somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল খুব প্রিয়। রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা দারুণ ভালোলাগে। সবচেয়ে ভালো লাগে স্বাধীনতা। স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে? কে বাঁচিত

হিমুর মত পেনাং ব্রীজ আর লং নাইট ড্রাইভ ফ্রম সেলাঙ্গর টু পেনাং নগরী ,মালয়েশিয়া

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাতের আলোয় পেনাং ব্রীজ (ছবি গুগুল)

থিসিস নিয়ে দারুন একঘেয়েমি কর্মযজ্ঞ । দেশ থেকে কত দূরে আছি । প্রচন্ড দেশ কাতরতার মধ্যে থিসিস ওযার্ক বোর হওযাতে নতুন মাত্রা দিয়েছে । এসব থেকে রক্ষা পাবার একটাই উপায় সেটা হলো দূর ভ্রমনে বেড়িয়ে পড়া । আগস্টের ৩০ তারিখ শুক্রবার থেকে তিনদিনের ছুটি পাওয়া গেল । আর সেটির সদ্ব্যবহার করার জন্য আমরা বেছে নিলাম পেনাং লং ড্রাইভ ।



পেনাম কেন যাওয়া ? সেটি এই ব্লগের সুপ্রিয় একজন পেনাং ব্যাপারটা মাথায় ঢুকিয়েছেন। কলিগরা কেউ যেতে না চাইলেও তাদেরকে মটিভেট করতে সক্ষম হই । কয়েকটা কারনে পেনাং নগরী যাওয়া যায় । এখানে যেতে ক্রস করা হবে পেনাং ব্রীজ দিয়ে যেটির দৈর্ঘ্য ১৩.৫ কিলোমিটার । এটি দক্ষিণ মালয় চ্যানেলের উপর দিয়ে গেছে । আর সংযুক্ত করেছে মালয় উপদ্বীপ কে পেনাং নগরীর
সঙ্গে । এটি মালয়েশিয়ার প্রথম ব্রীজ যেটি দিয়ে কোন দ্বীপকে মালয় উপদ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে । সত্তরের দশকে এটি তৈরি করার পরিকল্পনা করেন মালয়েশিয়ার প্রধান মন্ত্রী তুন আব্দুল রাজাক ।

মালয়েশিয়া সরকার ১৯৭১ সালে ক্রিশ্চিয়ানী নিয়েলসনকে নিয়োগ করেন ব্রীজটি নির্মানের সম্ভাব্যতা পর্য়ালোচনা করার জন্য।

ব্রীজটি ডিজাইন করেছেন পেনাং নগরীর নাগরিক একজন স্বনাম ধন্য সিভিল প্রকৌশলী প্রফেসর চিন ফুংকি ।

ব্রীজটি নির্মানের পূর্বে এখানে যেতে ব্যবহৃত হতো পেনাং ফেরী সার্ভিস ।যেটির চলাচল রুট ছিল বাটারওর্থ আর জর্জটাউনের মধ্যে ।



১৯৮৫ সালের ৩রা আগস্ট পেনাং ব্রীজটি চালু করা হয় । পেনাং ব্রীজের সঙ্গে পেনাং ভ্রমনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বলা যায় পেনাং বীচ ,পেনাং হিল আর পেনাং বৌদ্ধ মূ্র্তি ।আর পেনাং ইউনিসেফ ঘোষিত মালয়েশিয়ান ট্রেডিশনাল ফুড হেরিটেজ প্লেস হিসেবেও স্বীকৃত ।



আর লং ড্রাইভ সত্যি দারুন উপভোগ্য।মালয়েশিয়া সত্যি কারের সবুজ দেশ। এখানে আছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য । কোন রাজনৈতিক হ্যারাসমেন্ট নেই। সকল ধর্মের সহাবস্থানের উদাহরণ দিতে গেলে এটাকে এক নম্বরে রাখবো আমি। এখানে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির আছে ।আর আছে বহুজাতিক সহাবস্থান । আর রাস্তা ঘাট গুলো চমৎকার । অবকাঠামোগত সুবিধা এটিকে ভ্রমনের জন্য দারুন উপযোগী করে তুলেছে ।

