somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট্ট ঘটনা - ৭

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ২০০২ এর মাঝামাঝি সময়ের দিকের। তার মাত্র কয়েকমাস আগে কম্পিউটার কিনেছি, মোটামোটি কাজ চালাতে পারি। শুধু মাত্র কাজ শেখার জন্য এবং টাইপিং স্পীড বাড়াবার জন্য একটা টাইপিংএর কাজও নিয়ে নিলাম। ঠিক সেই সময়ে বাড়ির পাশের এক আপু বললেন কম্পিউটার শিখাতে। ঠিক শেখানোর মত যোগ্যতা হয়েছে কিনা কনফিউশনে ছিলাম। নিত চাই নি। কিন্তু আপু যেন কোথা থেকে একটা নোট জোগাড় করে আনলেন, তাকে শুধু ঐটা দেখিয়ে দিলেই হবে। নোট হাতে নিয়ে দেখলাম তার প্রায় ৯৮% কাজই পারি। সুতরাং তাকে কম্পিউটার শেখানোর দ্বায়িত্ব নিলাম।

বেশ ভাল ভাবেই কেটে গেল প্রায় ৫টা ক্লাস। সব ঠিক আছে, কিন্তু উনি কম্পিউটার বন্ধ করতে গেলেই সব আউলায় ফালান, সাট ডাউন করার কথা আর মনে থাকে না। হয় সুইচ বন্ধ করে দেন, না হলে পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখেন। এটা শেখালাম পুরা ২ ঘন্টা বসে। এই দুই ঘন্টায় উনাকে দিয়ে কম্পিউটার বারবার অফ অন করালাম। উনি শেষে একপর্যায়ে বিরাক্ত হয়ে বললেন যে আর ভুল হবে না। তো উনাকে বললাম শেষ বারের মত কম্পিউটারটা বন্ধ করে দিয়ে যেতে। বলা শেষ হয় নি, উনি সাথে সাথে সুইচ বন্ধ করে দিলেন।:-*

আমি পুরা হা। চিৎকার করে উঠলাম, করলেন কি বলে। উনি লাজুক হেসে বললেন, ভুল হয়েছে, কালকে থেকে আর ভুল হবে না। আমি কাদব না হাসব বুঝে পারছিলামনা। যাই হোক, ঐদিনের মত উনাকে বিদায় দিলাম। পরের দিন অবশ্য বিষয়টা ভুলেই গেছিলাম। উনাকে যথারিতি কম্পিউটারের কাজ দেখালাম, দেখান শেষে বললাম কম্পিউটার বন্ধ করতে। আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি প্রপারলি সাট ডাউন করলেন। আমি উনাকে ধন্যবাদ দিতে যাব, এমন সময় টেলিফোন বেজে উঠল, ফোনের কাছে গেলাম, একটু পরে শুনি কম্পিউটার ছাড়ার শব্দ, ফিরে তাকালাম, দেখলাম উনি কম্পিউটার আবার অন করেছেন। কম্পিউটার পুরা অন হবার পর উনি যা করলেন তা দেখে আমি ফিট হই আরকি! উনি এবার সুইচ বন্ধ করে দিলেন। আমি তাড়াতাড়ি ফোন রেখে এসে বললাম এটা কি করলেন? উনি বললেন যে প্রথমে আমার দেখান মত কাজ করেছিলেন, কিন্তু শিউর হতে পারছিলেন না যে কম্পিউটার বন্ধ হয়েছে কিনা, তাই এই কাজ।

এখনও মনে পড়লে হাসি পায়। পরে আরো প্রায় ২০জনকে কম্পিউটার শিখিয়েছি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী এবং মাইক্রোসফটের চুক্তির একটা প্রযেক্টে প্রায় ২০০ মানুষকে কম্পিউটার শিখিয়েছি। কত না মজার ঘটনা, কিন্তু এই ঘটনা আজ পর্যন্ত আমাকে হাসায়। হয়ত সারা জীবন হাসাবে।

যাই হোক, পরে এক সময় ঐ আপু বিষয়টি আয়ত্বে আনতে পেরেছিলেন, এবং যতদুর জানি, উনি একটা কম্পানিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে কাজ করছেন।

যদিও ছোট্ট ঘটনা - ১ , ছোট্ট ঘটনা - ২ , ছোট্ট ঘটনা - ৩ (প্রভা - এবং আমার বন্ধু এবং আমরা) , ছোট্ট ঘটনা - ৪ , ছোট্ট ঘটনা - ৫ এবং ছোট্ট ঘটনা - ৬ এর সাথে এর সাথে ছোট্ট ঘটনা - ৭ এর কোনই মিল নাই, তবুও লিংক দিলাম।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×