
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল প্রকাশিত সাপ্তাহিক সানডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, "ইরানের গোপন সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।"উত্তর কোরিয়াকে সহযোগিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইরান ও রাশিয়া।

চার বছর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় পাশ্চাত্যের কোনো কোনো মহল অভিযোগ করেছিল ইরানের সহযোগিতায় উত্তর কোরিয়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। সে সময় ওবামা সরকারের একজন ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছিল, "উত্তর কোরিয়ার পরমাণু তৎপরতা এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির সহযোগিতা আমেরিকার জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়।"

দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , "উত্তর কোরিয়ার ডিজাইন অনুসরণ করে ইরানের শাহাব-তিন ক্ষেপণাস্ত্রে ওয়ারহেড স্থাপন করা হয়েছে যা বিপজ্জনক ও সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।" তারা আরও উল্লেখ করেছে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে সহযোগিতা বজায় রয়েছে।

পারচিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান গোপন পরমাণু তৎপরতা চালোতে পারে বলেও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হলেও ইরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাটিকে ওই কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএও তার রিপোর্টে স্বীকার করেছে পারচিন নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গোপন সহযোগিতা বজায় রয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোরিয় উপদ্বীপে সংকট সৃষ্টির মার্কিন চেষ্টার ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। মূলত আমেরিকার প্রতি আস্থার অভাবেই উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



