গত ৫ই জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়।সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর আরোপিত অবরোধে কাতারের রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে ও জনজীবন অচল পড়বে বলে ধারণা করেছিল দেশগুলী।

ওই জোট আশা করেছিল তাদের চাপের ফলে কাতার তাদের সব দাবি মেনে নিবে, অর্থাৎ বন্ধ করে দেবে আলজাজিরা, সমর্থন প্রত্যাহার করবে হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি এবং সম্পর্ক ছিন্ন করবে ইরানের সাথে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। বেশ দক্ষতার সাথেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলছে আরব বিশ্বের ছোট্ট দেশটি। সৌদি জোট যেসব সহযোগিতা বন্ধ করেছে তার প্রতিটিরই বিকল্প সমাধান খুঁজে নিয়েছে তারা।

স্থলপথে আমদানির একমাত্র পথটি সৌদি সরকার বন্ধ করে দেয়ায় দেশটি খাদ্য সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে এমন ধারণা ছিল সবার। অবরোধ আরোপের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের কার্গো বিমানে করে ফলমূল ও সবজি জাতীয় খাবার পৌঁছে কাতারের বিমান বন্দরে।

সপ্তাহ না ঘুরতেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট। ইরান, তুরস্কসহ ইউরোপ থেকে আসতে থাকল খাদ্যদ্রব্য। কাতারের অলিগলির দোকানগুলো দুই দিনের ব্যাবধানে ভরে উঠে নিত্য-প্রয়োজনীয় সব আমদানি পণ্যে। অবরোধের ধাক্কা সামলে উঠতে ইরান ওমান, ভারত ও তুরস্কের সাথে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে কাতার।দুদ্ধজাত পণ্যের চাহিদা মকাবেলায় দেশটি হাঙেরি ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এনেছে পাঁচ শতাধিক দুগ্ধবতী গাভি। আগস্ট মাসের মধ্যে হাঙ্গেরি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানি থেকে আসবে মোট চার হাজার গরু।

অবরোধের কারণে আর্থিক সঙ্কটেও পড়েনি কাতার, আমদানি বন্ধ হয়নি। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির আয়ের প্রধান উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস, যার উৎপাদন চলছে যথানিয়মে। এ ছাড়া কৌশলগত কারণে কাতারের রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করা আছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড এবং লন্ডন, নিউ ইয়র্কের মতো শহরের আবাসন খাতে। এটিও দেশটির অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বড় একটি শক্তি।

অবরোধের কোনো ধাক্কাই লাগেনি কাতারের অবকাঠামো খাতে। ২০২২ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। সে লক্ষ্যে এখন চলছে ব্যাপক স্থাপনা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ। বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামগুলোয় যাতায়াতের জন্য বিশেষ এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। হামাদ বন্দরমুখী প্রশস্ত মহাসড়কের কাজেও এতটুকু বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি ওই অবরোধ।

প্রভাব পড়েনাই কাতারের পর্যটন খাতেও। সেন্ট রিজিসের মতো বিলাসবহুল হোটেলগুলোয় আগের মতোই ভিড় লেগে আছে বিদেশী অতিথিদের। গত সপ্তাহে বার্সেলোনা ও বিশ্ব ফুটবলের বড় তারকা জেরার্ড পিকে, সার্জিও বুস্কেটস, জর্ডি আলবাকে দেখা গেছে সেখানের একটি শপিং মলে প্রচুর ভক্তবেষ্টিত অবস্থায়।

পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে পারার কারণে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানির জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে দেশটিতে। কাতারের রাস্তায় বিভিন্ন গাড়ির গায়ে কিংবা বিল বোর্ডে শোভা পাচ্ছে ‘আমরাই তামিম, আমরাই কাতার’ এমন সব শ্লোগান। এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও চারটি আরব দেশের অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি জনজীবনে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




