

বাঙ্গালীর জীবনে খুব প্রয়োজনীয় সবজির নাম আলু । মনে করুন বিয়ে বাড়িতে খাসির বিরিয়ানির মধ্যে জাফরানে রাঙ্গানো আলু নেই । মন খারাপ হয়ে যাবে । কেউ বিরিয়ানিতে আলু খাননি এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না । বাড়িতে গরুর মাংসে , মায়কি মাছেও আলু দিতেই হবে । আলু ভর্তা আরও এক বিস্ময় । যদিও ম্যাশ আলু অন্য দেশেও চলে বা আলু সেদ্ধ পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রধান খাদ্য কিন্তু পোড়া বা তেলে ভাজা শুকনো মরিচ সাথে বাদামি পেঁয়াজ আর সর্ষের তেল দিয়ে আলু ভর্তা বাঙ্গালীর বিশেষ মেনু । কাচা মরিচেও এটা দারুন হয় । ডাল দিয়ে ভাত কচলে তার সাথে একটু একটু আলু ভর্তা মিশিয়ে গলায় চালান করে দেওয়ার যে বাঙালি পদ্ধতি তা গোটা পৃথিবীতে নেই । ম্যাকে আলুর ফিঙ্গার চিপস সাবাড় করতাম বাইরের দিকে উদাস তাকিয়ে । ফিস এন চিপস এর গুনগান না গাইলে বদদোয়া লেগে যাবে । এই আলুর পাউডার আসে অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড থেকে । আমরা আলুর চিপস যা খাই তা ওই গুড়ো আলু দিয়ে বানানো ।
তো সেই আলুতে নজর দিয়েছে কারবারিরা । তারা আজ কাওরান বাজারে আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছে , মনে হয় কারা যেন ফাইন করেছিল , তাই ।গতকাল কেজি ৫০ টাকা ছিল , কাল এরকমই থাকবে । পেঁয়াজ সেইরকমই আছে । সরকার মনে হয় বিব্রত । বানিজ্যমন্ত্রী বললেন আলু কৃষি মন্ত্রনালয়ের বিষয় । করোনায় অনেক মানুষের কাজ নেই , আগের বছরের দাদন শোধ , বন্যা ইত্যাদির জন্য আলুর দাম বেড়েছে । আলু দেশে পর্যাপ্ত আছে এবং আগামি ৪ দিনের মধ্যে আলুর দাম কমে আসবে । পেঁয়াজের দাম কিন্তু কমেনি । এই আলু পেয়াজওয়ালারা এই করোনাকালে পেয়ে বসেছে । সব ধরনের সবজি লাল দাগ অতিক্রম করে বসে আছে নামার নাম নেই । বন্যার অজুহাত সবখানে । আজ বি বি সি টক শোতে এক বালিকা বলল মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কারনেই আলুর এই মুল্য বৃদ্ধি । মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে চাষি এবং বিক্রেতা – ভোক্তার মধ্যে সংযোগ ঘটালে আলু ২০/২২ টাকায় পাওয়া যাবে । মধ্যস্বত্বভোগীদের উপদ্রব নিয়ে আমিও মন্তব্য করেছি বিবিধ পোস্টে । দাদনদাতারা আগেও ছিল এবং সব কিছু সহনশীল ছিল । এখন এই খাত চলে গেছে উচ্চ মুনাফাখোরদের হাতে । এরা সরকারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে । মানুষের নিত্য ব্যাবহৃত পন্যে হস্তক্ষেপ জরুরী ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


