
একদম ছোট বয়েসে বাড়ির পাশে মাইক বাজত । তাতে সুরেলা গলায় গান হত । কারা গান গায় , মাইক কেমন তা চারিদেওয়াল ঘেরা বাড়ি থেকে একদম বোঝা যেত না । আমাদের সব্জি বাগান কেটে সেখানে দালান হাকালেন বাবা । কাজের লোকেদের সাথে দালান থেকে অবাক চোখে দেখতাম চোংগাওয়ালা মাইক । কাউকে গান গাইতে দেখতাম না কিন্তু গান হচ্ছে । বাবা আমাদের বইয়ের দোকানে যান ১০ টার দিকে । আমি দালানের পিছনের হাফ দেয়ালের পাশে প্রথম দিন । পেরিয়ে গেলাম দ্বিতীয় দিন । মাটির মূর্তি তৈরি হচ্ছে , দশ বাহুর , পা দুটো , শরীর একটা । বুক দুটো উন্মুক্ত , লজ্জা পেলাম । বাঁশ ঘেরা জায়গায় বড় খাটের ওপর কিসব রাখা । পুরো জায়গাটা বিশাল ত্রিপল দিয়ে ঢাকা । বাঁশ ধরে অনেকের সাথে আমিও দাড়িয়ে । একজন আমার পিছন থেকে আমায় উচিয়ে ধরে ভিতরে রাখতে রাখতে বলল এই মাওলানা সাহেবের ছেলেকে খাটে বসতি দে । সবাই সচকিত , পাশের বাড়ির ছেলে , মাওলানা সাহেবের ছেলে । একজন আমায় বলল এই তোর বাপ কি বাসায় ? আমি মাথা নাড়লাম । তাহলি তুই বাপরে না কয়ে আইছিস ! সবাই হাঁসতে লাগলো । একটা কালো চাকতি বাক্সের মেশিনে উঠিয়ে দিলেই সুরেলা কণ্ঠ বের হয় । বেশ খানিকক্ষণ খেয়াল করলাম যে বাক্সের ভিতরে কেউ আছে কিনা । আস্তে ধীরে কাত হয়ে শুয়ে বাক্সের গায়ে কান পাতলাম । নাহ এর ভেতরেও কেউ নেই । আজব বাক্স আর চাকতি । ঘুরলেই গান হয় । পাশে একটা হ্যান্ডেল আছে ওটা মাঝে মাঝে ঘোরাতে হয় । আবার বাসায় দেয়াল টপকে ফিরে এলাম । যেদিন পুজো সেদিন আমরা সবাই ছাদে বসে পুজোর নাচ দেখলাম । ধুপের বাটি কামড়ে ধরে সেকি নাচ। ঢোলের বাড়িতে একটা আলাদা রকম সকম আছে । এই কিছুদিন আগেও ঢোলের বাড়ির কারুকাজে নেচেছি অ্যালামনাই অনুষ্ঠানে । অসাধারন । পুজোর দিনে দশহাতি মূর্তি আর নেংটা নেই । দামি কাপড়ে ঢাকা , দারুন লাগছে । মূর্তিটাকে হৈ হৈ করে নিয়ে গেল ঠেলা গাড়িতে দাড় করিয়ে । নদীতে ডুবিয়ে দেবে , এটাই নিয়ম । দশ হাতি এই মূর্তি হচ্ছে দুর্গা , মা দুর্গা । তার পায়ের নিচে একটা লোক হা করে শুয়ে আছে , শুনলাম লোকটা ভালনা , দুর্গার বাহন সিংহ লোকটিকে খেয়ে ফেলবে শুনলাম । শুন্য মাঠ , আমরা ঘরে এলাম বেশ চিন্তা মাথায় নিয়ে । বাক্সের ভেতরের গান কাহিনীর রহস্য উন্মোচন হল না ।
ব্লগারদের দুর্গা পুজার শুভেচ্ছা ।
দুর্গা মাইকি জয় ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