এবার ভ্রমনের কথায় আসি । স্যুট টাই আর যান্ত্রিক ব্যস্ততা আমাদের রবোটে রূপান্তিরিত করেছে । রবোটিক জীবনকে মানুষের জীবনে পরিণত করতে আমাদের এই রাত্রিকালীন দূর ভ্রমন । পেনাং ব্রীজে গাড়ীতে চরে দক্ষিন মালয় চ্যানেলের বিশুদ্ধ বাতাস সেবনে অপার শান্তি লাভ করার লোভ কে সমালাতে পারে ।


ক্যামেরুন হাই ল্যান্ডের কাছাকাছি সুরঙ্গ পথ


আনুমানিক রাত সাড়ে বারোটায় আমাদের হিমু রঙের গাড়ীতে চড়ে বসলাম পেনাং এর উদ্দেশ্যে । কাজাং এর ওয়েল পা্ম্প স্টেশনে গাড়ীতে তেল ভরে ছুটতে থাকলো আমাদের গাড়ী । বাংলাদেশের কয়েকটা বিখ্যাত মিউজিক ছেড়ে দিয়ে সেগুলোর সঙ্গে ব্যাক ভোকালের ভূমিকায় আমরা কয়জন ।রাতটা জোছনা মাখা ছিলনা ।ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছিল । তবে ল্যাম্প পোস্ট গুলো এক পায়ে দাঁড়িয়ে আলোকিত করছিল চারদিক ।রাস্তার দুই পাশে সবুজ বনের সমারোহ। কখনো সুউচ্চ অট্টালিকা ।মালয়েশিয়া রঙিন দেশ। সেটা প্রকৃতি গত ভাবেই ।মানুষগুলোর মনে সৌন্দর্য় আছে ।বিলাসিতা আছে । আর আভিজাত্য ও আছে ।রাস্তার লাইটগুলোর ডিজাইন ,রাস্তাকে বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজিয়ে চমৎকার সব মসৃন চকচকে রাস্তা ।গাড়ীতে ঝাকি নেই ।বাতাসে সীসা নেই। কিছু দূর পরপর বিশ্রামাগার বা রিফ্রেশ হওয়ার সমস্ত উপকরণ সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে ।


আমার বাসস্থান কাজাং থেকে পেনাং নগরীর দূরত্ব প্রায় চারশত কিলোমিটার ।দুইটি বিরতি দিয়ে আমরা পৌঁছে যাই কাঙ্খিত সেই পেনাং ব্রীজে ।কিছুদূর পর পর টোল দিতে হচ্ছিল ।পেনাং ব্রীজের টোল ৪২.৫০ রিংগিট মাত্র।


যেখানেই থেমেছি সেখানে রিফ্রেশ হওয়ার সমস্ত সুবিধাদি ছিল । প্রথম বিরতিতে থামার সময় লক্ষ্য করলাম বিশাল মোটা এক তামিল ভদ্রলোক হাটছেন । এত মোটা মানুষের জীবন প্রানালী নিয়ে কৌতুহল কার না জাগে । কলিগরা তো তার স্ত্রীর দূরাবস্থার কথা বলে রীতিমত মায়াকান্না করছে ঠিক সেই মুহুর্তে তার কাছাকাছি আকৃতির আরেকজন এসে হাজির। এদের দুইজনকে কোন গাড়ী বহন করে দেখার জন্য উৎসাহ বোধ করলাম । দারুণ হেভী একটা গাড়ীতে মোটা ভদ্রলোকটি উঠলেন । এত হেভী গাড়ী সেটিও ইঞ্চি খানেক দেবে গেলো ।


