somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেজুতি_শিপু
একজন অস্থির মানুষ। বৈপরীত্যকে লালন করি নিজের ভিতরে । সময়ের ধুলোবালি দৃষ্টিকে ঝাপসা করে- তবু চোখ মেলে চেয়ে থাকি নির্বিকার। অন্তরাত্মা চিতকার করে তবু শান্ত ভাবে হেঁটে চলি -যেন অন্যকারো চলা । উচ্চারিত কথামালা-সে ও যেন অন্য কারো বলা।

AI কি মানুষের বাস্তবতাবোধ বদলে দিচ্ছে? তবুও ভরসা রাখতেই হবে কেননা মানুষই মানুষের শেষ আশ্র‌য় ।

৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন তো, আপনার বোন, কন্যা কিংবা অন্য কোন প্রিয়জনের কণ্ঠে একটি ফোনকল আসছে, সাহায্য চাইছে বিপদের মধ্যে থেকে। কণ্ঠস্বর হুবহু তারই, প্রতিটি উচ্চারণ, প্রতিবিন্দু ভীতি- গলার কম্পন পর্যন্ত মিলে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে সে হয়তো তখন ঘুমাচ্ছে নিজের বিছানায়। কণ্ঠটি তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে, কয়েক সেকেন্ডের কোন অডিও নমুনা থেকে নিয়ে। এই দৃশ্য এখন আর কল্পবিজ্ঞান নয়; এটি আজকের বাস্তবতা। মানুষ যুগে যুগে মিথ্যা ও প্রতারণার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু ইতিহাসে কখনো এমন প্রযুক্তি আসেনি, যা মানুষের চোখে দেখা ও কানে শোনা স্বাক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে। যে চোখে দেখা আর কানে শোনাকে আমরা সত্যের শেষ মানদণ্ড বলে জানতাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সেই মানদণ্ডকেই নড়বড়ে করে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে-আমরা কি এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে রেখা টানাই ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠবে?

গত কয়েক বছরে জেনারেটিভ AI প্রযুক্তি এমন গতিতে এগিয়েছে যে, বাস্তব ও কৃত্রিম চিত্র-ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা যাকে বলছেন "সিনথেটিক বাস্তবতা" অর্থাৎ এমন তথ্য-পরিবেশ, যেখানে বিষয়বস্তু, পরিচয়, এমনকি সামাজিক মিথস্ক্রিয়াও কৃত্রিমভাবে তৈরি ও পারস্পরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ভুয়া ছবি বা ভিডিওর সমস্যা নয়; বরং জ্ঞান উৎপাদন ও যাচাইয়ের গোটা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ক্ষয়ের সমস্যা। ডিপফেক ও সিনথেটিক মাধ্যমের বিস্ফোরণ মানুষকে এমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
এর একটি ভয়ংকর উপসর্গ গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন "মিথ্যাবাদীর লভ্যাংশ" নামে। যখন যে কোনো অস্বস্তিকর সত্য ভিডিও বা প্রমাণকেও "এটা তো ডিপফেক" বলে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়ে যায়, তখন প্রকৃত অপরাধী বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাও জবাবদিহিতা এড়িয়ে যেতে পারেন। বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, "এটা ভুয়া" বলে অস্বীকার করার কৌশল এখন- নীরব থাকা বা ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সহজ ও লাভজনক পন্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে বাস্তব প্রমাণ নিজেই তার শক্তি হারাচ্ছে। আদালত থেকে শুরু করে সাংবাদিকতা পর্যন্ত- প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেসমস্ত ভিডিও বা অডিওকে সত্যতার "স্বর্ণমান" হিসেবে উপস্থাপন বা গ্রহণ করত, তারা এখন নতুন করে যাচাই-পদ্ধতি নির্মাণে বাধ্য হচ্ছে। যে কোন তথ্য , ঘটনা প্রমান করা এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাবে।
কোন কোন দার্শনিক ও গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করছেন "এপিস্টেমিক কোল্যাপ্স" বা জ্ঞানতাত্ত্বিক ধস হিসেবে। এটি সাধারণ ভুল তথ্য বা অনলাইন গুজবের চেয়ে গভীরতর সংকট। প্রচলিত ভুল তথ্য একটি নির্দিষ্ট মিথ্যা দাবি নিয়ে কাজ করে, যা যাচাই করে খণ্ডন করা সম্ভব। কিন্তু AI-নির্মিত হাইপাররিয়ালিটির সংকট ভিন্ন-এখানে সমস্যা কোনো একটি মিথ্যা নয়, বরং এই ভয়ংকর অনিশ্চয়তা এই যে, যে কোনো কিছুই মিথ্যা হতে পারে। আমেরিকান ঔপন্যাসিক কর্নেল দোক্তোরোর সাহিত্যদর্শনের মূল ভিত্তিই ছিল বাস্তব ও কল্পনার মেলবন্ধন। ইতিহাস এবং ফিকশনের এই মিশ্রণকে তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার বিশ্বখ্যাত উপন্যাসগুলোতে । কর্নেল দোক্তোরোর সেই কল্পিত জগত -যেখানে বিশ্বাসযোগ্য কল্পকাহিনি এবং প্রকৃত ঘটনা একসঙ্গে মিশে যায় ,ফলে, সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনটা সত্য তা নিজে থেকে যাচাই করার উপায় ক্রমশ কমে আসে।

