somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় ‘মুক্তমন’ এর আবৃত্তি সন্ধ্যা

০৮ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় ‘মুক্তমন’ এর আবৃত্তি সন্ধ্যা

সেরীন ফেরদৌস

রবীঠাকুরকে শুরুতেই স্মরণ করতে হবে,
‘কেহবা দ্যাখে মুখ, কেহবা দেহ
কেহবা ভালো বলে, বলেনা কেহ
ফুলের মালাগাছি বিকাতে আসিয়াছি
পরখ করে স’বে, করেনা স্নেহ।’

আহমেদ হোসেনের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় আবৃত্তি সংগঠন ‘মুক্তমন’ এর আবৃত্তিসন্ধ্যা নিয়ে লিখতে বসে এমনতরো ভূমিকা ‘পরখ না করতে চাওয়ার’ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে মন চায়। গত ২৭ জুন প্রবল বর্ষণে ঢলে পরা সন্ধ্যায় টরন্টোর রয়াল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে আয়োজিত এ ধরনের উদ্যোগ নি:সন্দেহে নিদর্শন হয়ে থাকবে অন্তত এই বিবেচনায় যে, কানাডায় শুধু কবিতা নিয়ে দু’ঘণ্টাধিক এধরনের স্পর্ধিত আয়োজন এই প্রথম।

মোট সাতজন আবৃত্তিশিল্পী-আহমেদ হোসেন, শেখর গোমেজ, অনিন্দ্য শান্ত, অরুণা হায়দার, দিলারা নাহার, মেরী হাওলাদার এবং আদিল কাজী কণ্ঠে ধারণ করে উপস্থাপন করা যায় এমনতরো প্রায় সবগুলি ধারা ( ছড়া, কবিতা, বক্তৃতা, চিঠি, নাটকের সংলাপ, সঙ্গীত, শ্লোগান, পাঠ প্রমুখ) উপস্থাপন করেছেন সেই সন্ধ্যায়। রবীঠাকুর-জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে শামসুর রাহমান-সুকান্ত-হেলাল হাফিজসহ আরো অনেককেই উপস্থাপন করেছেন তাঁরা । এমনকি বর্তমানে টরন্টোতে স্থায়ী অবস্থানরত কবি ও নাট্যকারের নাট্যাংশ এবং কবিতাও ছিলো তাঁদের উপস্থাপনের তালিকায়।

দর্শকতৃপ্তির কথা বলতে হলে অবশ্যই বলতে হবে, কারো আশাভঙ্গ হয়নি। বিরামহীন দু’ঘণ্টা বসে থাকবার জন্য যেমন তৈরি হয়েই এসেছিলেন তাঁরা, তেমনি আবৃত্তিকাররাও তাঁদেরকে তৃপ্ত করতে পেরেছেন। মিলনায়তনের মেদহীন নীরবতা, যথাযোগ্য হাততালি এবং ভাষাহীন প্রতিক্রিয়া অন্তত তাই প্রমাণ করে। এই আবৃত্তিকারদেরকে যাঁরা চেনেন, বা আগে আবৃত্তি শুনেছেন তাঁদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করেতে পেরেছেন তাঁরা তার সবটুকু ভালো করে জানা হয়নি এখনো। কবিতাবোদ্ধার চোখ নয়, আমার নবিস চোখ আর মন অন্তত: আপ্লুত হয়েছিলো বলাই বাহুল্য! বলতেই হবে, কি অপূর্ব আবেগে শেখর গোমেজ, অনিন্দ্য শান্ত আর দিলারা নাহার ছুঁয়ে ছুঁয়ে গিয়েছে! সময় গড়িয়ে অপেক্ষা ভারী থেকে আরো বেশি ভারী করে তুলেছিলো তারা। যেন নি:শ্বাস ফেলবার কথা ভুলে গিয়েছিলো অনেকেই!

সবাইকে অবাক করে দিয়ে সভাপতি আর বক্তৃতাবিহীন সে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের ৬ মিনিট আগেই, শ্রদ্ধাভরে খালিপায়ে মঞ্চে উঠে এসেছিলেন শিল্পীরা। সবাই দেখতে পেলো অর্ধচন্দ্রাকারে দাঁড়িয়ে ছিলো পোশাকের ছন্দিত রঙগুলো- কালো, হলুদ, কালো, নীল, কালো, সোনালি, কালো। কালোর পটভূমিতে হলুদ-সবুজ-গোলাপী কাপড়ের ঢেউখেলানো আঁচল কি ‘নদীমাতৃক বাংলা-মা’কেই মনে করিয়ে দেয় না!

বিদেশ-বিভূঁইয়ে শুধুমাত্র কণ্ঠের কারুকাজের উপর ভরসা করে অবশ্যই বিরাট একটা সাহস দেখিয়েছেন আহমেদ হোসেন। সাথে সাথে অনেককিছুই নানা সীমাবদ্ধতার কারণেই সাধ থাকলেও করে উঠতে পারেননি আয়োজকরা। পরিপার্শ্ব বিবেচনা করলে তারা নানাকিছুর বাইরে চাইলেও যেতে পারেননি। তাই হয়তো বেশ কিছু জায়গায় যন্ত্রসঙ্গীতের অভাববোধটা অনুভূত হয়েছে। আলো থেকে গেছে সাদামাটা। অনুষ্ঠানটি নিয়ে যে বেশ টেনশন কাজ করেছে কিছু কিছু আবৃত্তিশিল্পীদের মনে, তা কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে। এটাই বোধহয় স্বাভাবিক; বিদেশের বাড়িতে চুল বাঁধা আর রান্না করা একই হাতে করতে হয়। তাই আহমেদ হোসেনকেই একটু বেশি ক্লান্ত মনে হয়েছিল। বিদ্রোহী কবিতার পরপরই না করে আরেকটু বেশি সময় পরে অনিন্দ্য শান্তের ‘বনলতা সেন’ এর মতো কোমল কবিতাটি জুড়ে দেয়া যেত হয়তো। মেরী হাওলাদারের চমৎকার উচ্চারণের সঙ্গে কণ্ঠে আবেগ আর দরদ আরেকটু উঠে আসতে পারতো, দিলারা নাহারের আবেগের সঙ্গে মিশতে পারতো আরেকটু উচ্চারণের শুদ্ধতা! অরুণার ‘হাস্কি’ ভয়েস সর্বদাই সংলাপের জন্য মানানসই। মোটা দাগে যেটা বলা যায় তা হল, আরো একটু অনুশীলন হলে, আরেকটু বেশি ভালো হতো হয়তো।

প্রবাসের এই দ্রুততম জীবনযাপনে কি পরম মমতায়, কি পরিশ্রমের পর প্রত্যেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন এরকম একটি উপস্থাপনা দেবার জন্য- তা অনুমানসাপেক্ষ। উদ্যোগ নেবার সবটুকু কৃতিত্ব আহমেদ হোসেনের হলেও তাঁর দলের সদস্যদেরও প্রশংসা করতে হয়। ওঁদের প্রত্যেকের প্রতি শুভকামনা এবং দর্শক-শ্রোতা হিসেবে আগামীতেও এধরণের আয়োজন উপভোগ করার প্রত্যাশায় রইলাম।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×