নানা বাধা সত্ত্বেও গত ৬ বছরে (২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত) অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, রাজস্ব আয়, রফতানি আয়, রেমিটেন্স, রিজার্ভ, বাজেট বরাদ্দ, মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু, দারিদ্র্যের হার এবং অতি দারিদ্র্যের হারসহ আরও বিভিন্ন সূচকে সাফল্য এসেছে। গত ৬ বছরে অতিদারিদ্রের হার ২৪.২ থেকে কমে ১০.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এসময়কালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝেও অর্জিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি প্রশংসার দাবি রাখে। ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং দারিদ্র্যের হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। বিশ্বমন্দার মধ্যেও সরকারের বিচক্ষণ নীতি ও দক্ষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ মেয়াদকালে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে। অপরদিকে তার আগের পাঁচ বছরে সময়কালে প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, যা ২০১৪ সালে ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে জনগণের মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির ২৭ দশমিক আট শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক পাঁচ শতাংশে। ২০০৫-০৬ এর তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব ও কর রাজস্ব তিনগুনের অধিক বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। সেখান থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৬ হাজার ২২২ কোটি টাকা, যা চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। মুদ্রানীতি বরাবরই লক্ষ্য ছিল সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সফল হয়েছে। সরকারের দক্ষ আর্থিক ও রাজস্ব খাত ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৪ শতাংশের মধে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা প্রতিকূলতার সত্ত্বেও ২০০৫-০৬ এর তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমদানি এবং রফতানি উভয় ক্ষেত্রেই বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। ২০০৫-০৬ এর তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানি ও প্রবাস আয় বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গড়আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালাও-পোড়াও কখনও দেশে শান্তি বয়ে আনে না। একটি সুখি সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিরোধীদের হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও ও বাধা সত্ত্বেও সব সূচকে অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে সরকার
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন
মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....
“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

