
সিনেমার নাম- চতুষ্কোণ
কলকাতার এই সিনেমাটা দেখা হয়েছে অনেক আগেই, অনার্স ফাইনাল এক্সামও সৃজিতের সিনেমা দেখতে আমাকে থামাতে পারে নাই, এক্সামের মাঝেই এটা দেখেছি!
বেশ পয়সাওয়ালা এক প্রযোজনা কোম্পানি একটা সিনেমা বানাবে, চারটা কাহিনী নিয়ে। এই চারটা কাহিনী হবে চারজন পরিচালকের, এই চারটা ছোট কাহিনী নিয়ে একটা বড় সিনেমা হবে। তবে শর্ত আছে একটা, চারটা কাহিনীর থিম এক হতে হবে আর সেটা হবে "মৃত্যু" বা ডেথ। মূলত এই চারটা কাহিনীর বয়ানই এই সিনেমার মূল কাহিনী।
চতুষ্কোণ সৃজিতের অন্যসব সিনেমার থেকে যেই দিক থেকে আলাদা সেটা হল এই সিনেমার দুর্দান্ত লেভেলের মেকিং। কিছু শট এখনও আমার মাথায় ঘুরছে আর ভাবছি "ব্যাটা এই শটটা কীভাবে নিল? কীভাবে?" অনেক বেশি ডিটেলিং এর কাজ আছে। রং নিয়ে অনেক খেলেছেন এই সিনেমাতে সৃজিত- ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলেই দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যাবে। চারজন পরিচালকের সিনেমার কাহিনী সৃজিত চারটি কালারে দেখিয়েছেন, গৌতম ঘোষের কাহিনীর রং সবুজ, চিরঞ্জীত এর কাহিনীর রং লাল, অপর্ণা সেন এর কাহিনীর রং নীল(হালকা নীল বলা যায়) আর পরমব্রতর কাহিনীর রং... থাক, এটা বললাম না, তাহলে যারা দেখেন নাই তাদের জন্য স্পয়লার হয়ে যাবে। একটু হিন্টস দিতে পারি, পরমব্রতর কাহিনীর রং হল "বাস্তব"
অভিনয়ে সবাই ভাল, চিরঞ্জতকে অনেকদিন পরে দেখে ভাল লেগেছে, খুবই ভাল করেছেন তিনি। গৌতম ঘোষ আর অপর্ণা সেন নিজের চরিত্রে যথাযথ। তবে শেষ বলে ডাবল ছক্কা (দেখলেই বুঝবেন ডাবল ছক্কা কেন বলছি!) মেরেছেন পরমব্রত নামের পুঁচকে এই ছেলে- পুরাই পাগলাটে অভিনয়! আরেজন আছেন ছক্কা মারার তালিকায়- কৌশিক গাঙ্গুলি, সব মিলিয়ে ১০ মিনিটের কাছাকাছি ছিলেন সিনেমাতে, তাতেই যা দেখলাম! সিনেমার গান খুবই দারুণ, অনুপমের গাওয়া "বোবা টানেল" গানটি মাথায় ঘুরতেই থাকে। বাকি গানগুলাও দারুণ।
সৃজিতের পড়াশুনার লেভেল নিয়ে কথা না বললেই নয়, পুরো সিনেমা জুড়ে বিখ্যাত অনেক কবির কবিতার এবং আরও বেশ কিছু জিনিসের রেফারেন্স। জয় গোস্বামীর "প্রাক্তন" কবিতার লাইন "কে তাহলে ভাত বেড়ে দেয়?কে ডেকে দেয় সকাল সকাল?", রবীন্দ্রনাথের কবিতা, দ্যা গুড দ্যা ব্যাড অ্যান্ড দ্যা আগলি সিনেমার সেই বিখ্যাত সংলাপ "হোয়েন ইউ হেভ টু শুট, জাস্ট শুট, ডোন্ট টক", পরমব্রতর মুখে "বউ গেলে বউ পাওয়া যায়, মা গেলে মা পাওয়া যায় না রে!" বা তার মুখেই সিনেমার শেষের দিকে "চিরসখা হে" গান- অতুলনীয়!
সৃজিত দিন দিন কোন লেভেলে চলে যাচ্ছেন- সেটা আসলে বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ভিন্ন ধরনের সাবজেক্ট নিয়ে এক একটা সিনেমা করা, প্রতিটা কাজে নিজের ছাপ রাখা, প্রসেঞ্জিতকে নতুন করা আবিষ্কার করা- তালিকার দৈর্ঘ্য বেশ লম্বা। সিনেমার মেকিং যারা শিখতে চান, তাদের জন্য চতুষ্কোণ দেখা অপরিহার্য। আর যারা বিনোদন পেতে চান- তাদের জন্য তো অবশ্যই।
ডাউনলোড লিঙ্ক - Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



