somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায় সেলুকাস!! বাংলাদেশে বছরে দুই ঈদ চারদিন পালন!! এ.ও কি সম্ভব???

১৩ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন, বাংলাদেশ কুরআন ও হাদিস গবেষনা পরিষদের অতিথি বৃন্দ ও আলোচকগন।

সত্যের ছায়া: বাংলাদেশের কোন কোন জেলায় ঈদুল ফিতর ও আযহা উদযাপন হয় এক দিন আগে ও পরে। বেশ কয়েক বছর ধরেই শুরু হওয়া বিষয়টি এখন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, এমন কি সম্ভবত ছোঁয়াচে ব্যাধির মত খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের দু একটি এলাকায় শাওয়াল মাসের এক তারিখ ঈদ উদযাপন না করে রমজান মাসের ২৯ বা ত্রিশ তারিখেই ওরা সকাল বেলা ঈদের নামাজ পড়ে হাস্যকর ভাবে কোলাকুলি শুরু করে দেয় । ওরা ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ীতে এস দেখে বাড়ীর অন্য কোন সদস্য হয়তো ত্রিশ তম রোজা পালন করছে । বিষয়টি হচ্ছে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু করা এবং রোজা শেষে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন না করলে ওদের মতে কোন কিছুই শুদ্ধ হবেনা । বাংলাদেশের মানুষের ধর্মপ্রাণ হবার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর পীর নামধারি ধর্ম ব্যবসায়ি গোষ্ঠী মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা পালন করাকে বিতর্কিত রুপ দিচ্ছে ।

6 তারিখে যেহেতু সৌদি আরবে ঈদ উদযাপিত হবে , তাই বরাবরের মত এবারও দক্ষিন চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলার ৩০ টি গ্রামে ঈদ উদযাপিত হবে । পটুয়াখালির ২২টি গ্রামের ৫০০ এর অধিক পরিবার এবং শরিয়ত পুরের ডামুড্যা উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে 6 তারিখ ঈদ উদযাপন করবে। । চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ সহ চারটি উপজেলার মট ৪০ টি গ্রামে র ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে । ফরিদপুর জেলার ভাংঙ্গা থানায়ও কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপন করা হয় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে। এর বাইরেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পীর-আক্রান্ত অনেক এলাকার শত শত পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করবে ।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনকারিদের আজকের সংখ্যাটি কিন্তু আজ থেকে দশ পনেরো বছর আগে এক দশমাংশের বেশী ছিলনা । সচেতনতার অভাবে আজ এ সমস্যা এভাবে মহামারির রূপ ধারন করেছে ।
এভাবে চলতে থাকলে, দেশে যে হারে পীর -কামেলের সংখ্যা এবং মতলববাজ অনুসারির সংখ্যা বেড়ে চলেছে অচিরেই দেশে ঈদ উদযাপনের তারিখ নিয়ে দাঙ্গা ফ্যাসাদ শুরু হওয়া বিচিত্র নয়।


ঈদ শেষে মুসুল্লিদের কোলাকোলি।

এ বিষয়ে সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের ঘুম কবে ভাঙ্গবে ? দেশে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা মাদ্রাসার আলেম সম্প্রদায় মুখে কেন কুলুপ এঁটে আছে , চিন্তার বিষয় । কথায় কথায় ফতোয়া জারি করা ইসলামি চিন্তাবিদ , আল্লামা শায়েখ খেতাব বহনকারি ওস্তাদদের মুখেও বোধগম্য কারনেই কুলুপ এঁটে দেওয়া আছে ।
এ সমস্ত পীর কামেল নামধারি ধর্ম ব্যবসায়িরা ইসলাম ধর্ম অনুসারি বিপুল জনগোষ্ঠীর এদেশে ইসলাম ধর্মকে বিতর্কিত করে যাচ্ছে , এদের সুপথে ফিরিয়ে আনা এখন আর সহজ কাজটি নয়। সরকার যদি এখন ই উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টির সমাধান না করে তবে এমন সময় আসবে ঈদ উদযাপন নিয়ে এদশের মুসলমানরা ইরাক -ইরানের শিয়া সুন্নি বিভেদের মত অবস্থায় উপনীত হতে বেশী সময় লাগবেনা ।


