somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

পা’য়িন্দা ওয়াটার ল্যান্ড মালয়েশিয়া

০৭ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পা’য়িন্দা ওয়াটার ল্যান্ড।বেশ আগেই পরিকল্পনা করে রাখা ওখানে বেড়াতে যাওয়ার। আজ সুযোগ এসেগেল ওখানে যাওয়ার। ওখানে বেড়াতে যাওয়ার বেশ কয়েকটি যুক্তির একটি হলো ওটাতে জলাশয়ে ঘেরা সবুজের সমারোহে প্রকৃতির আশীর্বাদ পুষ্ট।ওখানে যেতেও সময় লাগে মাত্র চল্লিশ মিনিট।ওখানে ছিপ ফেলে মাচ ধরার সুযোগ আছে শুনেছি। আর শুনেছি ওখানে ক্রুকুডাইল পন্ড আছে।যেখানে পঞ্চাশটির মত কুমির আছে।উপকূলবর্তী এলাকার কুমির ।আছে জলহস্তি।তাছাড়া বিখ্যাত সেই উচু জায়গাটিতে চরে এর চারপাশটা দেখার সুযোগ।রাতের ঘুমে ইতিমধ্যে মাছ ধরার স্বপ্নও দেখে ফেলেছি।মাছ ধরার স্বপ্ন বয়ান করার পর দুই কলিগের পরীর মতন মেয়ে রাহা আর ইশ্বরা তাদের খেলনা ছিপ নিয়ে ভ্রমনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।রাহার ছিপ পাওয়া গেলেও ইশ্বরারটা পাওয়া যাচ্ছিল না। যাইহোক সবাই উঠে পড়লাম গাড়িতে।গাড়ি চলতে থাকলো গন্তব্যে। যথাসময়ে পৌছে গেলাম সেখানে। কড়া রোদ।রোদে পোড়ে গেছে জলে ভেসে থাকা পদ্ম পাতা।পোরে গাঢ় বাদামী বর্ণ হয়ে গেছে সেগুলো।প্রবেশ দ্বারে ওটার দায়িত্ব প্র্রাপ্ত লোকদের কাছ থেকে জেনে নিলাম ওটার ভিতরে কিকি দেখার মত উপকরণ আছে দেখার।ওটাতে ঢুকতে কোন টিকিট কাটতে হয়নি।গেটম্যানদের নির্দেশনা মত সোজা চলে গেলাম সেই উচু মঞ্চে যেখানে থেকে চারিদিকের সমস্ত নৈসর্গিক দৃশ্যাবলী দেখা যায়।সেই মাচাটাতে সর্বোচ্চ দশজন একসঙ্গে ওঠা যায়।সবাই ওঠে গেলাম একেবারে ওপরে ।চমৎকার বাতাস বইছিলো।কড়া রোদ থাকা সত্ত্বেও গা জুড়িয়ে গেল হিমেল হাওয়ায়।সিড়ি ভেঙে ওঠে ক্লান্ত সবাই ততক্ষনে শুয়ে পড়েছেন পাটাতনে। আমারও চোখ বন্ধ হয়ে গেল হালকা তন্দ্রামতন অবস্থা।সেই ভাললাগা শুধু উপলব্ধি করার মতন।একসময় ওঠে দাড়ালাম আর চারিদিকে তাকোতে থাকলাম।দূর থেকে দূরে।পুত্রজায়া শহরটাও দেখা যাচ্ছিল।আর তার কাছটা ঘিরে সবুজ বন।আর বেশ কয়েকটি জলাশয়। চোখে জুড়িয়ে গেল সবুজে জলে পদ্মফুলে আর মনু জুড়িয়ে গেল খোলা হাওয়ায়।সেখান থেকে নেমে গেলাম ।কিছুক্ষণ হাটলাম বনে কলিগের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে।গিয়ে তেমন আকর্ষনীয় কিছু পাইনি। ফিরে এসেছি ব্যর্থমনে ।ততক্ষণে ক্লান্ত হয়ে গেছি।ক্ষুধা লেগে গেছে।একটা স্টলে খেতে গেলাম।নাসি গোরেং আয়াম। মালয়েশিয়ান চালসবজিমুরগি মিশ্রিত খাবার।সেখানে ঢুকেই দেখি একটা ময়ূর হাটছে।