
মরনঘাতি ভূমিকম্পের ২য় দিন আজ । প্রশ্ন হলো আজকের দিনটি কি শুধুমাত্র ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার একটি দিন মাত্র । অথবা আফগান এবং পাকিস্তানী মানুষ এই দিনটিতে কি ভাবতে পারছে তাদের বাড়িঘর ,হাসপাতাল ,বিদ্যালয়গুলো ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ করাল গ্রাস মুক্ত করে নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।
উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার কাজ করছে ঠিক সেই সময় ভূতত্ত্ববিদরা হিন্দুকুশ ভূমিকম্প সংঘটনের প্রকৃত কারণ জানার জন্য আলোচনা শুরু করেছে । আমরা চেষ্টা করবো সমস্ত তথ্য যাচাই করে শ্রেয়তর ভূমিকম্প পূর্বাভাস করা এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির পরিমান নির্ধারণ করা ।
একজন তরঙ্গ বিশেষজ্ঞ ভূমিকম্পের থেকে প্রাপ্ত তথ্য সমূহ থেকে অধিকতর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। এটা সুস্পষ্ট যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ তরঙ্গের ফলে সৃষ্ট একটি মাত্র পিক থেকে মেটানো সম্ভব নয়। বাস্তব পক্ষে একটি পরিপূর্ণ তরঙ্গ প্রবাহ ঘটে থাকে । (Charles Francis Richter ২৭/১০/২০১৫ )
একটি দূর্গম এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের ভাঙা সড়ক ,ল্যান্ড স্লাইড এবং রেবল এর মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে । আফগানিস্তানে ৭৬০০ বাড়ি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে এবং উত্তরপূর্ব আফগানিস্তানের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় হাজারেরও অধিক আহত মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ।
২০০৫ সালে ঘটে যাওয়া ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পটির ব্যতিক্রমে এবারের টির উৎস ছিল গভীরতর ফলে ক্ষতির পরিমাণও হয়েছে কম ।২০০৫ সালের ভূমিকম্পের উৎস ইপিসেন্টার থেকে মাত্র ৬ মাইল গভীরতায় । কিন্তু গতদিনের ভূমিকম্পের উৎস ইপিসেন্টার থেকে প্রায় ১৩০+ মাইল গভীরতায় ।

মানচিত্র : হিন্দুকুশ পর্বতমালার ট্রপোম্যাপ
আফগানিস্তান- পাকিস্তান টেকটোনিজম
সম্প্রতি ৭.৫ মাত্রার হিন্দুকুশ ভূমিকম্পটি অত্র এলাকায় গত শতাব্দিতে ঘটে যাওয়া প্রধানতম ভূমিকম্প ।ভূমিকম্পটি ঘটেছিল রিভার্স চ্যুতির ইপিসেন্টার থেকে ১৩০ মাইল নীচে। রিভার্স চ্যুতির ইপিসেন্টার থেকে ১৩০ মাইল গভীরতায় ।রিভার্স চ্যুতিটি ভারত এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের কনভার্জেন্ট পরস্পর সম্মুখ চলন থেকে উদ্ভুত । এটি প্রতিবছরে ৪০ মিলিমিটার মুভ করছে ।কনভারজেন্ট মুভমেন্ট শুরু হয়েছিল ১০০ মিলিয়ন বছর আগে যখন ভারত প্লেট ভেঙে গন্ডোয়ানা মহামহাদেশ থেকে আলাদা হয়ে উত্তর দিকে চলতে শুরু করে যতক্ষণ না ইউরেশিয়া প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খায় । এবং সেটি প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর আগের কথা ।বর্তমানে ভারত প্লেটটি ইউরেশিয়া প্লেটের নীচে দেবে যাচ্ছে ।ফলে নিকটবর্তী উত্তরের পর্বতসমূহ উত্থিত হচ্ছে। থ্রাস্ট চ্যুতি (thrust fault) হয়ে এলাকাটি অস্থিতিশীল করে দিচ্ছে ।দুই মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে হিমালয় এবং হিন্দুকুশ পর্বমালার সৃষ্টি এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের উৎপত্তির কারণ ।

ছবি ঃ কনভার্জেন্ট বাউন্ডারী
সৌভাগ্যক্রমে মাঝারি গভীরতায় ভূমিকম্পটি ১৩০ মাইল পুরু স্তর অতিক্রম করে উপরে আসায় অনেক শক্তি হারিয়ে ফেলে । ফলে ক্ষতির পরিমান হ্রাস পেয়েছে । কম গভীরতায় সমান মাত্রা ও প্রকৃতির ভূমিকম্পে ক্ষতি হতো অনেক বেশি ।
আফগানিস্তান ভূমিকম্পের ভবিষ্যত
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট যার প্রভাব কিছু সময় বিদ্যমান থাকবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ১৫০ মাইলের মধ্যে ৭+ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটনের ঘটনা আছে । ভূমিকম্পগুলির উৎপত্তির কারন একই প্লেটের ক্রমাগত মুভমেন্টের ফলে সৃষ্ট যেটি চলছে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর আগে থেকে এবং এটি চলতে থাকবে দৃশ্যমান ভবিষ্যতেও ।দূর্ভাগ্যজনক হলেও কথাটি সত্য যে ভূমিকম্পের দিন মাস এমনকি বছর নির্ধারণ করা অসাধ্য প্রায়। অনেক গুলি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হয় ভুল হয়েছে অথবা শতবছরের ব্যবধানে সংঘটিত হয়েছে ফলে মানুষের খুব কম কাজে এসেছে ।

আফগানিস্তান ভূমিকম্পের ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবে জটিল। একটি ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস নিরূপনের জন্য সংলগ্ন শিলার উপর কার্যশীল টেনসাইল ফোর্স ,বহুমুখী স্ট্রেসের সমন্বয়, স্ট্রেস সঞ্চালনের ক্ষেত্র এবং অন্যান্য বিষয়গুলি সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকতে হবে । এ সমস্ত উৎপাদগুলি প্রায় ১০০ মাইল গভীরতা পর্যন্ত বিবেচনায় আনতে হবে ।
যেহেতু ভূগর্ভস্থ উপাত্ত সমূহ ভূমিকম্প বিষয়ক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে । এটি চলমান তরঙ্গ চিত্রের কার্যকর পূর্বাভাস মডেল বিনির্মানে সহায়তা করবে । পুরো পৃথিবীকে একটি গ্লোবাল ভিলেজ হিসেবে ধরলে এটি মানবজাতির জন্য সুনিশ্চিৎ মঙ্গল বয়ে আনবে । তাছাড়া উক্ত কনভারজেন্ট সীমায় কার্যরত চ্যুতির কারণে সৃস্ট ভূমিকম্প বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। সেই বিবেচনায় এটি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে ।
তাই সাইসমিক মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ করে স্থাপনা নির্মান ধ্বংসযজ্ঞ রোধে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে । এটি সহজসাধ্য ।অপরপক্ষে ভূমিকম্প পূর্বাভাস ব্যাপারটি বলতে গেলে অসম্ভভ প্রায় ।
তথ্যসূত্র ও ছবি নেট ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



