কানের কাছে নিয়ে দগদগে ক্ষত
যেন সেই কাহাফের কুকুর— প্রহরারত,
দোতলার রূদ্ধদ্বার করোক্রান্ত পরিবার
দেখি তারে রোজ।
বুকটা উঠে কেঁপে এই ভেবে
কেমন বৈরী অবস্থায় পড়ে সাত ভাই
মাত্র তিনশত নয় বছর খন্দকে থেকে
করেছেন রক্ষা বিশ্বাসী জীবন
জালিমের হাত থেকে।
দেখি আহত কুকুর চতুর্থ তলায়
নিয়েছে আজিকে অবস্থান ,
হয়তো রূদ্ধদ্বার ঘরে থেকে
পায়নি খাবারের সন্ধান — তাই
চলছিল আমার পিছু
সিঁড়ি ভেঙে নামছি যখন
আমি ধমকে দিই বারবার ,
কুকুরটা পিছু নিয়েছিল
কিছু কি চাইছিলো— ভাবিনি তখন?
জানি না কি তার সমাচার।
এটা তো আর . ডালমেশিয়ান ডগ নয়!
ঘরে প্রবেশের অনেক পরে
মনে হলো কুকুরটা হয়তো পায়নি খাবার,
বেশ কয়েক দিন ধরে—
হয়তো রয়েছে অনাহারে।
এমন করে, কেন যে ভাবিনি আগে?
ভেবে ভেবে ব্যথা ভরা— মম প্রাণ
কত কষ্টে আছে— এক বুভুক্ষু প্রাণ।
হয়তো যাবেই মরে অনাদরে,
না খেয়ে কতদিন বেঁচে থাকা যায়।
করোনার কড়াল গ্রাসে পড়ে
মানুষ শুধু নয় গৃহপালিত পশুরাও
সুখে নেই, কেউ সুখে নেই, কেউ নেই—
দূর্নীতি ভরাদেশ বাড়ায় শুধু কষ্ট ক্লেশ,
সুকৌশলে তবুও কপট খেলে যায়
শিকারের নেশায় ক্ষমতার অপব্যবহারে
পথের কুকুর না খেয়েই তবে মরবে পথে
মরবে শ্রমিক দিন মজুর ..
মনে হয় শকুনীর লোভী চোখে পড়ে যেন
মরণ উপত্যকা আজ গোটা স্বদেশ
যেন সেই এক জোড়া বুভুক্ষু চোখ;
অন্নের সন্ধানে চেয়ে থাকা
হয়তো মৃত্যুর প্রহরী
অসহায় সেই একটি কুকুর।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



