গেল। সবাই যেখানে “বিরাট গরু-ছাগলের হাট” লিখেছে, ওই ব্যানারে লেখা “গরু-ছাগলের বিরাট হাট”। অনেকে মনে করবেন তারা “Stand out from the crowd” মেথড অবলম্বন করে শিরোনামে বৈচিত্র আনতে চেয়েছে। ব্যাপারটা তা না।
ঢাকায় তখন প্রথম ভার্সিটি এডমিশন কোচিং করতে যাই। প্রতিদিন মিরপুর থেকে আসা যাওয়া করে ক্লাস করতাম। ফার্মগেট থেকে মিরপুরের বাস ধরতে পারা অনেকটা যুদ্ধ জয় করার মতই কঠিন ব্যাপার, তাও আবার বুশের বিরুদ্ধে।পথ দূরের হওয়ায় সিট পাওয়াটাও নিশ্চিত করতে হত। হুট করে এসে বাসে জোরাজুরি করে ঢোকা যেত, কিন্ত সিট পাওয়া অসম্ভব। সিট পেতে হলে খালি বাসের জন্য অপেক্ষা করা লাগত, সেটা কয়েক ঘন্টা পর্যন্তও। অপেক্ষার সময়টা আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ক্যানভাসারদের বকবকানি শুনে কিংবা ফুটওভার ব্রিজের উপর সেন্ডো গেঞ্জি দামাদামি করে কাটিয়ে দিতাম। ব্যাপার না।
বাসের ভিতরে প্রচন্ড গরম থাকায় দৃষ্টি সবসময় খোলা জানালা দিয়ে বাইরের দিকে থাকত। বাস থেকে প্রতিদিনই দেয়ালে লেখা একটা বিজ্ঞাপন দেখতাম - “সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হয়”। ওদের বিজ্ঞাপনগুলোর প্লেসমেন্ট ভাল ছিল, তাছাড়া আমার মত সবার দৃষ্টিই বাইরের দিকে থাকত কিনা, কোচিং ক্লাসে এই বিজ্ঞাপনটা অনেকবার আলোচনায় চলে আসে। আমাদের কোচিং এর কিছু টিচার বিজ্ঞাপনটা কিভাবে ভুল সেটা কৌতুকপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতেন। “তারা শুধু সুন্দর হাতওয়ালাদেরই লেখা শেখায়। যাদের হাত অসুন্দর তারা মুড়ি খাও… হে হে হে”। আ্মরাও খুব মজা পেতাম।পরের বছর দেখলাম লেখাগুলো পাল্টে “হাতের সুন্দর লেখা শেখানো হয়” হয়ে গেছে!
“সুন্দর হাতের লেখা”, “বিরাট গরু-ছাগলের হাট” কিংবা “খাঁটি গাভির দুধ” এগুলো হল Adjectival Phrase। ব্যকরণগতভাবে “খাঁটি গাভির দুধ” বলতে গাভির দুধটাকেই খাঁটি বুঝানো হয়, গাভিটাকে না। এখানে আমার জানামতে কোন ভুল নেই। উপরন্ত, “গরু-ছাগলের বিরাট হাট” থেকে “বিরাট গরু-ছাগলের হাট” ই ভাল শোনায়।যারা এগুলোকে চেঞ্জ করে বাংলা ভাষায় বিপ্লব আনতে চেয়েছিলেন, তাদের জন্য সমবেদনা।
(লেখাটি আমার ফেসবুকেও প্রকাশ করেছি)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

