
রানু মণ্ডল হটাত করেই উঠে এসেছিল তার অসাধারন কণ্ঠের জন্য । আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে তার গান শুনে স্তম্ভিত হয়ে বসেছিলাম । পরে আবারও শুনলাম এবং জানলাম তার জীবনের করুন কাহিনী । কিন্নর কণ্ঠের তুলনায় তার চেহারা খুব নোংরা লেগেছে আমার কাছে । আবারও কদিন বাদে রানু জেগে উঠলো হিমেশ রেশম্মিয়ার গানের স্টুডিওতে । কপাল খুলে গেল রানুর ।
রানাঘাট স্টেশন পশ্চিমবঙ্গে । ষ্টেশনে বসেই ট্রেন এলে তার মর্মভেদি কণ্ঠে হিন্দি গান শুনে যাত্রীরা অবাক হয়ে দু চার টাকা যা দিত তাই দিয়ে ঝুপড়িতে জীবন চলত । মুম্বাই থাকতেন রানু স্বামীর সাথে । স্বামী মারা গেলে রানু রানাঘাটে এসে আশ্রয় নেন । একমাত্র মেয়েও তাকে সাথে নেয়নি । কিন্তু মায়ের রাতারাতি উন্নতির সাথে সাথে মেয়েও মায়ের কাছে ফিরে এল ।
কিন্তু অহংকার আর বাজে ব্যবহারের জন্য সেই রানু মন্ডলের পতন হতে সময় লাগেনি। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’ জানিয়েছে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যে স্টেশন থেকে উঠে এসেছিলেন আবার সেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট স্টেশনেই জায়গা হলো তার। আবারও সেই আগের মতো হাত পেতে ভিক্ষে করেই জীবন চালাতে হচ্ছে তাকে।
তারা জানায়, দাম্ভিকতা ও দুর্ব্যবহারের জন্য ভাগ্য তাকে সুযোগ দিলেও সেটি কাজে লাগাতে পারলেন না রানু। সামান্য বিখ্যাত হয়ে উঠতেই নিজেকে তিনি অনেক বড় তারকা মনে করতে শুরু করেন। সবার সঙ্গেই বাজে আচরণ করেছেন।
কেউ ছবি তুলতে এলে ভুল ইংরেজিতে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যহার করেছেন। ভিখারিদের নিয়েও নোংরা মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। সেইসব ঘটনার ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বারবার। যা ক্ষেপিয়ে তুলেছে তার প্রতি সদয় হওয়া সবাইকে। কেউ আর কাজ দেয় না। নেই কোনো গানেরও শো। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে আবার সেই স্টেশন চত্বরেই ফিরে আসতে হলো তাকে।
গত বছর রানাঘাট স্টেশনে গান গাওয়ার সময় অতীন্দ্র নামে এক যুবক তার গান রেকর্ড করে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। টিকটক ভরে যায় রানুর কণ্ঠ আর গানের ভিডিওতে। এরপর তার গান নজরে আসে বলিউডের গানের জনপ্রিয় গায়ক হিমেশ রেশমিয়ার। তিনি তাকে বলিউডের একটি ছবির গানে কণ্ঠ দেয়ার সুযোগ দেন।
তারপর থেকেই নানা রিয়েলিটি শোতেও ডাক পরে রানুর। কিন্তু শিক্ষা, রুচি ও সুন্দর আচরণের অভাব রাতারাতি সেনসেশনে পরিণত হওয়া রানু মন্ডলকে ছুঁড়ে ফেললো আবার সেই রাস্তাতেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


