somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গার্ডেন্স বাই দ্য বে সিঙ্গাপুর

১৭ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০১০ সালে মেরিনা বে স্যান্ডসের ৫৭ তলার ছাদে নারকেল গাছ দেখে আমাকে চমকে যেতে দেখে আমার মেজবান প্যাসিফিক মেরিনের ক্যাপ্টেন শাখাওয়েত বলেছিলেন, আরও কিছু দিন অপেক্ষা কর, সমুদ্রের দিকে নতুন পার্ক হচ্ছে, সারা বিশ্বের গাছ পালা সেখানে দেখতে পাবে।
২০১৩ সালে গিয়ে শুনলাম, সেই পার্ক ২০১২ সালের জুন মাসে দর্শনার্থিদের জন্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। গার্ডেন্স বাই দ্য বে এখন সিঙ্গাপুরবাসীদের নতুন গর্ব।ভাবলাম আর কিছু দেখি না দেখি এই বিস্ময় উদ্যান না দেখে ফিরে যাওয়া যাবেনা।
গার্ডেন্স বাই দ্য বে তে যাবার সহজ উপায় হচ্ছে সার্কেল লাইন এমআরটিতে উঠে বে ফ্রন্টে নেমে যাওয়া। বাস, ট্যাক্সি, নিজের গাড়ি সবকিছুতেই যাওয়া যায়। তবে সে সব রাস্তা আমিই ভালো বুঝিনা। বে ফ্রন্ট ষ্টেশনের এক্সিট B দিয়ে বেরিয়ে লিঙ্ক ওয়ে ধরলেই হবে। বাচ্চা কাচ্চা সাথে থাকলে মিনিট পনরর হাটা পথ।
যারা নিজেদের গাড়িতে যাবেন তাদের জন্যে এত কিছু দরকার নেই। সিঙ্গাপুরে সব গাড়িতেই জিপিএস থাকে। গন্তব্য গার্ডেন্স বাইদ্য বে’র কারপার্ক সেট করলে যন্ত্রই আপনাকে কারপার্ক পর্যন্ত নিয়ে যাবে। গাড়ি পার্কিং করে উপরে এসে টিকিট কেটে ফেলতে পারেন। টিকিট অবশ্য অনলাইনেও কাটা যায়।
সাগর ছাড়া সিঙ্গাপুরের আর কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। তবে সম্ভবত প্রকৃতিকে চ্যলেঞ্জ করার মত সম্পদ তাঁরা গত পঞ্চাশ বছরে জোগাড় করে ফেলেছে। যে বিশাল এলাকা (প্রায় ২৫০ একর) জুড়ে এই কল্পনার জগত তৈরী করা হয়েছে তার পুরোটাই রিক্লেইমড ল্যান্ড ( সমুদ্র মন্থন করে পাওয়া বলা যায় কীনা ভাবছি)। আশির দশকেও এই জায়গা ছিলো পানির তলে। ২০০৫ সালে সিঙ্গাপুর সরকার এখানে গ্রীস্ম মণ্ডলীয় বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে। প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছর ধরে তৈরি করে ২০১২ সালে এটি খুলে দেওয়া হয় সাধারণের জন্যে।

-------------------------------------------------------------------------------------------
পর্যটকদের তথ্য
এই উদ্যানকে মোটা দাগে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। বহিরাঙ্গনে ভোর পাঁচটা থেকে রাত দু’টো পর্যন্ত খোলা থাকে।এখানে টিকেটের প্রয়োজন নেই।বহিরাঙ্গনের আবার তিনটি ভাগ। বে সেন্ট্রাল, বে ইস্ট আর বে সাউথ। গার্ডেন্স বাই দ্য বে বলতে আসলে বে সাউথকেই বোঝানো হয়। চমৎকার লেক, পায়ে চলা পথ, আর বিশাল তিনটি থিম পার্ক নিয়ে এই উদ্যান গড়ে উঠেছে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুল ‘ভ্যান্ডা মিস জোয়াকিম’ অর্কিডের আদলে। আদলে কথাটা এখানে ঠিক নাও হতে পারে বলা যায় অনুপ্রেরণায়। গ্রীণহাউস (কন্সারভেটরি) আর কৃত্রিম লেক গুলো অচ্ছে অর্কিডের মূল, পায়ে চলা পথ, মাঠ হচ্ছে পত্র পল্লব আর থিম পার্ককে তৈরী করা হয়েছে ফুলের নকশায়।
থিম পার্কের তনটি অংশ
১। ফ্লাওয়ার ডোম
২। ক্লাউড ফরেস্ট
৩। সুপার ট্রি
থিম পার্ক বন্ধ হয়ে যায় রাত ৯ টায়। রাত আটটার পর টিকেট বিক্রি বন্ধ, আর থিম পার্কে প্রবেশের শেষ সময় রাত সাড়ে আটটা।
বিদেশীদের জন্যে টিকেট ২৮ ডলার, শিশুরা(বারোবছর পর্যন্ত) ঢুকতে পারে বারো ডলারে।
------------------------------------------------------------------------------------------