বেশ বড় সাইজের ময়ূর। ময়ূর দেখলে আমার একজন প্রিয় মানুষের কথা মনে পড়ে যায়।সেই ময়ূরে পিছনে ছুটতে গিয়ে আরও কয়েকটি ময়ূর ক্যাঙ্গারু পাওয়া গেল।আর পাওয়া গেল বিভিন্ন ধরণের সাপের বিবরণ আর ছবি।একজন পাকিস্তানী লোক ওটাতে গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। তার কথায় জানা গেল পা ইন্দা ওয়াটারল্যান্ড বড় বড় সাপের অভয়ারণ্য।তবে আমার বিশ্বাস হয়নি। আমি যখন কলিগের ছেলেকে নিয়ে বনে ঢুকেছিলাম তখন বড় সাপ তো দূরের কথা একটি ছারপোকাও দেখিনি।যদিও বর্ণনা শুনে কলিকের গা শুকিয়ে গেছে। খাবার শেষে কুমির দেখতে গেলাম ।পুকুরে গিয়ে দেখি অনেক গুলি কুমির ভাসছে।একটি হা করে আছে।কুমিরের কোন জিহবা নেই সেটা প্রমান করার জন্য তার এই বিশাল হা প্রচারণা চালাচ্ছে।হা আর নামছেনা।কিছু ক্ষণ পরে সেটি সেরে গেলে চেয়ে বড় আরেকটি সেই জায়গায় এসে হা করে রইলো।তারপর আরেকটি একই কাজ করলো।খুব হাশি পেল এই ভেবে যে ওটা বোধ হয় কুমিরের হা পয়েন্ট।হা পয়েন্টে গেলে কুমিরদের হা করে থাকার একটা অলিখিত নিয়ম আছে।অবশ্য আমরাও সবাই হা করেই কুমির দেখছিলাম।কুমির ভেসে আসছে।কুমি ডু্ব দিয়ে স্থির হয়ে আছে।কুমির হা করে আছে।গুনে দেখলাম তেরটি কুমির।ওখানে নাকি
মোট ৫০ টি কুমির আছে।বড়টির বয়স ৬০বছর।পাকিস্তানী ভদ্রলোক জানালেন কুমির নাকি প্রাণি মরে পচে গেলে সেটা খায়। তার আগে খায়না। আমি প্রশ্ন করলাম কুমিরগুলো কোন মানুষ খেয়ে ফেলার ঘটনা আছে কিনা? সে বলল নেই।কুমির দেখা শেষ করে জলহস্তি দেখলাম ।দুটি জলহস্তি ডাঙায় ওঠে তৃনগুল্ম খাচ্ছিল।তারপর একটি জায়গায় গেলাম যেখানে মাছ আছে।মাছকে খাবার দিলে সব মাছ এসে খাবার খেতে থাকে।ছিপ ফেলে মাছ ধরার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো না।তবে গার্ড লোকটি পরবর্তীতে আসলে মাছের ছিপ ম্যানেজ করে দিবেন আশ্বাস দিলেন। এবং এও বললেন প্রতি ছিপ ভাড়া দশ রিঙ্গিট।দুঘন্টা সময় ছিপ ফেলা যাবে।তবে কোন মাছ ধরা না পরলে তার জন্যে তিনি দায়ী হবেন না। আর টাকাতেও কোন ছাড় নেই।ওখানেই সমাপ্ত হলো পায়িন্দা ওয়াটারল্যান্ড সেলাঙ্গর ভ্রমন ।সেখান থেকে আমাদের হিমু রঙের গাড়িতে চড়ে সোজ বাসার পথে রওয়ানা দিলাম ।তখন সূর্য ডুবছিল। দারুন দেখাচ্ছিল আকাশটা ।সুন্দর আকাশ পাহাড় পাম বন দেখতে দেখতে বাসায় চলে আসলাম।

পায়িন্দা ওয়াটার ল্যান্ডের কয়েকটি ছবি



নাছি গোরেং আয়াম





রাহামনির ছিপ ফেলা




কুমির দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫২
২১টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×