somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন-কথাঃ ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন-কথাঃ ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার

ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁর উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে ১৩২৬ বঙ্গাব্দের ২৬ আশ্বিন আবদুল জব্বার জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম শেখ হাছেন আলী ও মাতা সাফাতুন্নেসা। জব্বার ছিলেন পিতামাতার প্রথম সন্তান। স্থানিয় ধোপাঘাট কৃষ্ট বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।পরিবারের দারিদ্রতার কারনে তাঁর লেখাপড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে। পিতাকে কৃষি কাজে সহায়তা করার জন্য তাঁকে লাঙ্গল নিয়ে মাঠে যেতে হয়। তাঁর স্বভাবের মধ্যে হেঁয়ালি ভাব ছিল। পিতামাতার শাসেেনর ভয়ে মাঝেমাঝে তিনি বাড়ি ছেড়ে উধাও হয়ে যেতেন।একবার তিনি ঘর থেকে পালিয়ে ট্রেনে চড়ে নারায়নগঞ্জ চলে যান। নারায়নগঞ্জ জাহাজ ঘাটে এক জন ইংরেজের সাথে পরিচয় হয়। ঐ ইংরেজের সহায়তায় একটি কাজ নিয়ে তিনি বার্মা চলে যান। এজন্য তিনি দীর্ঘকাল বার্মায় আবস্থান করেন। ঐ সময় তিনি ইংরেজী ভাষা শিখেন। এক নাগারে দশ-বারো বছর বার্মায় কাটানোর পর একদিন তাঁর জন্মভূমির কথা ও মায়ের কথা মনে পড়ে। মায়ের স্নেহের প্রবল টানে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। নিখোঁজ পুত্রকে পেয়ে মা সাফাতুন্নেসা আনন্দে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রিয় পুত্রকে তিনি বুকে টেনে নেন। ইতিমধ্যে আবদুল জব্বার এর পিতার মৃত্যু হয়েছিল। দেশে ফিরে তিনি ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ছোট-খাটো ব্যবসা-বানিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৯৪৯ সালে পাঁচুয়া গ্রামের আমেনা খাতুন এর সাথে সাফাতুন্নেসা পুত্রের বিবাহ দেন। তাদের একজন পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। পুত্রের নাম রাখা হয় নূরুল ইসলাম বাদল। এর কিছু কাল পর শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। পাকিস্তানের প্রতি আবদুল জব্বার এর আস্থা ছিলনা। বন্ধু-বান্ধব, আত্মিয়-স্বজন, পরিচিতজন ও গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনার সময় পাকিস্তানকে তিনি ফাহিস্তান বলে উপহাস করতেন।
১৯৫২ এর ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হাজার-হাজর সংগ্রামী জনতার সমাবেশে আবদুল জব্বার যোগদান করেন। আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ গুলি চালায়। বুলেট বিদ্ধ হয়ে আবদুল জব্বার গুরুতর আহত হন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ দিন রাতে হাসপাতালে তিনি ইহকাল ত্যাগ করেন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে আফন করা হয়।
আবদুল জব্বার ১৯৫২-র গৌরবময় ভাষা আন্দোলনের একজন অমর শহীদ। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের অন্যতম ভাষা হিসাবে বাংলা শাসনতান্ত্রিক স্বীকৃতি লাভ করে। বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে তাঁকে মরনোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×