আমরা কফি আর হালকা নাস্তাকরে আবার চলতে শুরু করলাম । জিপিএস দিয়ে ট্রাকিং করে রাস্তা চলতে চলতে আরো প্রায় শ কিলোমিটার দূরে আবার থামলাম । শরীরটা ম্যাজ ম্যাজ করছিল। সেখানে ম্যাসেজ চেয়ার পেলাম। মিনিট তিনেকের ম্যাসেজনিয়ে ফুরফুরে মেজাজে সোজা পেনাং ব্রীজে ।



ততক্ষনে আকাশ পরিস্কার হতে শুরু করেছে । দাক্ষিন মালয় চ্যানেলের বাতাসে গা জুড়াতে গাড়ীর এসি বন্ধ করে জানালা খুলে দিলাম । সত্যি মুগ্ধ হওয়ার মত।চমৎকার সুদূর্ঘ ১৩.৫০ কিলোমিটার লম্বা ব্রীজ ।দুই পাশে পানি। পানিতে ঢেউ । ঢেউ ভেসে চলছে চমৎকার সব ইঞ্জিন চালিত নৌকা । ব্রীজের সামনে পেনাং নগরীতে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ সব অট্টালিকা । তার কয়েকটি মনে হবে হয়তো সমুদ্রের বুকে দাড়িয়ে আছে । সবুজ পেনাং নগরী পেনাং হিল আর পেনাং সীবীচ ভাবতে ভাবতে দারুন ভাল লাগা নিয়ে ছুটছিলাম পেনাং ব্রীজের উপর দিয়ে । আর মনে মনে ভাবছিলাম সমুদ্রে পারে আমাদের বুকিং করা রেস্ট হাউজটি কেমন হবে সেটি নিয়ে ।





কয়েকটি ছবি ।

--------------------------------------------------
ছবি প্রথমটি গুগুল । বাকী গুলো নিজস্ব এলবাম ।ফেরার পথে দিনে তোলা ছবি এড করা হয়েছে ।

তথ্য সূত্র নেট ।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১০
১৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত রাত না খেয়ে ছিলাম (দ্বিতীয়াংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:১১


প্রথম পর্বের লিঙ্ক: Click This Link
কিন্তু খেতে তো হবে। না খেয়ে কেউ বাঁচতে পারে? তাই হোটেলওয়ালাকে বললাম, একবেলার খাবার টা একটু কষ্ট করে বাসায় দিয়ে আসা যায় কি না।
ওনার ওখানে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:১০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

জামাতাদের নিয়ে বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ রবীন্দ্রনাথকে শ্বশুর হিসেবে অনেক বিব্রত হতে হয়েছে। সেইসব অভিজ্ঞতা বড়ই মর্মান্তিক, যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ। অতি সংক্ষেপে তার সামান্য বিবরণী তুলে ধরছিঃ-

(১) রবি ঠাকুরের বড়ো... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদীসের গল্প : ০০৮ : নবীজির পানি পান করারনো ঘটনা

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১১:৩২



মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থনে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম কথন.....

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২




আম্রপালি আম দিয়েই মনে হয় ম্যাঙ্গো ফ্লেভার আইসক্রিম বানায়। যতবার ফ্রিজ থেকে বের করে আম্রপালি খাচ্ছি ততোবার মনে হচ্ছে।
তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় আম হচ্ছে ল্যাংড়া, গোপালভোগ আর ক্ষীরসাপাতি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনাগাজী নিকে ইচ্ছানুসারে, স্বাধীনভাবে কমেন্ট করতে পারিনি।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৫:১৯



সোনাগাজী নিকে ৫ মাস ব্লগিং করলাম; ব্লগের বর্তমান পরিস্হিতিতেও বেশ পাঠক পেয়েছি; আমার পোষ্টে মন্তব্য পাবার পরিমাণ থেকে অন্য ব্লগারদের লেখায় মন্তব্য কম করা হয়েছে; কারণ, মন্তব্য করার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×