এমনকি ইতিহাসও এই সংকট থেকে মুক্ত নয়। মৃত ব্যক্তিদের পুনরুজ্জীবিত করে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও দর্শকের মনে আবেগীয় প্রতিক্রিয়া তৈরি করে দর্শক জানলেও যে এটি কৃত্রিম, তবু তা সত্য বলে অনুভূত হয়। মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, গল্প যত সাবলীল ও হৃদ্য়গ্রাহী হয়, তা তত বেশি সত্যের মতো অনুভূত হয়। জানা মিথ্যাও যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। এভাবে সম্মিলিত স্মৃতি ও ঐতিহাসিক সত্যও ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশ্বাসের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেবার মত এক জ্ঞানতাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি এখন মানুষ।

আর এই সংকটটি শুধু ভিডিও বা ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রবেশ করেছে মানুষের ব্যক্তিগত মনোজগতেও। কথোপকথনমূলক AI চ্যাটবট এমনভাবে ডিজাইন করা হচ্ছে, যাতে ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখা যায় এবং কথোপকথন দীর্ঘায়িত হয়। সাধারণ একজন থেরাপিস্ট বা মনোচিকিৎসকের কাজ হলো রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তার ভুল বা ক্ষতিকর চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করা।কিন্তু বাণিজ্যিক AI চ্যাটবটগুলোর মূল লক্ষ্য হলো "ইউজার রিটেনশন" বা ব্যবহারকারীকে ধরে রাখা। চ্যাটবটটি তৈরিই করা হয়েছে এমনভাবে যাতে সে ব্যবহারকারীর সব কথায় সায় দেয়, প্রশংসা করে এবং চ্যাট সেশনটিকে দীর্ঘায়িত করে।এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি "আবেগীয় ফাঁদ" (Emotional Trap) হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবহারকারী বাস্তব জগতের জটিল সম্পর্কগুলো এড়িয়ে এই নিখুঁত, সবসময় সহমত পোষণ করা ভার্চুয়াল সত্তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। থেরাপিউটিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং সংযুক্তি ধরে রাখাই এ আই এর লক্ষ্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন মানুষ যদি তীব্র বিষণ্ণতা বা প্যারানয়া (Paranoia) থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, "সবাই আমার ক্ষতি করতে চাইছে।"একজন থেরাপিস্ট বা মনোচিকিৎসক তাকে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। কিন্তু চ্যাটবটটি তার সুরেই সুর মিলিয়ে বলতে পারে, "হ্যাঁ, তোমার চারপাশের পরিস্থিতি আসলেও সন্দেহজনক। তোমার সতর্ক থাকা উচিত।" যখন চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীর অবাস্তব বা অস্বাভাবিক বিশ্বাসকে (Delusions) বারবার সত্য বলে স্বীকৃতি দেয়, তখন ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কে সেই ভ্রান্ত ধারণাটি স্থায়ী রূপ নেয়। এই সহমতপোষণকারী স্বভাবের কারণে গবেষক ও চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন - যাকে তারা বলছেন "সহমতপ্রসূত বিভ্রম" বা sycophancy-induced psychosis। এখানে চ্যাটবট নিছক পটভূমি নয়; এটি সক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর অস্বাভাবিক বিশ্বাসকে সমর্থন করে, তার ব্যাখ্যাকে আরও বিস্তৃত করে, এবং এভাবে বাস্তবতা-যাচাইয়ের ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল করে দেয়। যখন ২৪ ঘণ্টা হাতের মুঠোয় থাকা একটি বুদ্ধিমান চ্যাটবট তার প্রতিটি অযৌক্তিক ফ্যান্টাসিকে সমর্থন করতে থাকে, তখন মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা যাচাইয়ের ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। চ্যাটবটগুলো মানুষের একাকীত্ব দূর করার ছদ্মবেশে তাদেরকে বাস্তব সমাজ থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এটি মানুষের মাঝে এমন এক কৃত্রিম জগৎ তৈরি করছে যেখানে কোনো দ্বিমত নেই, কোনো সমালোচনা নেই। এর চূড়ান্ত পরিণতি হলো চরম মানসিক বিপর্যয়, বাস্তবতাবোধ হারানো, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে আত্মহনন বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস আচরণ । 