somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিম আনোয়ার
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ।ভালো লাগে কবিতা পড়তে। একসময় ক্রিকেট খেলতে খুব ভালবাসতাম। এখন সময় পেলে কবিতা লিখি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল ভালো লাগে খুব। ভালোলাগে রবীন্দ্র সংগীত আর কবিতা । সবচেয়ে ভালো লাগে স্বদেশ আর স্বাধীন ভাবে ভাবতে। মাছ ধরতে

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল স্মরণে সাম্য , দ্রোহবিদ্রোহী কবি

১৭ ই মে, ২০১৮ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। সাম্য
মানুষে মানুষে করো না বিভেদ
পারলে তাদের মিলিয়ে দিয়ো—
মানুষই আশরাফুল মাখলুকাত
এই কথাটি মাথায় রেখো।
এদেশের মানুষগুলো
গুটি কয়েক জীবন দিলো
মায়ের ভাষায় বলতে কথা
একাত্তরে লাখো জনতা করেছিলো একাত্বতা
মরণের সাথে—আরো যারা বাকী ছিলো
স্বাধীনতার সূর্য বুকে নিয়ে
অনেক দহনে তারাও জ্বলেছিলো।
তাদের মাঝে করে যারা প্রভেদ
মানবতার শত্রু তারা
হোক না তা —ক্ষমতার মসনদে বসে
চলো মোরা বাকী কটা দিন
এক সঙ্গে আনন্দে কাটিয়ে দেবো।
একটি দেশের একটি জাতি
মিলেমিশে মুরা আনন্দে মাতি ।

২। দ্রোহ

ওরে ভীরু ওরে মরা —এবার না হয় ঘুরে দাঁড়া
এদেশটা তো মায়ের মতই—সর্বনাশ তার করছে যারা
তাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে—হবি রে তোরা সর্বহারা।
ওই যে লুটে দেশের টাকা—রাজকোষাগার করছে ফাঁকা
মুখে তাদের মধুর বাণী—আসলে সব ছল চাতুরী জানি
তৃতীয় নয়নে একটু তাকা।
তার বিচারের কাঠগড়াটা আর কিছু নয় খামখেয়ালি
মানুষের অধিকার লয়ে খেলছে কারা ছিনিমিনি।
স্বাধীনতার নাম ভাঙিয়ে পরাধীনতার বীজ
করছে বপন— এই দেশের পবিত্র জমিনে।
দেশের মানুষে গড়ছে বিভেদ
উপনিবেশিক শাসকের মতো উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রাণে
স্বাধীন দেশের বুকে তারা এঁকেছে এক গভীর ক্ষত
প্রত্যাখ্যান কর না তাদের সেই মহান একাত্তরের মত।
জঙ্গী—রাজাকার সাজানো সব নাটকের মোহরায়
নিজো স্বার্থে দেশটার মুখ ডোবায় তারা— বিশ্বের দরবারে
উন্নয়নের নামে নিজের পকেট ভরছে কেবল
কালোটাকার পাহাড়ে চড়ে করছে ধরাকে সরা।
বীরজনতার সম্মান কেড়ে দেশের বাহিরে যাচ্ছে কে রে
ওরে ভীরু ওরে মরা এবার না হয় দেখরে তোরা।
তোদের পূর্বসরি যদি একাত্তরের বীরযোদ্ধারা ,
স্বদেশ ভূমির পবিত্র জমির বুকের উপর
কেমন করে যেন মরে পরে থাকিস তোরা!
অন্ধের মতো আর কতকাল পদলেহন করবি তাদের
তারাতো নয় প্রভু কোন নয় তারা দূত কোন দেবের।
মায়ের ভাষায় বলবে বলে যারা জীবন দিতে জানে
তাদের উত্তরসরী থাকবে সদা ভীরু-মরা তা কেউ কি মানে ?
এই দেশের বীরজনতা কেনা গোলাম নয়তো কারো
তাই বলি মন স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদনে দলকানার পথটা ছাড়ো
যাদের কাছে ধর্ষিত হয় এই দেশের লাখো নারী
নরেরা হয় গুম নয় ফেরারী —তাদের কি আর পায়রে শোভা
দেশ শাসনের ঝান্ডা হাতে
তাই তো বলি করো না আরাধনা পাপিষ্ঠ শাসকের কোন
কোথায় গেলে স্বাধীন তুমি এবার না হয় একটু শোন।
এদেশটাতো আমাদেরই ভাই শোষনের তরে দেইনি তুলে
পাকিস্তানীদের হাত থেকে ছিনিয়ে এনে উপনিবেশ গড়তে কোন
এই দেশের কর্তৃত্ব সব এই দেশেরই বীরজনতার তরে।
স্বাধীনতার মর্মকথা মনে প্রাণে সবাই শুনো
আমাদের দেশে আমরা যে ভাই সবাই রাজা— তা না হলে
প্রয়োজনে আবার না হয় নতুন কোন একাত্তর হবে
তবু যে দেশের সকল নর আর সকল নারী সবাই রাজা
— তেমন দেশ গড়তে হবে ।


