

কলকাতায় পৌছুলাম বিকেলে । একটা যেনতেন হোটেলে ঠাই পেলাম । আমাদের পছন্দের হোটেলে ফাকা নেই । আজ সবাই টায়ার্ড ভীষণ তাই রুমেই রইলাম শুয়ে বসে । সকালে নাস্তা আনতে বেরুলাম । সামনের স্পেসটায় মালিকের একটি বিশাল টি ভি চলছে । তার ভেতরে যুদ্ধের ছবি দেখা গেল । মনে হল কোন সিনেমার ট্রেলার , এনিমেশন করে ভালই করেছে । নাস্তা নিতে অর্ডার করে বসে ভাবছি আচ্ছা সিনেমা হলে আমেরিকা অ্যাট ওয়ার লিখবে কেন !! নাস্তা নিয়ে আবার টি ভি এবং হকারের দিয়ে যাওয়া কাগজে চোখ বুলালাম । কি সর্বনাশ টুইন টাওয়ারে টেররিসট আক্রমন !! হাইপার টেনশন বুকের ভেতরে হানা দিল । রুমে বাচ্চাদের নাস্তা দিয়েই আমি ক্ষুদ্র ট্যাবলেট মুখে নিলাম । স্ত্রী জিজ্ঞেস করল এই সাত সকালে ট্যাবলেট নিচ্ছ , কোন কিছু টেনশন করছ নাকি ? আমি ঠাণ্ডা হয়ে বললাম আমেরিকায় টেরর হামলা হয়েছে , টুইন টাওয়ার ভেঙ্গে পড়েছে । স্ত্রী হায় হায় করে উঠলেন তার বোনের কি হবে । আমি বললাম এটা নিউইয়র্কে আর ও থাকে ডি সি তে। আমরা শিঘ্রিই বিড়লাতে পৌঁছে গেলাম । বিশাল ওয়েটিঙে সবাই বড় টি ভি র দিকে তাকিয়ে সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখছে । বেলা তিনটা পর্যন্ত টেস্ট ফেসট চলল আমার । বেরিয়ে সোজা হোটেলে । ভাগ্যিস রুমে টিভি নেই । পরদিন বোলপুর শান্তিনিকেতনে চলে গেলাম । ওখানে রুমে টি ভি আছে । বাচ্চারা টম অ্যান্ড জেরি আর আমি সি এন এন । কিছুটা ছাড় দিয়ে ভাগাভাগি করে চলল ।
শান্তিনিকেতনে দৈনিক পেপারে চার দিনে এর ইতিহাস পড়ে ফেললাম । ঘোরাঘুরি , খাওয়া দাওয়া , পরিচিতদের সাথে গল্পে কাটালাম ।
খুলনায় ফিরে আল কায়দা আর তার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন কে নিয়ে পড়ে রইলাম ।
ওসামা বিন লাদেনকে যেদিন নেভি সিল হত্যা করল পাকিস্তানে তারপর এই কাহিনী আরও জমে উঠল ।
১১ই সেপ্টেম্বর সকালে যখন টুইন টাওয়ারে হানা দিল সন্ত্রাসীদের প্লেন । ঠিক সে সময় পেশোয়ার আফগানিস্তানের এক গোপন গুহায় সন্ধ্যা রাত ,ওসামা জেনে গেলেন আক্রমনের কাহিনী এবং ব্যস্ত হয়ে তার দুই স্ত্রী আর ছয়টি ছেলেমেয়েকে গাঁটটি বোচকা সহ ইরান সীমান্তে তার বিশ্বস্ত রক্ষীদের সাথে পাঠিয়ে দিল গাধায় চড়িয়ে । ওরা ইরান সীমান্ত পার হয়ে তেহরানে সৌদি দুতাবাসে আশ্রয় চাইবে এবং সৌদি আরবে ফেরার ব্যাবস্থা করতে কূটনীতিকদের অনুরোধ করবে । ওসামা তার অন্য দুই বিবি আর বাচ্চাদের নিয়ে পাহাড়ি পথ ধরল । তাদের সঙ্গে সশস্ত্র প্রহরী ছিল । তোরা বোরা পাহাড়ের গুহায় মার্কিনীরা বোমা হামলা করলে পৃথিবীর এই সর্বোচ্চ ধূর্ত আর নৃশংস সন্ত্রাসী পালিয়ে জান বাচাল । ওখান থেকে তারা পাকিস্তানের পেশোয়ারে সর্বশেষ অবস্থান নিয়েছিল । কিন্তু হটাত করেই ওসামা তার সঙ্গীদের চোখ ফাকি দিয়ে বেমালুম গায়েব হয়ে গেল । তার সর্বশেষ সি আই এর গোয়েন্দারা ওসামাকে হারিয়ে ফেলল । এদিকে অন লাইনে ওসামা বিন লাদেনের বক্তৃতার ভিডিও দুনিয়াময় চলছে । গোয়েন্দারা আই পি ঠিকানা খুজে পেল অ্যাবোটাবাদ । শুরু হল খোঁজাখুঁজি । আই পি ঠিকানা ধরে পেল একটি সাইবার ক্যাফের সন্ধান । কয়েকদিন বাদে আবারো ভিডিও পেলে তারা বুঝল শহরের কয়েকটি সাইবার ক্যাফে থেকে এই ভিডিও আপলোড হচ্ছে । সবগুলোতে খোজ লাগিয়ে একজন বয়স্ক মানুষকে তাদের সন্দেহ হল । তাকে অনুসরন করে গমক্ষেতের ভিতরে তিনতালা বাড়ির সন্ধান পেল , সেটি আবার ক্যান্টনমেনট সীমানার মধ্যে । কয়েকদিন বাদে সেই লোকটি সন্ধ্যায় আবারো শহরে এক ভিন্ন দোকানে গেলে গোয়েন্দারা আড়ি পেতে বুঝল এই মানুষটি বাহক মাত্র । সে পেন ড্রাইভে রেকর্ডেড ভিডিও এনে আপলোড করে। ওসামার সন্ধান তারা পেয়ে গেল । পরবর্তীতে ওসামার সন্ধান পাওয়া নিয়ে একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে । ওসামা তার ব্যবহৃত সকল জিনিষ নিচের গ্যারেজে যত্ন করে পুড়িয়ে ফেলত যাতে কেউ টের না পায় এখানে কারা থাকে । আশপাশের মানুষ এমনকি অদুরে সেনানিবাসের কেউ খোজ করেনি তবে দালানটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক পাক অবসরপ্রাপ্ত অফিসার বানিয়ে দিয়েছিলেন ।
সম্ভবত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যাবহার করে তারা তিন তালা দেয়াল ঘেরা বাড়িতে ওসামার উপস্থিতি টের পেল । এরপর হেলিকপ্টারে নেভি সিলের অভিযান এবং ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা ও তার মৃতদেহ সাগরে নিক্ষেপ ।
এখানে কিছু জায়গার ভাষ্য একান্তই আমার নিজস্ব বাকি নির্ভরযোগ্য বিদেশী সংবাদ মাধ্যম থেকে । হয়তবা আজ ১১ তারিখ টুইন টাওয়ার হামলার ফাইল প্রকাশ করা হবে , বাইডেন সেরকমই বললেন দুদিন আগে ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



