অারবী সাহিত্যের জয়জয়কার ছিলো তৎকালীন অারব বিশ্বে।
বলছি হযরত মুহম্মাদ (সাঃ) এর নবুয়ত প্রাপ্তির সময়কালের কথা।
তখনকার সময়ে অারবী সাহিত্য এমন উচ্চ পর্যায়ে পৌছেছিলো যে, সেই সময়ের কবি-সাহিত্যিকের অারবী কবিতা, সাহিত্যের উপর বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইউনিভার্সিটিতে থিথিস করে পি,এইচ,ডি ডিগ্রী পর্যন্ত অর্জন করছে।
যাহোক, নবী করিম(সাঃ) এর উপর যখন কোরঅান নাযিল শুরু হয় হলো তখন তার বিরোধীরা তথা কাফের-মুশরিকরা বলাবলি শুরু করলো, মুহম্মদের উপর নাকি ছুরা নাযিল হচ্ছে! এটা বানানো মিথ্যা কথা। অাসলে মুহম্মদ কবি হয়ে গেছে। এগুলো তারই রচনা করা।
যাহোক, তারা গলাবাজি শুরু করলো।
অাল্লাহপাক ঠিক এসময় এই অবিশ্বাসিদের প্রতি চ্যলেন্স ছুড়ে দিলেন। অাল্লাহপাক বললেন, তোমরা বলছো, কোরঅান মুহাম্মাদের লেখা কিতাব। তাহলে কােরঅানের সুরার মত একটি সুরা তৈরী করে নিয়ে এসো। (এটি অায়াত নাযিল করে চ্যালেন্স দিয়েছিলেন)।
কেননা,তিনি তো লেখাপড়া জানতেন না।
তখনকার কবি-সাহিত্যিকরা দিনরাত চেষ্টা করে গলদঘর্ম হয়ে গেলো কিন্তু একটি সুরা তো দূরে থাক একটা লাইন পর্যন্ত রচনা করতে পারলোনা।
কিন্তু তারপরও তাদের গলাবাজি বন্ধ হলোনা। তারা বললো, তোমরা যাই বলো, এগুলো তারই(মুহম্মদ (সাঃ) রচনা করা সুরা।
এর ভিতরে কোরঅানের সর্বকনিষ্ঠ সুরা নাযিল হলো। তিন অায়াত বিশিষ্ট সুরা; সুরা কাওছার।
তখন সাহাবিরা এই সুরার প্রথম দুই অায়াত ( ইন্না অা-ত্বইনা কালকাওছার। ফাছাল্লিরাব্বিকা অনহার) লিখে কাবা শরীফের গায়ে টাঙ্গিয়ে দেয়া হলো।
অার বলা হলো, তোমরা যারা বলছো এসব মুহম্মদ(সাঃ) বানানো কিতাব। তাদের জন্য কাবা শরীফের গায়ে একটি নাযিলকৃত সুরার প্রথম দুই অায়াত(তিন অায়াতের ভীতর) টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থের দিক থেকে মিল করে পরবর্তী অায়াতটি লিখে নিয়ে এসো।
এবার, দ্বীতিয় চ্যালেন্সটিতে তারা উঠেপড়ে লেগে গেল।
চেষ্টা যখন ব্যর্থতার দিকে এগুচ্ছে তখন তারা তৎকালীন কবি সম্রাট লাবিদ; যাকে বলা হতো 'অামিরুস শুয়ারা' তার দারস্থ হলেন এবং বললেন, ভাই লাবিদ, অামাদের কবিগিরির সম্মান এখন তুমি বাচাঁতে পারো।
অামাদের বিশ্বাস এই প্রথম দু'লাইনের পর তৃত্বীয় লাইনটি তুমি লিখে অামাদের ইজ্জত বাঁচাবে।
লাবিদ দিন-রাত চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত তৃত্বীয় লাইনটি লিখে ফেললেন।
এবং এই লাইনের যা অর্থ দাড়ালো তাতে অন্যন্য কবিরা হতাশ হয়ে পড়লেন।
তিনি ছন্দ মিলিয়ে লিখলেন, লাইছা হাযাল মিন কালামিল বাশার।
উল্লেখ্য প্রথম দু'লাইন/দুই অায়াত ছিলো, ইন্না অা-ত্বইনা কালকাওছার। ফাছাল্লিরাব্বিকা অনহার।
এখানে জুড়ে দিলেন, লাইছা হাযাল মিন কালামিল বাশার ।
যার অর্থ, এটা মানুষের তৈরী করা কোন সুরা নয়।
লাবিদ অসহায়ের সাথে বললেন, অামি দিন রাত চেষ্টা করে তৃত্বীয় লাইন যখন লিখতে ব্যর্থ হলাম তখন অামি এই লাইনটি লেখা ছাড়া অন্য উপায় ছিলোনা।
তিনি এবং তার দলবল নবী করিম (সাঃ) নিকট যেয়ে ইসলাম কবুল করলেন।
বর্তমান বিশ্বে লাখ নয় কোটি কোটি কোরঅানের হাফেজ রয়েছে।
৫-৬ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮০ বছরের বৃদ্ধ/বৃদ্ধা পর্যন্ত তাদের মগজে কোরঅান ধারণ করে ফেলছে।
এ পর্যন্ত অন্য কোন ধর্ম গ্রন্থ কেউ মগজে হুবুহু ধারণ করতে পেরেছেন কি-না অামার জানা নাই।
এটা সম্ভব হয়েছে; কারণ-
'ওয়ালাকদ্ব ইয়াছছারনাল কুরঅানিল যিকর' অর্থাৎ অাল্লাহপাক বলেন, এই কোরঅান হেফজ করা/মুখস্ত করা অামি বান্দাদের জন্য সহজ করে দিয়েছি। (সুবহানাল্লাহ)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




