somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই ১৬ই ডিসেম্বর , ১৯৭১এর পূর্ব পাকিস্তান এবং ২০১৪এর পেশোয়ার ।।

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





দিনটি পাকিস্তানী সৈন্যদের পরাজয়ের দিন, দিনটি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের দিন, দিনটি পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন। ন’টি মাস লক্ষ মানুষকে হত্যা করে, লক্ষ নারীদের সম্ভ্রম লুটের উল্লাসে ছেদ পড়ে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর ঘোষিত যুদ্ধে। আমরা নিশ্চিত হয়ে যাই যে নতুন আকাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। আমাদের ভেতরের সব হতাশা কে যেন মুছে দিল। আমরা বাংলাদেশ নামের নতুন একটি রাষ্ট্র পেলাম। পাক হানাদার বাহিনী ভারতীয় সেনাদের আওতায় চলে গেল এ ভূখণ্ড ছেড়ে। কিন্তু পাক সেনা আর ৭৪এ গঠিত আই এস আই আদাজল খেয়ে লেগে রইল নতুন এই দেশটির ক্ষতি সাধনে। যেন পাকিস্তানের জন্মই হয়েছিল ভারতের পিছনে লেগে থাকা আর বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে বারংবার হেনস্তা করা। দীর্ঘসময় তারা প্রচুর লোকবল, অর্থ , অস্ত্র বিনিয়োগ করছে এসব কারনে । পাকিস্তানের জন্মই হয়েছিল ধর্মকে রক্ষা করার জন্য। সেই পাক সেনা যারা আমাদের মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করেছে , তারাই এবং তাদের অবসরপ্রাপ্তরা আফগানিস্তানে মার্কিনীদের হয়ে কাজ করার ফাকে তালিবান বা মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে একটি ভয়ঙ্কর দল গড়ে তুলল। তারাই আল-কায়েদাকে জায়গা করে দিল জ্বিহাদ করার জন্য মার্কিনীদের বিরুদ্ধে। তালেবান তত্ত্ব দেওবন্ধ, ভারত থেকে এসেছে। এই গোটা উপমহাদেশে মুসলিমদের সার্বিক কুবুদ্ধিদাতা দেওবন্ধের মাওলানাদের ভারত কিছুই বলেনা। যাহোক পাক সেনা কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তালেবান ব্যাপারটি আফঘানিস্তানে চলে গেল এবং প্রচুর সমর্থন পেয়ে আলাদা এলাকায় শাসনব্যাবস্থা পর্যন্ত চালু রেখেছে। পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম এলাকা মুলত তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে। পাক-তালেবান মুখোমুখি দাঁড়ালো ২০০১ আর লাদেনের মৃত্যুর পর।ধর্মযুদ্ধে আর স্থায়ী সম্পর্ক তোঁ রইলইনা বরং পাকরা মার্কিনীদের সুবিধা করে দিল দ্রোণ দিয়ে নাচিজদের ওপর হামলা করতে। জ্বিহাদী জোশ পাক জনতা অনুভব করল গেল দুটি বছরে অনেক দফা। এবার আপন শিশুকে হত্যা করতে পাক সেনারা আদাজল খেয়ে লেগে গেল। সেইইইইই ১৬ই ডিসেম্বর তারিখেই তালেবানরা পেশোয়ারের মিলিটারি পরিচালিত স্কুলে হামলা করল, জিম্মি করল ৫০০ ছাত্র ছাত্রীকে। দিনমান যুদ্ধে ৬ তালিবান বেহেস্তে দাখিল হল নিজের পিতার গুলিতে। তার আগে তারা ১৩০ জন ছাত্র ও ১১ জন কর্মচারীকে জ্বিহাদী সাজা দিল মাথায় গুলি করে। গতরাতে একটা ভিডিও দেখছিলাম, দু পায়ে গুলি লাগা এইটের ছাত্র বলছিল সে মরার ভান করে পড়েছিল। যেসব ছাত্র তখনও নড়াচড়া করছে তাদের ব্লাঙ্ক পয়েন্টে মাথায় গুলি করে হত্যা করছিল তালেবান জ্বিহাদীরা। ছেলেটির সৌভাগ্য যে তার মৃতের অভিনয় চমৎকার হয়েছিল বলেই সে বেচে আছে একা । ওই ক্লাসরুমের বাকি সহপাঠীরা সবাই নিহত।
১৯৭১ সালে আমাদের মানুষেরা প্রথম দিকে গুলি পরে গুলি বাচাতে বেয়নেট আর বিহারীদের দ্বারা জবাইয়ের শিকার হয়েছিল।কি নির্মম মানসিকতা । যাহোক পাকিস্তানী তালেবান নিজ কওমের শিশুদের সাজা দিয়েছে তাদের পিতা পাক সেনাদের সাম্প্রতিক ওয়াজিরিস্থান আক্রমনের প্রতিশোধ নিতে।
অন্যায়ভাবে অস্ত্রের ব্যাবহারে সাধারন মানুষকে খুন করে নিজেও বাচা মুশকিল। আমরা উচু গলায় বলতে পারি “ হে পাক সেনা , বহুদিনের অপকর্মের সাজা তোমরা আজ ঘরে বসেই পেলে ,আরও পাবে”।বাইরে অনেক আগুন জ্বালিয়েছ এবার ঘর সামাল দাও। অনুভব করতে শেখ নিজ শিশু হারানোর কষ্ট এবং দুঃখ। চুকনগরের গনহত্যায় কতজন শিশুকে মায়ের দুধ পানরত অবস্থায় গুলি চালিয়েছিলে, ক্ষমা চেয়েছ কখনো? আজ আমরা বিজয়ের আনন্দ রেখে উদ্বিগ্ন হয়ে দেখছি তোমার শিশুদের মৃতদেহ , আহত শতজনকে কারন ওরাও আমাদের সন্তানতুল্য ।আমাদের চোখ ভিজে আসে নিস্পাপ শিশুর রক্তাক্ত দেহ দেখে।
ফ্রাঙ্কেন্সটাইন গড়ার কারখানা গুড়িয়ে দাও। ধর্মের জ্বিহাদ নয় কর্মের জ্বিহাদ চাই ।

©শাহ আজিজ ২০১৪
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫৩
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×