বিদ্রোহী কবি

দ্রোহের আগুন ছড়িয়ে দিলে
কবিতা গানে শিখিয়ে গেলে
মানুষে মানুষে বৈষম্য আর নয় কোন
দুখু মিয়া নাম নিয়েও করেছো জয় দুঃখটারে
ভালোবেসে অমর হলে এই অবনীর পরে
দেশের মানুষ বাসে ভালো সবচেয়ে বেশি আজও তোমারে
তোমার কলম খানা কইতো কথা দারুন রকম ছন্দাকারে।

মাটির কথা মানুষের কথা নারীর কথা তোমার কবিতায় আছে লেখা
পৃষ্ঠা জুড়ে দারুন রকম মানবতা,

পরাধীনতার বধ্যভূমি —তোমার মানসপটে আঁকা
বাঙালি চেতনার ঐ ধ্বজা ধরে।

মসজিদ প্রাঙ্গনে শায়িত তুমি চির উন্নত শির প্রাণ
তোমার স্মরণে আজও উঠে মেতে গেয়ে ওঠে জাগরনি গান
আবহমান বাঙলার সব চির সবুজ আর তাজা প্রাণ।
লহো মোর শ্রদ্ধাঞ্জলী ওহে অগ্রজ ওহে মহান।
হৃদয়ের এই গহীন থেকে।
---------------------------------------------
বিদ্রোহী কবির জন্মদিন ১১ই জৈষ্ঠ্য, মে এর ২৫ ১৮৯৯। এইদিনে সবাই প্রিয় কবিকে নিয়ে মেতে উঠবেন। উৎসব হবে গান হবে আনন্দ হবে । কবির জন্মদিন এবার পবিত্র রমযানে। তাকে নিয়ে অনেকে কবিতা লিখবেন, প্রবন্ধ লিখবেন স্মরণ করবেন। আমি স্মরণ করি তারে শ্রদ্ধাভরে হৃদয়ের গহীন থেকে।
একটু আগেই জানিয়ে দিলাম। বাংলার দুই দিকপাল। আমাদের অমূল্য সম্পদ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। রবি বাবুকে ও স্মরণ করছি এই লেখায় নজরুলের হৃদয়ে রবির অবস্থান। মুছে দিতে সাধ‍্য কার। তাঁরা দুজন
বাঙালীর চলার পথের পাথেয়। আপাতত এ পর্য ন্তই । শ্রদ্ধাভরে স্মরি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল তোমারে। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত দান করুন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নজরুল ইসলামের সৃষ্টিতে বিরাজমান।


অন্যান্য


কোটা সংস্কার

শিবির কোটা নয় লীগ কোটা নয়
দল কোটা নয়—
তাহলে তার অন্যায় কি করে হয়?
ষোলভাগ মেধা কোটা একান্ত কাম্য
মেধা তো সার্বজনীন
দলমত নির্বিশেষে সব মানুষেরই হয়।
শিবির বললো, দল বললো নাকি লীগ বললো
সেটি তো ভাববার বিষয় নয়।
কি বলা হলো সেটিই বিবেচ‍্য বিষয়।
শিবির পড়িলে নামায তোমরা কি পড়িবে না তাই
ছাত্রলীগ ধর্ষণ করিলে তোমরা কি করিবে তাই?
না ঠিক তা ন য়—
মানুষের কি করতে হবে আল-কোরআন হাদিসে আছে
তার উপর আল্লাহ তায়ালা মানুষ কে বিবেক দিয়েছে।
তাই বলি মন যাহা হক তাহাই করো
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশটারে বিবেচনা করো।

আকাশে উড়াতে স্যাটেলাইট লাগে মেধা
কোটা তে কি আছে কিছু বৈষম্য ছাড়া।
মানবতা থাক হৃদয় জুড়ে
দেশকে পৌঁছাতে হলে উন্নতির শিখরে
প্রয়োজনে মাহাথির হতে হয়।

দেশজনতায় নেই ভেদাভেদ কোনো
কোটা প্রথারে এখনই করো হে শেষ
সতীদাহ প্রথার মতো এতেই মঙ্গল নিহিত
নহে কোন সন্দেহ সংশয়।