'হিউম্যান লাইন প্রজেক্ট'-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে ৩১টি দেশে এআই চ্যাটবটের এই চাটুকারিতা ও ক্ষতিকর সংযুক্তির কারণে অন্তত ১৫টি আত্মহত্যা, ৯০টিরও বেশি মানসিক হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড়ভাবে AI চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে-এমনকি যাদের আগে কোনো মানসিক সমস্যার ইতিহাস ছিল না, তাদের মধ্যেও- বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস তৈরি হওয়ার ঘটনা সামনে আসছে।

বাংলাদেশের মতো স্বল্প শিক্ষিত ডিজিটালাইজড হতে থাকা সমাজে এই সংকটের প্রভাব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মোবাইল ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যম সাক্ষরতার হার এখনো অত্যন্ত সীমিত, ফলে ভুয়া ভিডিও বা কণ্ঠ-জালিয়াতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। রাজনৈতিক উত্তেজনার মুহূর্তে নির্বাচন, সাম্প্রদায়িক গুজব, বা ব্যক্তিগত সম্মানহানির ঘটনায় AI-নির্মিত ভুয়া অডিও-ভিডিও অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এখনো দুর্বল। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও ঝুঁকি বাড়ছে । বাংলাদেশে যখন ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং অ্যাপ-ভিত্তিক লেনদেন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই এই প্রযুক্তিগত ঝুঁকিটি পুরো আর্থিক খাতকে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সত্য কখনো নিজে থেকে আত্মপ্রকাশ করে না- তাকে খুঁজে বের করতে হয়, রক্ষা করতে হয়, আর যত্ন নিয়ে লালন করতে হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের সেই পুরনো নিশ্চয়তা কেড়ে নিয়েছে যে, চোখে দেখা মানেই বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু এই সংকট আসলে একেবারে নতুন কিছু যে তাও নয়। এটি সেই পুরনো লড়াইয়েরই সর্বশেষ অধ্যায়, যেখানে ক্ষমতা ও প্রযুক্তি বারবার সাধারণ মানুষের বাস্তবতাবোধকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো সবসময়ই মানুষের সত্য-মিথ্যার ধারণাকে নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। একনায়কতন্ত্রের যুগে রাজকীয় ফরমান, নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র বা রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র (যেমন হিটলারের জার্মানির জোসেফ গোয়েবলসের প্রোপাগান্ডা মিনিস্ট্রি) দিয়ে এক ধরণের কৃত্রিম সত্য বা 'বিকল্প বাস্তবতা' তৈরি করা হতো।এখন এই ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কোনো দৃশ্যমান স্বৈরশাসকের হাতে নেই; এটি চলে গেছে বড় বড় প্রযুক্তি -প্রতিষ্ঠান (Big Tech) এবং তাদের তৈরি করা অদৃশ্য অ্যালগরিদমের হাতে। এই অ্যালগরিদমগুলো ব্যবহারকারীর অবচেতন মনকে এমনভাবে ম্যানিপুলেট করে, যেখানে মানুষ মনে করে সে নিজের স্বাধীন চিন্তায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অথচ বাস্তবে সে অ্যালগরিদমের তৈরি করা 'ইকো-চেম্বার' বা গোলকধাঁধায় বন্দি। ফলে, এবারের হাতিয়ারটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম, দ্রুত ও ব্যাপক।

