রহমান সাহেব ছেলেকে নিয়ে খুব বিব্রত। তার দশ বছরের ছেলের কান্ডকীর্তিতে অতিষ্ঠ।অনেক আদর করে ছেলের নাম রেখেছেন শান্ত।বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নামের বিপরীতে সে অশান্ত হয়ে ওঠছে।এমন কোন দিন নেই যেদিন শান্ত ব্যথা পায়না।দৌড়াতে গিয়ে খেলতে গিয়ে একেকবার একেক জায়গায় ব্যথা পেয়ে এসেছে।আর তার মা নায়লা বেগম তাকে মেরে একাকার করেছে।প্রতিদিন শান্তর নামে তার অশান্ত কার্যকলাপের জন্য নালিশ আসতে থাকে।নালিশগুলো সেলফোন হয়ে রহমান সাহেবের কর্নকুহরে প্রবেশ করে।দুঃখের ব্যাপার হলো রহমান সাহেব যখন অফিসে বেকায়দায় থাকেন ঠিক সেই সময় বিচার গুলো আসে । এই তো সেদিন অফিসে বস তাকে কড়া শাসাচ্ছেন তার যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে ধরছেন তাও আবার অফিসে তার মাহিলা কলিগের সামনে । ঠিক সেইসময় সেলফোনে কমিশনার সহেবের মোবাইল থেকে ফোন ।কাজে অমনোযোগিতা আর সারাক্ষণ কাজ বাদ দিয়ে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে বস তাকে ঝাড়ছেন ঠিক এ সময়ে প্রভাবশালী মানুষের ফোন ।শাখের কড়াতের মত অবস্থায় কমিশনার সাহেবের ফোন রিসিভ করে আত্না শুকিয়ে যাবার অবস্থা। শান্ত কমিশনার সাহেবের ছেলের সাইকেল চালাতে গিয়ে ভেঙে ফেলেছে।এই নিয়ে মোটামুটি শালিস মতন একটা ব্যাপার প্রস্তুত হয়ে গেছে।সেখানে যোগ দেয়ার জন্য শাসিয়ে কল কেটে দেন কমিশনার সাহেব।মনটা পুরো বিষিয়ে ওঠে।কলটা না ধরলেও বিপদ হতো। কলের পর বসের শাসানোর ঝাঝ আরো বেড়ে যায়। বস কে কেন ফোন করেছে জানতে চাইলে তার আর উত্তর আসেনা রহমান সাহেবের মুখ দিয়ে।কিভাবে ছেলের এহেন কীর্তির কথা বসের সামনে বলবে?বস তাহলে সোজা বলে বসবে যেমন বাবা তেমন তার ছেলে।বাকী যা বলবে সেগুলো উল্লেখ করার যোগ্যতা রহমান সাহেবের হয়নি।এমন মুখ তার বসের । নীরা ম্যাডাম দাত কেলিয়ে হাসে। আর এই হাসিতে রহমান সাহেবের গা আরো জ্বলে যায়।নীরার হাসি অবশ্য বসকে খুশি করার জন্য।এমনিতে নীরাকে রহমান সাহেবের খুব ভাল লাগে।এ মহীলা সব সময় শাড়ি পড়ে অফিসে আসে।শাড়ির রঙ খুব কড়া। আর শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে ঠোটে লিপস্টিক লাগানো তার অভ্যাস ।যেদিন লাল টকটকে শাড়ি পরে অফিসে আসবেন ঠিক সেই দিন তার ঠোটে শোভা পাবে লাল টকটকে রঙের লিপস্টিক ।অফিসে নিয়মিত দশ মিনিট লেট।আর অফিসে ঢুকেই ফ্যান ছেড়ে তার চুলগুলো শুকাতে শুরু করবেন।বস তাকে কিছুই বলতে পারেন না। আর নীরা ম্যাডামের ভাবখানা এমন তিনি অফিসের সৌন্দর্যের প্রতীক।তার কারনে অফিসের আকর্ষণটা বেড়েছে কয়েকগুন। তার এসব সাজুগুজোতে সহায়তা করা বসসহ সবার নৈতিক দায়িত্ব।নীরা ম্যাডামের কাজগুলোর অনেক গুলো রহমান সাহেবকে করে দেয়া লাগে।
রহমান সাহেব সেলফোন ব্যবহার বন্ধ করেছিলেন ।এটাতো ফোন নয় হাতকড়া ।ছেলের নামে নিয়মিত নালিশ আসার মাধ্যম মাত্র।বস তাতে খুশি হলেও ফোনে না পেয়ে অভিযোগ কারীরা রহমান সাহেবের উপর প্রচন্ড ক্ষেপে যাওয়াতে আবার ফোন ব্যবহার করতে বাধ্য হন। রহমান সাহেব দারুন ধৈর্যশীল মানুষ ।শুধুমাত্র ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে যায় যখন বস তাকে ঝাড়ি দেয়ায় সময় যদি তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত হযে ওঠে তার সেলফোন ।ছেলের মাথায় এত দুষ্টোমী কোত্থেকে আসে ভেবে কূল কিনারা পায় না রহমান সাহেব।