বর্তমান অতীতের দর্পন
--------------------------------------
প্রকৃতি অথবা মানব
বর্তমানই বলে দেবে তার অতীত-ভবিষ্যৎ- সব;

ঝড়-বৃষ্টি-সূর্যোদয়
অতীতের মতই আজো অক্ষয়;
আগামীতেও থাকিবে তা—

সুদূর অতীতেও বহিতো আজিকার মতো হাওয়া
ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
প্রাগৈতিগাসিক কালেও হতো ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বলেছে তা।

অতীত ভালো ছিলো বলেই
ভালো আছো তুমি
বর্তমান যেন অতীতের চারণভূমি।

ঠিক তেমনি ভাবিষ্যতের এপিটাফ
বর্তমানের কর্মগুণে।
বর্তমান অতীতের সুষ্পষ্ট প্রতিফলন;
বর্তমান মিলিবে অতীতের দর্পনে।


হুমায়ূন ফরীদি

লড়েছেন দেশের তরে মহান সেই একাত্তরে
মুখফুটে বলেননি কভু—অহংকারভরে
জন্মেছেন যে দেশে—পায় কি শোভা কভু তারে?
দেশপ্রেম যার হৃদয়জুড়ে।
মা—মাটি—জল তার ঋণ শোধিতে কে পারে?
তাঁর যুদ্ধের খবর
জানাবে তার প্রবাসি সুহৃদজন
সুদূর সুইডেনে বসে।
বহেমিয়ান জীবন তার খরস্রোতা নদীর মতো
তিনি ছিলেন এক মহান দাতা
ঈশ্বরের কাছ থেকে অনুগ্রহ নিয়ে
রেখেছেন নিজের করে
দিনে দিনে দান তার গিয়েছে কেবল বেড়ে
বেলি ফুলের মালা দিয়ে —বধুবরণ
ইতিহাসের পাতায় লেখা
আবারো ভালবেসে তার মরণ
একাকিত্বের আভরণ পরে।
তাঁর অনেক দুঃখ ছিলো
জানেনা কেউ তাহা
তাতেই নাকি সে অত বড়ো হলো—
অভিনয় জগতের রাজা— অভিনয় নয়তো সোজা
দেশটারে ভালোবেসে—ভালোবাসার বসন্তদিনে এসে
মহা প্রয়ান তার যে হলো—দেশের মানুষ কেঁদেছিলো
কেঁদেছিলো এক হৃদয়হীনা
অমন করে কেউ কি পারে
অভিনয়টারে গলধকরণ করে।
সৃষ্টি তাঁর কহিবে কথা
অভিনয় শিল্প যতোদিন আছে টিকে।
দক্ষিণের ঐ বঙ্গোপসাগর
তার সমান এক হৃদয় নিয়ে
সবার মুখে ফুটিয়েছেন হাসি
চোখে দানিয়েছেন জল অগণিত দর্শকের চোখে
নায়ক হলে তো কথাই নেই।
খলনায়ক হলেও তিনি— সবাই তার পক্ষ নিতো।

হুমায়ূন ফরীদি জন্মেছিলেন এই বঙ্গেতেই
যায় না ভুলা কভু তারে
মুখের উপর অবলীলায় বলে দিতেন সত্যটারে
বলবেন না কেনইবা তিনি
স্বাধীনতার সূর্যটারে
ছিনিয়ে এনেছিলেন যুদ্ধ করে —
এমন মানুষ যায়না ভুলা


সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৮ সকাল ১১:২৩
১৯টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচার করতে হবে! :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৮

চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি লুইচ্যা হামিদের সংগে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ভোল পাল্টিয়ে বিএনপিতে যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ই-পাসপোর্ট নিয়ে কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

আমার সর্বশেষ পাসপোর্টটি করেছিলাম ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। ততদিনে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ই-পাসপোর্টের অন্যতম একটি বাড়তি সুবিধে ছিল এই যে চাইলে সেটা একসাথে দশ বছরের জন্য ইস্যু... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"কর্পোরেট_ফ্যাক্টসমুহ"

লিখেছেন মামুন রেজওয়ান, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"কর্পোরেট_ফ্যাক্ট_২১"



সব সময় ইন্টার্ভিউ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমরা জানতে পারি অনলাইনে। কিন্তু যারা ইন্টার্ভিউ নেন বিভিন্ন পজিশনের জন্য তাদের অভিজ্ঞতা খুব একটা জানা হয়না আমাদের। তাই আমরাও যারা মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

×