somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাশ্বত বাঙালি নারি

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই বোন নিপা ও ফারিন। দুইজনই একটি হাইয়ার মিডেল ক্লাস ফ্যামিলি তে থাকে। ছোটকাল থেকেই সবার মতো তারাও স্কুল ,কলেজে যেত এবং যায়। নিপা ও ফারিনের বয়সের পার্থক্য ৫ বছর , নিপা বড়। সে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে আর ফারিন সদ্দমাত্র কলেজ লাইফে প্রবেশ করল।
গল্পটার প্রথম অংশ পড়ে হয়তো মনে হবে যে , সবই তো ঠিক আছে , কিন্তু না ,সব ঠিক নেই।
সবকিছু কখনই থিক হয় না , ভেজাল রয়েই যায়।
নিপা, ফারিন কক্ষনোই তাদের বাবার আদর পাই নি। কারন, এইটা না যে, তাদের বাবা-মা ডিভোর্সড অথবা বাবা তাদের সাথে তাদের বাসায় থাকে না , ইত্যাদি।
আসলে, তাদের বাবা "ফিমেল চাইল্ড" পছন্দ করেন না, তার কিনা সুধু ছেলের দরকার!!! মেয়ের কোন মূল্যই তার কাছে নেই। তাদের বাবা তাদের সাথেই থাকে কিন্তু অন্য রুমে ও পুরোই আলাদা ।
তারা যখন জন্ম নেয় এবং জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত , এই দুই বোন কখনোই বাবার আদর পায় নাই।
তাদের মার জীবন তো অর্ধেক শেষ ,আর বেশী কিছুই চাওয়ার নেই তার এই জীবন থেকে। তিনি সুধু তার দুই মেয়ের সুখের সংসার দেখতে চান, যেই সুখ ও যেই সংসার তিনি কক্ষনোই পাননি। সুধু পেয়েছেন দুঃখ আর শুনেছেন একটা ছেলে না হওয়ার বন্দনা । তাদের বাবা এখন আরও একটা বিয়ে করেছে এবং সে সংসারে দুটো ছেলেও হয়েছে। তবে, তা শুনে ও দেখে নিপা ও ফারিনের মা তার স্বামীর এই জঘন্য ও বর্বর কাজে কোনরকম বাধা দিলেন না ।কেননা, তিনিই তার পরিবারের একমাত্র "আরনিং সোর্স " এবং এখনও মেয়েগুলোর পুরো জীবন পরে আছে আর এখনই যদি উনি নিজের স্বার্থের কোন প্রকার কাজ করেন, তা হবে আরও দুঃখজনক।উনি না পারছেন কিছু করতে ,যদিও তিনি এম.বি.এ কমপ্লিট করা। যেহেতু, তার পড়াশুনা শেষ করার পর পরই তিনি কোন চাকরিতে ঢুকেনই ,তাই এখন তিনি ওই ভুল এর লক্ষন দেখতে পারছেন ও কষ্টতেও ভুগতে হচ্ছে।
নিপা তার জীবনসঙ্গী ঠিক করে রেখেছে, যে কিনা তাকে এই পিতৃহীন যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দিয়ে, তাকে নিয়ে যাবে এক স্বর্গে , যে স্বর্গ কিনা প্রত্যেক নারীর প্রাপ্য। যে স্বর্গ কক্ষনোই তার মা পায় নি।
কিন্তু ফারিন !!! তার কি হবে? সে কি পাবে কাউকে, যে তার সব সিচুয়েসন বুঝে তাকে গ্রহন করবে!!! যে যাই বলুক, সে তো আর ,তার বোন এর ভাগ্য নিয়ে বসে নেই!!!
ফারিন সব সময় মনে মনে, তার বাবাকে মারার প্ল্যান করে, করবেও বা না কেন?? যেই যন্ত্রণা তার বাবা তার মাকে দিয়েছে, তা বলার মতো না। নিপা , ফারিন যখন ছোট ছিল তখন তার মা এর উপর আঘাত (ফিসিকাল ভায়োলেন্স) করা হয়েছিলো, মানুষটি ছিল তার বাবা।
তাদের মা এখনও উনার স্বামীকে অসম্ভভ ভালবাসেন , হয়তো সেই আশায় যে তার পুরানো স্বামী আবার সব কিছু ভুলে গিয়ে ,তার সব ভুল মেনে নিয়ে ,ফিরে আসবে। ফারিন ও তার মা প্রতিদিন রাতে প্রচণ্ড কাঁদে। হয়তো কখনও মনের ভিতর আবার কখনও উজার করে কাঁদে। দুইজন দুইজনের রুমে একা একা চুপ হয়ে কাঁদতে থাকে। কিন্তু কেউ কাউকে সেই কাঁদার কারন জিজ্ঞেসও করে না আবার এই ব্যাপারে কথাও বলে না এবং এইভাবেই দিনগুলো চলে যাচ্ছে।
আর, আমাদের দেশে এইরকম মানুষ আরও ভয়ানক হচ্ছে , হয়তো এইরকম জঘন্য কাজকর্ম কমে যাচ্ছে কিন্তু এদের আড়ালে অনেকেই ফায়দা লুটছে।
আমি জানি, সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যাবে এইসকল নারীরা। আর আমাদের খুদ্র অবদানও কাজে আসবে না ।
আমাদের আসে পাঁশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এসকল শশ্বত বাঙালি নারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×