somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেগে উঠি শবযাত্রার আগে

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


'ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ
ঐখানেতে বাস করে কানা বগীর ছা'
কিম্বা
'নোটন নোটন পায়রাগুলো ঝোটন বেধেঁছে
ওপাড়েতে ছেলে-মেয়ে নাইতে নেমেছে'
কিম্বা
'Humpty Dumpty sat on the wall,
Humpty Dumpty had a great fall'
কিম্বা
'Twinkle, twinkle, little star,
How I wonder what you are!'

আজ থেকে ছত্রিশ / সাঁইত্রিশ বছর আগে আমাদের জ্ঞান অর্জন কিম্বা পড়াশোনার ধারণার শুরু অর্থহীন এইসব কবিতা দিয়ে। 'কানা বগীর ছা' আর 'ছেলে-মেয়ের একসাথে নাইতে নামার' মন্ত্র জপে জপে শেষমেশ আমরা ঘোড়ার ডিমের আদর্শে বড় হয়েছি। 'humpty dumpty' বা 'মানুষরূপী ডিম' এর ছড়া শিখিয়ে আমাদের সময়ে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলোর যাত্রা শুরু হয়েছিল আশির দশকের শুরুতে। ফলাফল স্বরূপ ছত্রিশ বছর পর আমরা আজ ব্যাংলিশ জাতি। twinkle twinkle বা ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি শৈশবে আমরা চাঁদ-সূর্য, বাঘ-সিংহকে মামা ডাকতে শিখি আর এইভাবেই গ্রুহ-নক্ষত্র আর পশুদের সাথে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আমাদের মনুষ্যত্বের বিকাশ শুরু। শিক্ষাব্যবস্থার কোথাও নবী, সাহাবাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক স্থাপনের কোনরুপ চেষ্টার নমুনা আজ মনে করতে পারিনা। সকালের মোক্তব বা বিকেলের হুজুরেই ইসলাম সীমিত ছিল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা জুড়ে এবং ওটাই ছিল আমাদের সর্বোচ্চ অর্জন। আর তারপর তো আমরা ব্যস্ত হয়ে গেলাম science, commerce আর arts এর বিভাজনে। আর এভাবেই আমরা জ্ঞানের অন্বষণে থাকলাম দুনিয়ার শ্রেষ্টত্ব অর্জনে। আমাদের দিনগুলো আমরা দ্বীনহীন কাটিয়েও একটু আফসোসের সুযোগ করতে পারিনি। আর তারই ধারাবাহিকতায় অ-এ অজগর এখনো তেড়ে আসে আর এখনো A তে শুধু apple-ই হয়। অথচ সহজ ছিল আ-তে ও A-তে একটাই শব্দের উচ্চারণ "আল্লাহ্"! আমাদের দিনে ব-ফলা ছিলনা। ব-ফলা হীন দিনের দ্বীনহীন দীনতায় দিন কাটিয়ে আমরা মরে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু ভুলের রিলেরেসে মেতে থেকে ঠকাতে পারিনা নিজ সন্তানদের। পাঠ্যবইয়ের অনর্থক কবিতার প্রতিস্থাপনে তাই আমার সন্তানদের উদ্ধার করতে আমি নিজেই হবো মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

একটা দিনে কয়টা কাজ,
পাঁচ ওযুতে পাঁচ নামাজ।

একটা দিনে কয়টা ভয়,
ক্ষমাহীন যদি মৃত্যু হয়!

একটা দিনের ভাবনা কি,
সরলপথ কি পেয়েছি?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×