নায়লার শখের একটি কুকুর আছে।কুকুরকে সারাদিন বিশেষ খাতির যত্ন করে তার দিন কেটে যায়।গহনার প্রতিও তার লোভ আছে যথেষ্ট। তবে এই কুকুরকে ঘিরেই তার নতুন সমস্যার সূত্রপাত।রহমান সাহেবের গুণধরপুত্র মায়ের কুকুরের প্রতি ভালবাসা দেখে নিজেই মানুষ নয় কুকুরে চালচলন নকল করা শুরু করেছেন।কুকুর কিভাবে মূত্র বিসর্জন দিচ্ছে সেও ঠিক সেভাবেই মূত্র বিসর্জন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।কুকুর দৌড়ে কিভাবে দুই পা তুলে হাপায় ঠিক সেইভাবে হাপানোর চেষ্টা করে।এসব কান্ডকীর্তি দেখে রহমান সাহেবের মাথা হেট হয়ে যায়।আবার মাঝে মাঝে প্রচন্ড হাসিও পায়।শান্তটা তার বাবার হয়রান হয়ে হাপানো নকল না করে কুকুরের হয়রান হওয়া নকল করে।এই ছেলের পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে রহমান সাহেবের মেদভূড়ি লোপ পেয়েছে। সেজন্য অবশ্য ছেলের কাছে তার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। হাসলেও ছেলে কান্ডকীর্তিতে কিছুটা ভীত রহমান সাহেব।মানুষের সামনে এমন কুকুর মার্কা আচরণ করলে মানুষ কি বলবে।শান্ত ইদানিং গ্লাসে পানি খায়না।সে পেয়ালাতে পানি ঢেলে তারপর সরাসরি সেখান থেকে কুকুরের ভঙ্গিতে পানি খাবে ।জিভ দিয়ে চেটে চেটে পানি খাবে।টয়লেটে এক পা উচু করে পেশাব করবে । আবার হয়রান হলে দুই হাত কুকুরের মত উঁচু করে হাপাবে।কুকুরটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করার একাধিক পরিকল্পনা সত্ত্বেও সেটি বাস্তবায়ন
করতে পারেনি নায়লা বেগমের জন্যে। নায়লা বেগমের কুকুর প্রীতি দৃষ্টান্ত দেবার মতো।অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নায়লা বেগম রহমান সাহেবকে ডগি বলে সম্বোধন করেন।শান্তর এই কুকুরমার্কা স্বভাব রহমান সাহেবের কাছ থেকে আসেনি ।এটা নিশ্চিত ওর মার কাছ থেকে পেয়েছে।তার যা কুকুর প্রীতি !
আসলে ঘটনা হলো পাশের বাড়ির প্রতিবেশির আট বছরের মেয়ে অন্তরা আর শান্ত ছোটাছুটি করছিল।শান্ত দৌড়ে হয়রান হয়ে গেছে।হয়রান হয়ে কুকুরের মত ভঙ্গিতে দুইহাত ভাজ করে জিহবা বেড় করে হাপাচ্ছে আর তার জিহবা থেকে লোল পড়ছে। অন্তরা শান্তকে বলছে ডগি চল
বাসায় চল।ডগি তোমাকে বিস্কুট খাওয়াবো।এ কথা শুনে শান্ত লেজনাড়ার মত কোমড় দোলাচ্ছে।রহমান সাহেব স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।নিজের অজান্তে সে ছেলেকে ডাকছে ডগি কাছে আয়।তোকে বিস্কুট খাওয়াবো ।
------------------
উৎস ঃ আশে পাশে কত মজার ঘটনা ঘটছে।হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাচ্ছে।ইতি মধ্যে প্রতিবেশি পাকিস্তানী সহপাঠীর ছেলের সাইকেল ভেঙে ফেলেছে একজন ।শুধু একটু কলম ঘুরালেই রম্য হয়ে ওঠছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



