somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার মানুষকে শেষ বারের মত বিদায় বলা যে এত সহজ জানতাম না।

২৪ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৪:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০০৮ সালে আমাদের ভার্সিটির ওরিয়েন্টেশনে তাকে দেখি এবং প্রেমে পড়ি। তার সাথে কোর্স পড়ে ৩য় সেমিষ্টারে (৮ মাস পর)। এর পরের সেমিষ্টারে ভূলেই বলে ফেলি যে ভালবাসি। দিনটি ছিল মার্চের ১৭ তারিখ। সে কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল, যারা দেখেছিল সবাই বলল যে সে আমাকে ভালবাসে আগে থেকেই, না হলে এমন হত না।

অনেক নাটকিয়তা শেষে এপ্রিলের ২৩ তারিখ সে আমাকে এসএমএস করে জানাল যে সে আমাকে ভালবাসে। এর পর তাকে নিয়ে ঘোরা ফেরা, স্বাভাবিক ভাবে যা হয় আর কি। মাত্র ৩টা কিস (তাও অপূর্ণ)। চলতে থাকল। মার্চের ২৭ তারিখ তার সাথে শেষ বারের মত ঘুরতে বের হওয়া। এর পর আর বের হয় নি। ভার্সিটিতে দেখা হত, তাই আর কিছুই চাইতাম না। তার নাকি বাসা থেকে প্রবলেম ছিল।

প্রচন্ড ভালবাসতাম। তার কাছ থেকে যা পেতাম তাকে ভালবাসা পুরোপুরি বলা চলে না। এক অর্থে অবহেলা। তবে সে সব সময় বলতো যে বিয়ে হলেই আমি স্বাভাবিক হব। এই পর্যন্ত সে যা যা চেয়েছে তার কিছুই অপূর্ণ রাখি নি।

অনেকবার বড় বড় দোষ করেছে, ঝগড়া পর্যন্ত করি নি, ভালবাসতাম। তাই করতে পারিনি।

সে ছিল তার ইচ্ছা স্বাধীন, আর আমি তাকে বাঁধা দিতাম না। সেটাই কাল হয়ে দাড়াল। তবে সেটা বুঝতে চলে গেল পুরো ২ বছর ৩ মাস ২৫ দিন।

কয়েকদিন আগে তার সব স্কুল ফ্রেন্ডরা মিলে ঘোরাঘুরি শুরু করল, মাঝে মধ্যেই যেত। কিছুটা খারাপ লাগত, কিন্ত কিছুই বলতাম না।

হঠাৎ আগষ্ট ১৮, ২০১১ তে বলল সে নাকি আমাকে ফ্রেন্ড মনে করে, আগের সব ছিল মিথ্যা। সে নাকি আমাকে ভালবাসতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। সে এখন অন্য একজনকে বেশি ভাল বাসে। তাকে যেতে দিলাম। কিন্তু তার পরিবারের সবাই আমাকে চিনত, এবং খুব ভাল বলেই জানত। সেটা সমস্যা সৃষ্টি করবে তা সে জানত। তাই সে বুদ্ধি বের করল যে আমার কথা তার বাসায় বলবে যে আমি অন্য একটি মেয়েকে ভালবাসি। এটা মেনে নিতে পারলাম না।

সন্দেহ বাড়তে থাকল যখন তার বাসার লোকজন আমার সাথে কথা একটু কম বলা শুরু করল, তাই বাদ্য হয়ে সব বললাম। তার বাসা থেকে তখন তাকে দুটি অপশন দিল,
১. একা থাক
২. শফিউলের সাথে থাক

সে ২ নং টা নিল। কেন নিল বুঝতে একটু দেরি হল। তাও মাত্র ২দিন। এর মধ্যেই সে তার মুখ খুলল। সে আবার আমাকে দিয়ে ঐ কথাটাই বলাবার চেষ্টা করল। আমি বললাম সম্ভব নয়। তখন সে আমাকে বলল যে তাহলে সে আমার সাথে থাকতে পারবে না।

তাকে প্রশ্ন করলাম যে আমি না থাকলে সে ভাল থাকবে কিনা। সে হ্যাঁ বলল। বললাম, যাও, আমি আর তোমাকে আমার সাথে থাকার জন্য বলছি না। তুমি কি খুশি।
সে হ্যাঁ বলল।
খুব আনন্দ লাগল, অনন্ত এতদিনে সে একবার আমার কোন কথায় খুশি হয়ে সেটা প্রকাশ করল। সে যেমন আমাকে মাঝে মধ্যে "ভালোবাসি" বলে খুশি করতো, ঠিক সেই রকম ভাবেই আমিও তাকে যেতে বলে খুশি করলাম।

কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল, কিন্তু তখনই সে বোমা ফাটাল। তার ধারণ আমি নাকি তাকে ছাড়া বাচঁব না। প্রতিজ্ঞা করলাম, তার প্রতারণার কোন প্রতিশোষ না নিলেও তার ধারণাকে পাল্টে ফেলব।

তুমি যেখানেই যাও না কেন, একদিন তুমি তোমার কৃত কর্মের ফল ভোগ করবে। তোমার জন্য আমি যা করেছি, তা তুমি আর কারও কাছে পাবে? তুমি নিজেই জান পাবে না। এই ২বছরে একটি বারও সন্দেহ করি নি, একটি বারও তোমার গায়ে হাত তোলা দুরে থাকুক, জোরে চিৎকার করে ঝগড়া করিনি।

তোমাকে ধরে রাখতে পারিনি, এটা যেমন আমার বর্থ্যতা, আমাকে দেয়া কোন কথাই তুমি রাখতে পারনি, এটা তোমার বর্থ্যতা।

তোমাকে বিদায় বলতে কষ্ট লেগেছে ঠিকই, কিন্তু এটা আমার জন্যও দরকার ছিল। তোমাকে ধন্যবাদ যে তুমি আমার সাথে বিয়ে করার আগেই আমাকে তোমার আসল রূপের খবর দিয়েছো। তোমার যে আগে রিলেশন ছিল তা জেনেও আমি তোমার সাথে ছিলাম। আরও যা যা জানতাম তারপরও ছিলাম আমি ক্যাকস্ট্রিট বয়েজের as long as you love me গানের ভক্ত, তাই তারদের গানের মত করেই কিছু নিয়ে চিন্তা করিনি।

তোমাকে বিদায় বলেছি, সত্যিই, এখন আর কষ্ট লাগছে না। ভাল থেকো, যদি পারো।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৯
৩৬টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Grameen Phone স্পষ্ট ভাবেই ভারত প্রেমী হয়ে উঠেছে

লিখেছেন অপলক , ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৯



গত কয়েক মাসে GP বহু বাংলাদেশী অভিজ্ঞ কর্মীদের ছাটায় করেছে। GP র মেইন ব্রাঞ্চে প্রায় ১১৮০জন কর্মচারী আছেন যার ভেতরে ৭১৯ জন ভারতীয়। বলা যায়, GP এখন পুরোদস্তুর ভারতীয়।

কারনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কম্বলটা যেনো উষ্ণ হায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৭


এখন কবিতার সময় কঠিন মুহূর্ত-
এতো কবিতা এসে ছুঁয়ে যায় যায় ভাব
তবু কবির অনুরাগ বড়- কঠিন চোখ;
কলম খাতাতে আলিঙ্গন শোকাহত-
জল শূন্য উঠন বরাবর স্মৃতির রাস্তায়
বাঁধ ভেঙ্গে হেসে ওঠে, আলোকিত সূর্য;
অথচ শীতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেবকে আরো পা্ঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১:৪৪


আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি পুরো ১৫ মাস ধরেই ছিলো। মব করে মানুষ হত্যা, গুলি করে হত্যা, পিটিয়ে মারা, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা, পুলিশকে দূর্বল করে রাখা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদির যাত্রা কবরে, খুনি হাসছে ভারতে...

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৬

হাদির যাত্রা কবরে, খুনি হাসছে ভারতে...

শহীদ ওসমান বিন হাদি, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

হ্যাঁ, সত্যিই, হাদির চিরবিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার এই মুহূর্তটিতেই তার খুনি কিন্তু হেসে যাচ্ছে ভারতে। ক্রমাগত হাসি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিকে মারল কারা এবং ক্রোধের আক্রশের শিকার কারা ?

লিখেছেন এ আর ১৫, ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:০৩

হাদিকে মারল কারা এবং ক্রোধের আক্রশের শিকার কারা ?


হাদিকে মারল জামাত/শিবির, খুনি নাকি ছাত্রলীগের লুংগির নীচে থাকা শিবির ক্যাডার, ডাকাতি করছিল ছেড়ে আনলো জামাতি আইনজীবি , কয়েকদিন হাদির সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×