সত্যের ছায়া’য় তৈরি ফটো কমেন্টস

যদিও
শরিয়ত অনুসারে চাঁদ দেখে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করতে হবে, সৌদি আরবকে অনুসরণ বা অনুকরণ করে নয়। সবাইকে এ আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোরআন ও হাদিস গবেষণা ফাউন্ডেশন।
শনিবার (০৪ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘শরিয়ত মোতাবেক চাঁদ দেখে রোজা রাখুন ও ঈদ উদযাপন করুন’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে বক্তারা নবী করিম (সা.) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, প্রিয় নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো আর চাঁদ দেখে ইফতার করো, ঈদ উদযাপন করো। তোমরা একটি বা দু’টি রোজা দ্বারা রমজানের অগ্রগামী হয়ো না’।

অর্থাৎ, ২৯ শাবান চাঁদ দেখেই রমজানের রোজা শুরু করতে হবে। ওই দিন চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ করতে হবে। হাদিস, কোরআন ও ফেকাহ’র কিতাবগুলোতে কোথাও এ কথা বলা হয়নি যে, সৌদি আরবে চাঁদ উঠলেই বাংলাদেশে রোজা ফরজ হয়ে যাবে। স্মরণ রাখতে হবে, চান্দ্র মাস ২৯ ও ৩০ দিনে হয়, ২৮ বা ৩১ দিনে হয় না। বাংলাদেশের আকাশে ২৯ শাবান বা ৩০ শাবান রমজানের চাঁদ দেখা গেলে রমজানের রোজা ফরজ হবে।
বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. মুফতি মাওলানা কফিল উদ্দিন সরকার সালেহি সেমিনারে বলেন, ‘এটা একটা জ্ঞানবহিভূর্ত প্রস্তাব। আমরা কেনো তাদের সঙ্গে মিল রেখে রোজা-ঈদ পালন করবো? হাদিসে স্পস্ট বলে দেওয়া আছে যে, চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ পালন করতে হবে, আমরা চাঁদ দেখেই করবো। এটাই সহি’।

সিদ্ধেশ্বরী জামে মসজিদের খতিব মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘আপনারা আংশিক পালন করবেন আর বাকিগুলো করবেন না, তা তো হয় না’।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি রোজা আর ঈদ সৌদি আরবকে অনুসরণ করে পালন করেন, তাহলে ইফতার, সেহেরি, তারাবি সবকিছুই তারা যে সময় করেন, তখন করবেন’।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কোরআন ও হাদিস গবেষণা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা মো. শহীদুল্লাহ পাটোয়ারী।
বাংলাদেশ সময়: ১৮৪৫ ঘণ্টা, জুন ০৪, ২০১৬


ঈদের নামাজে মুসুল্লিরা

বছরে দুই ঈদে 4 দিন পালন নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,
(১) সৌদি আরবে ইফতার হয় আমাদের দেশে যখন রাত ১০টা । সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনকারীরা রাত ১০টায় ইফতার করেন না কেন? মাগরিব নামাজ কেন রাত ১০টায় পড়েন না ?
(২) সৌদি আরবে ফজরের ওয়াক্ত হয় তখন, যখন আমাদের দেশে সকাল ৮টা , তাহলে সকাল ৮টায় ফজর নামাজ আদায় করা হয় না কেন? ?
(৩) আমাদের দেশে যখন সকাল ৭টা বাজে তখন সৌদি আরবের সেহেরির সময়, তাহলে কি আমরা সকাল ৭টায় সেহেরি কবর?

মিডিয়ার কথা একটু বলে শেষ করি । টক শো করে প্রতিটা চ্যানেল বহু স্বঘোষিত `আতেল’ দেশবাসিকে উপহার দিয়েছে । আমরা দেশবাসী এই বিষয়টির উপর ধারাবাহিক টক শো দেখতে চাই । পীর উপদ্রুত এলাকার সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ গুলো কে সত্য জানানো যায় এমন ব্যবস্থা টিভি চ্যানেল গুলোর করা উচিত ।
সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিয়ে এর সুরাহা করা উচিত । ইসলাম ধর্মের লোকাল এজেন্ট , বেহেশতের টিকিট বিক্রয়ের ডিলার অনেক পীর কামেল বুজুর্গ এমনকি নিজেদেরকে দেশের মুরুব্বি বলে জাহির করতে লজ্জা পায়না এমন বিজ্ঞ ব্যক্তিদের টিভিতে টক শো করতে দেওয়া হোক এ বিষয়ের উপর । দেখি উনারা কি বলেন এ ব্যপারে ।


চিরাচরিত দৃশ্য

সবাইকে সামুর তরফ থেকে অগ্রীম ঈদ মোবারক ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১১:০৬
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×