২৮ টাকা (২৮ সিঙ্গাপুর ডলার) দিয়ে ফ্লাঊয়ার ডোমে ঢুকে পড়ে মনে হলো, আমি ভুল করে কোন আঁকা ছবির মধ্যে ঢুকে পড়েছি। গার্ডেন্স বাইদ্য বে’র দুটি গ্রীণ হাউসের নিচেরটি ফ্লাওয়ার ডোম। কোন পিলার ছাড়া এত বড় কাঁচের ঘর পৃথিবীতে আর নেই।
প্রায় আড়াই একরের এই কাঁচঘরে ঠাই পেয়েছে পৃথিবীর নানান অঞ্চলের গাছপালা। ৩৮ মিটার উঁচু এই ঘরের তাপমাত্রা সবসময় ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে রাখা হয়। বিভিন্ন রকম গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদের বাস এখানে।ফুল, ফলের সাথে মরিচ, বাঁধা কপি, আসমানীদের ভেন্না গাছের পর্যন্ত ঠাঁই হয়েছে কাঁচঘরে।
বিশাল বিশাল কিছু গাছের বন্দী দশা দেখে, পুরো ব্যাপারটিকেই সত্যিকারের প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে প্রকৃতিকে পোষ মানানোর প্রচেষ্টা মনে হতে পারে। ফ্লাওয়ার ডোমে মোট সাতটি বাগান। ছোট্ট মরিচ গাছ থেকে বিশাল বাওবাব গাছ সবই দিব্যি হেসে খেলে দর্শণ দিয়ে যাচ্ছে। বিশাল আকারের বাওবাবগুলির জন্ম কিন্তু এখানে হয়নি। দৈত্যাকার গাছগুলিকে বৃক্ষাবস্থায় (এই শব্দটি কী সঠিক?) জাহাজে চড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে আফ্রিকা থেকে।
ফ্লাওয়ার ডোম ঘোরা হলে গেলাম ক্লাউড ফরেস্টে। ঢোকার মুখেই কৃত্রিম জল প্রপাত। ফ্লাওয়ার ডোমের চেয়ে ১৪ মিটার উঁচু এই নকল পাহাড়ে উঠতে হ্য় এলিভেটরে। ঘোরান সিঁড়িও আছে কাঁচের পাহাড়ে। এটি তৈরি করা হয়েছে গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার ১০০০ থেকে ৩০০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে। হাজার রকম লতা, গুল্ম অর্কিডের আবাস ক্লাউড ফরেস্ট। সিঙ্গাপুরের এই উদ্যানে টেকনোলজি আর প্রকৃতির অপরূপ সমন্বয় ঘটেছে। ফটোভোল্টিক সেল, সূর্যালোক, তাপ আর বৃষ্টির পানির স্মমিলন ঘটিয়ে তাপমাত্রা আর আলো আঁধারির নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
ক্লাউড ফরেস্ট থেকে নেম আসার সময় মাঝ রাস্তায় লস্ট ওয়ার্ল্ড গ্যালারি। এই গ্যালারিটিকে বলা যায় ক্রিস্টালের তৈরি।
একেবারে নীচ তলায় আগামী পৃথিবীর থ্রি ডি প্রেজেন্টেশন দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো। একেতো তাপ মাত্রা মাত্র পাচঁ ডিগ্রী, তারপর পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয় ধরানো সব কথা বার্তা। বের হবার সময় আমার ছোট কণ্যা মুখ কালো করে বলল, বাবা পেঙ্গুইন একটাও থাকবে না?
আমি বললাম তোমাকে কে বলল?
সে বলল, তুমি শোননি? প্রেজেন্টশনের শেষের দিকে ছিলো, যদি প্ল্যান্ট আর ফরেস্ট ডেস্ট্রয় করা বন্ধ না করা হয় তাহলে নেক্সট ফিফটি ইয়ার্সে পেঙ্গুইন পাখিগুলো শেষ হয়ে যাবে।
ভাবলাম ছোট্ট মেয়েটির এই ভয় তাড়াবো কী করে?

পুনশচঃ

ক্লাউড মাউন্টেন থেকে বের হতে হতে রাত ৯ টা বেজে গিয়েছিলো। সুপারট্রিতে ওঠা হয়নি। সুপারট্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ১৬০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার মেটালিক কাঠামোর উপর নির্মিত শুণ্যের উদ্যান। প্রতিটি ট্রি তৈরি করা হয়েছে সত্যিকার গাছের কথা মনে করে। এই গাছের একটি কাজ হচ্ছে, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে চ্যানেলের মাধ্যমে মাটিতে পৌছে দিয়ে সেচের কাজ করা। এলিভেটরে চড়ে সুপারট্রিতে উঠতে হয়। পাশা পাশি এক গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়া যায় ব্রিজের উপর দিয়ে। শ’তাধিক ফুট উচ্চতায় এই যাওয়া আসা কে বলে স্কাই ওয়াক।










সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:২৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×