এই সংকট থেকে উত্তরণ অসম্ভব নয়, তবে তা সহজও নয়। গবেষণা বলছে, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি বাড়ানো অর্থাৎ মানুষকে কেবল 'এটা ভুয়া কি না'- প্রশ্ন করতে শেখানো নয়, বরং কেন ও কীভাবে তা যাচাই করতে হয় তা শেখানোও ভুয়া তথ্যের প্রভাব কমাতে কার্যকর। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে স্বচ্ছ যাচাই-প্রক্রিয়া, উৎসের প্রমাণীকরণ প্রযুক্তি জরুরি। সাধারণ মানুষকে শুধু বলা হয়, "ইন্টারনেটের সব তথ্য বিশ্বাস করবেন না।" এতেও আবার মানুষের মনে এক ধরণের 'অন্ধ অবিশ্বাস' বা প্যারানয়া তৈরি হয়, যা সংকট দূর করে না। মানুষকে তথ্যের উৎস অনুসন্ধান করতে শেখানো। একটি এআই চ্যাটবটের উত্তর বা একটি অডিও ক্লিপ পাওয়ার পর গ্রাহক নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করতে শিখবেন: ১. এই তথ্যের পেছনে উদ্দেশ্য কী? ২. এই দাবির স্বপক্ষে অন্য কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম (Cross-checking) একই কথা বলছে কি না? ৩. এই এআই মডেলটির চাটুকারিতার স্বভাব আছে কি না? নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি এক অগ্রাধিকারের বিষয় স্বচ্ছতা-লেবেলিং, জালিয়াতি-প্রতিরোধী প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সাক্ষরতা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমাজকে প্রস্তুত করা। সবার আগে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রয়োজন সচেতন সংযম । AI চ্যাটবটকে সঙ্গী নয়, হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভ্যাস, এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা মানসিক সংকটে কাছের মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা। মনে রাখা জরুরী , মানুষই চিরদিন মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু।
মানুষের মস্তিষ্ক সবসময় নতুন প্রতারণার বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে- ছাপাখানার যুগে গুজবের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা জন্ম নিয়েছিল, ফটোশপের যুগে ফরেনসিক বিশ্লেষণ এগিয়ে এসেছিল। AI-এর এই নতুন চ্যালেঞ্জও একইভাবে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত প্রজ্ঞার জন্ম দেবে, যদি আমরা সচেতনভাবে তার জন্য প্রস্তুতি নিই। সত্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির নয়, তা মানুষের সম্মিলিত সততা, কৌতূহল ও পারস্পরিক আস্থার উপরই নির্ভরশীল। যন্ত্র বাস্তবতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু অর্থ ও সত্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব চিরকাল মানুষেরই থেকে যাবে।
--------------------------------------------------------
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×