somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহবাগ এবং আমার অবস্থান

০৭ ই মে, ২০১৩ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫ ফেব্রুয়ারি যাবজ্জীবন রায় ঘোষণার পরে সারা দেশে একই সাথে হতাশা আর ক্ষোভের যে জন্ম হয়েছিল তা আমাকেও ছুয়ে গিয়েছিল। কাছের কিছু মানুষ যখন ভেবেছিল এই রায়ের পক্ষে আমি কথা বলব, তখন তাদের ভুল প্রমাণিত করে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম ধোঁকা খাওয়ার প্রতিবাদ জানাতে। যদিও মানুষের ভিড় থাকলে সেখানে না থাকার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই, কিন্তু তারপরও দাঁড়িয়েছিলাম এক প্রকার আবেগের তাড়নাতেই।কিন্তু এরপর যখন সবাই লাগাতার অবস্থান নেওয়া শুরু করল, আমি সেখানে ভুলেও একবার যাইনি; ব্যাখ্যাটা খুবই সহজ, ২২৮টা সিট এমনিতেই দিয়ে দেওয়া হয়নি। রাজাকারদের ফাঁসিতে ঝোলানো হবে এই মর্মেই লীগ ভোটের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিল। আর ৪টা বছর পরে এসে যখন সেইসব নির্বাচিতদের কাছ থেকেই শুনতে হয় আপনারা আগে থেকে রাস্তায় নামলেই তো রায়টা ফাঁসিই হত, অন্য কিছু হত না। তখন ওই ব্যাটাদের এসি রুম থেকে বের করে এনে জিহ্বা টেনে ধরে বলতে ইচ্ছা করে, যাদের কারণে আজ তোদের গাড়ি, বাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ তাদের তোরা রাস্তায় নামতে বলিস কোন সাহসে?আমরা রাস্তায় নেমে দিনের পর দিন গলা ফাটাব, রোদে পুড়ব, না খেয়ে মরব আর তোরা সংসদের শীতল কক্ষে বসে বিরিয়ানি খাবি আর সহমর্মিতা দেখাবি? অস্বীকার করব না যে শাহবাগের প্রথম সপ্তাহটা আমি তীব্রভাবে তারুণ্যের জাগরণকে সমর্থন দিয়ে গেছি,ফেসবুকে আমার স্ট্যাটাসগুলো দেখলেও তার সত্যতা মিলবে। কিন্তু জাগরণটা এক ধারায় চলতে পারেনি। প্রথম দিকে যেই দলীয় নেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হল, সপ্তাহ ঘুরতে শাহবাগে গিয়ে তাদের সংহতি প্রকাশের ছবিই বড় বড় করে মিডিয়া দেখাল। আর তখনই বুঝলাম, শাহবাগ কভু আমজনতার হবার নয়। নির্দিষ্ট করে বললে ১২ই ফেব্রুয়ারি দিনটির কথাই বলতে হয়, ওইদিন অনেক আশা নিয়ে টিভির সামনে মহাসমাবেশ দেখতে বস্লাম। কিন্তু একি? মঞ্চে উপনিবিষ্ট সবাই দেখি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতা যারা তাদের সাংগঠনিক পদাধিকারেই সেখানে বক্তৃতা দিতে গিয়েছেন।এরপর কি হল? শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অনেকটাই উস্কানিমূলক হয়ে উঠল। নিত্য সেখানে স্লোগান দেওয়া হল জামায়াত শিবিরকে জবাই করার জন্য। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে চাইলেও ধীরে ধীরে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবটাই তীব্র হয়ে উঠল শাহরিয়ার কবির কিংবা নাসিরউদ্দিন ইউসুফের কথার মাধ্যমে। রাজাকারদের বিচার মনে প্রাণে চাই কিন্তু প্রগতিশীলতার নামে নিজের ধর্মের অবমাননা করে কখনো নয়।খালেদা জিয়া অনেক কিছুই বলে থাকেন কিন্তু একটি কথা যে আজ ইসলাম ও স্বাধীনতা একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে এই কথাটি তিনি ভুল বলেননি; অনেকটা বাণী চিরন্তনীও বলা চলে। মাহমুদুর রহমানের দোষ হোক কিংবা নাসিরউদ্দিন ইউসুফের;মূল কথাটা হচ্ছে শাহবাগ থেকে দাঁড়ি-টুপির প্রতি যে বিদ্বেষটা ছড়িয়ে গিয়েছিল তা নিয়ন্ত্রণের জন্য জনাব ইমরান যেমন উদাসীন ছিলেন, ক্ষমতাসীন দলও ব্যাপারটা নিরসনে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু এই জিনিসটাকেই বিরাট ইস্যু বানিয়ে একপক্ষ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের এক বিশাল অংশকে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে।তাই শুধুমাত্র জামায়াত কিংবা হেফাজতের দোষ দিয়ে নিজে সাধু সাজার কোন মানেই হয়না।রাজপথের লকলকে অগ্নিশিখায় তেল যখন সবপক্ষই ঢেলেছে, আগুনের আঁচটাও ১৬ কোটি মানুষকেই কমবেশি অনুভব করতে হবে।
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×