
অপার সম্ভাবনাময় ও অফুরন্ত সম্পদের ভান্ডার বাংলাদেশর সমুদ্রসীমা। বাংলাদেশের আয়তন বাড়ছে। সাগরপ্রান্তে জমি উদ্ধারের ফলে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন নদীর মোহনায় যে চর পড়েছে তা সুপরিকল্পিতভাবে সুরক্ষা ও উদ্ধার করা হলে অন্তত ১৫ হাজার কিলোমিটার ভূমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। যেসব এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে চর জেগে উঠছে সে এলাকায় ক্রসবাঁধ বেঁধে ভূমি উদ্ধার এবং বনায়নের মাধ্যমে তা স্থায়ীকরণ সম্ভব হবে। নেদারল্যান্ডস এ পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ জমি সাগরপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করেছে। বাংলাদেশকেও তারা এ ব্যাপারে আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করছে। কক্সবাজার থেকে ৩০ কিলোমিটার সাগরের মধ্যে জেগে উঠেছে খণ্ড খণ্ড চর। সে চরে বেড়ে উঠছে সুন্দরবনের আদলে নতুন বন। বেড়ে উঠছে নতুন পর্যটন এলাকা। নতুন চর জাগছে আর সে চরে হচ্ছে বনায়ন। সাগরে কিছু ভেঙে যাচ্ছে আবার কিছু জমি জেগে উঠছে। ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠছে এ প্যারাবন। সুন্দরবনের মতোই এ বনের ভেতরে ছোট ছোট নদী। নদীর দু’পাশে জঙ্গল।
নতুন এ বাংলাদেশ হবে বন্য প্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য। সমুদ্রের মধ্যে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত চরের আয়তন বাড়ছে। নতুন চর জাগছে। যেখানেই চর জাগছে সেখানেই জন্মাচ্ছে নানা গাছ। জেগে উঠছে ম্যানগ্রোভ। কোথাও বন বিভাগের সহায়তায়, কোথাও প্রাকৃতিকভাবে। মহেশখালী, সোনাদিয়া, শাপলাপুর, বড় মহেশখালী, ঘটিভাঙা, বলঘাটা, খোয়ানট এলাকাজুড়ে এই বনভূমি। বনের পূর্ব দিকে প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুকেন্দ্র এবং কুহেলিকা নদী। উত্তরে উজানটিয়া নদী। পশ্চিম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। ভবিষ্যতের অপার সম্ভাবনার এই বন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিতে যেমন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশের দাবিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রজয়ে বাংলাদেশ ন্যায্যতার ভিত্তিতে ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক এলাকা ও তদূর্ধ্ব মহীসোপান এলাকা এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রজয়ে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটারের সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থিত গ্যাস ব্লকগুলোতে ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে আটটি ও মিয়ানমারের সঙ্গে ১৩টি তেল-গ্যাস ব্লক জিতেছে বাংলাদেশ। অর্জিত সমুদ্রসীমায় আনুমানিক ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) আর ভূসীমায় মজুদ রয়েছে ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বর্তমানে প্রতি বছর দেশে এক টিসিএফ গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের এ অঞ্চলে প্রাণিজ সম্পদের পাশাপাশি গ্যাস হাইড্রিড, জিরকন, ইলেমেনাইট, ম্যাগনেটাইটসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজ সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।বাংলাদেশের নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। নতুনভাবে
উদ্ধারকৃত সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস ও মৎস সম্পদ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।বঙ্গোপসাগর দেশের সার্বিক
সম্পদের একটি বিশাল উৎস। এই সমুদ্র সীমানার মধ্যে শুধু বিপুল মৎস ভাণ্ডার নয়, রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারও। বিশেষ গঠন-প্রকৃতির কারণেই তেল-গ্যাসসহ নানা খনিজ সম্পদ সঞ্চিত রয়েছে এই সাগরের তলদেশে। সকল সম্ভাবনাকে সর্বতোভাবে কাজে লাগানোই বর্তমান সরকারের আসল লক্ষ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৩:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




