
মহান আল্লাহ বাংলাদেশের নিপীড়িত বঞ্চিত শোষিত মজলুম মানুষের প্রতি দয়াবরাবশ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাদের মুক্তির দূত নিযুক্ত করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসম লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয়লাভ বিস্ময়কর। আল্লাহ তায়ালা মজলুমের কষ্ট সহ্য করেন না। মজলুমের ফরিয়াদে আল্লাহর আরশ মহল্লা কেঁপে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ও প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু। আমরা স্বাধীনতা লাভ করি দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করি পাক হানাদারদের জুলুম অত্যাচার থেকে বৈষম্য থেকে। এত বড় নেকীর কাজ ক'জনে করেছে। উম্মুল মুমেনিন ওমর রাঃ এর ঘটনার সাথে বিষয়টির সাদৃশ্য আছে। যদিও দুজনার তুলনা অনুচিত। কথিত আছে ওমর রাঃ এর খিলাফতের প্রাণীরাও ভয়ে থাকতো। ভূমিকম্পেরও জবাবদিহীতা লাগতো। মুসলিম জাহানের ২য় খলিফা হযরত ওমর( রাঃ)মক্কায় বসে শাহাদাতের দোয়া করতেন এটা ছিল তার একান্ত প্রার্থনা। অথচ খলিফা হওয়াতে জিহাদে যাওয়ার কোনো সুযোগই তাঁর ছিল না। আল্লাহ তায়ালা উনার দোয়া কবুল করেছিলেন। উনি মক্কায় বসে শাহাদাৎ লাভ করেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দিবো তবু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রিয় বান্দা বঙ্গবন্ধুর কথার সম্মান রেখেছিলেন । বঙ্গবন্ধু আরও রক্ত দিয়েছিলেন। ব্যাপারটি বেদনাদায়ক। বদরের যুদ্ধে মক্কার কাফের আর রসুল সাঃ এর বাহিনীর মধ্যে শক্তির বিশাল ব্যবধান। অথচ ৩১৩ জন সাহাবী ১০০০ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন । আল্লাহ তায়ালা মজলুমদের পক্ষে আছেন । মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ তার অকাট্য প্রমান। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছু যদি না হয়ে থাকে মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুকে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এত বড় দায়িত্ব দাসত্ব থেকে জুলুম থেকে মুক্তির দায়িত্ব করিয়েছেন। ব্যাপারটি অন্যভাবে ভাবার সুয়োগ নেই । একটা পাখি মুক্ত করা যদি জানের ছদকা হয়। সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুক্তি কত বড় পূণ্যি। একজন গোলাম আযাদ করায় যদি এতো ছওয়াব তাহলে সাড়ে সাত কোটি মানুষের আযাদ কতটুকু পূণ্যের। বিষয়টি এভাবে ভাবতে হবে । আজকের এই দিনে মুজিব তোমায় পড়ে মনে। ১৫ আগস্ট অবশ্যই দুঃখের দিন। অনেক আগে থেকে আমার মনে এ রকম স্বান্তনা ভাবনা কাজ করে। আল্লাহ তায়ালা বঙ্গবন্ধুকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক । আর আজকের পৃথিবীতে যারা মজলুম সীমাহীন অত্যাচারিত আল্লাহ তাদের মুক্তির ফায়সালা করে দিক তাদের ঘরে ঘরে মুজিব হোক অত্যাচারির মুক্তির সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম সফল হোক । বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭ মার্চ আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ অনবদ্য অনন্য ।
কবিতা
________
লহো মোর শ্রদ্ধাঞ্জলি সুপ্রিয় বঙ্গবন্ধু
আমরা আজও ভুলি নাই,
কীর্তি তোমার বাংলাদেশ— আমরা স্বাধীন জাতি
আজকের এই দিনে— তোমায় খুঁজি তাই।
কন্ঠে তোমার ৭১ এর অগ্নিঝরা দিনগুলি
এই দু'চোখে ওঠে ভেসে যেন গল্প কবিতায়,
আজকের এই দিনে পড়ে মনে তোমায়
দিল্লি জ্বলে কাশ্মীর জ্বলে জ্বলে উঁইঘুর
আজও নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের
—কষ্টের শেষ নাই ।
তুমি এসেছিলে মুক্তির বার্তা নিয়ে
দৃপ্ত কণ্ঠে সেদিন তুমিই শুনিয়েছিলে
' এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,
জয়বাংলা!" আমার স্বাধীন তাই।
ইতিহাসের পাতায়
লেখা আছে আজও— মাতৃভূমি বাংলাদেশ,
বুকের তাজা রক্ত — রক্তের আলপনা
একটি মানচিত্র ,
লাল সবুজ রঙে আঁকা একটি পতাকা
আমরা ভুলি নাই ।
ভুলবো না কোনদিন আমার মায়ের ঋণ
বাংলা আমার মা—পদ্মা মেঘনা যমুনা
কবিতা লিখে লিখে করিতেছি তার তরজমা
যেন বলতে পারি বঙ্গবন্ধু তোমায় ভালোবাসি
আজকে সারাদিন আমার হৃদয় জুড়ে
অবাক শিহরণ— তোমায় যেন খুঁজি
এই হৃদয় দিয়েই বুঝি তোমার দেয়া ঋণ
শোধতো হবে না— আজিকে সেই দিন,
তোমার দেয়া সেই প্রেরণা রেসকোর্স ময়দান
থেকে থেকে আজও ইথারে ভেসে আসে
শ্র দ্ধাঞ্জলী তোমায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
কীর্তি তোমার যুগ যুগ ধরে রবে অমলিন।
ছবি নেট থেকে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



