somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর মানচিত্রে রাজনৈতিক ইতিহাসে এ একটি লৌমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য!

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটি দায়দায়িত্বহীন নির্দেশের ফলে 27 অক্টোবরের পর দেশে রাজনৈতিক অঙ্গণে সহিংসতার জন্ম হয়। 28 অক্টোবর পল্টনে পৈশাচিকভাবে মানবতা, মুনষ্যত্বকে ভূলুন্ঠিত করে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করা হয়। যখন কেয়ারটেকার সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্বগ্রহণ করার সকল কর্মকান্ড সম্পাদন করেছে ঠিক সেই সময় আওয়ামীলীগ জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে ঘরে ঢুকিয়ে, আইন-শৃঙ্খলাকারীদের ভীত করে গোটা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মাধ্যমে আওয়ামীলীগ কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পদনত করে 72 এবং 75 এর মত বাকশালী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। এই ঘটনা শান্তিকামী মানুষের বিবেককে আহত করেছে। নিরস্ত্র মানুষের বিবেককে দিয়েছে নাড়া। যাদের সন্তান, ভাই, স্বামী সেদিনের ঘটনায় নিহত হয়েছে তাদের বুক ফাটা আর্তনাদ সন্তানহারা পিতার বেদনা কিংবা স্বামীহারা স্ত্রীর অথবা ভাই হারা বোনের আর্তনাদ খোদার আরশকে পর্যন্ত প্রকম্পিত করে তুলছে। বাবা হিসেবে ছেলের লাশ কাধে নিয়ে হাটা যে কি মর্মান্তিক শুধু ভূক্তভূগীর পইে অনুধাবন করা সম্ভব। তারা কখনো ভাবেনি নিজের হাতে বড় করে তোলা প্রিয় সন্তানটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবে। তারা একটি লাশই শুধু পাইনি, পেয়েছে তবিত হয়ে থেতলে যাওয়া মাথা, পেয়েছে পা থেকে মাথা পর্যন্ত কুপিয়ে রক্তাক্ত করা একটি শরীর, এমন একটি জায়গা পায়নি যেখানে স্নেহের পরশ দিয়ে হাত কিংবা মুখের আদরের শেষ সম্বলটুকু এঁকে দিবে। মোট কথা একটি জায়গা পায়নি যেখানে সন্ত্রাসীরা তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি বৈঠা দিয়ে আঘাত করেনি। জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন একটি অত লাশ আর তবিত একটি লাশ বহন করা কি সমান ? তাদের সন্তান কিংবা ভাইয়েরা কি এমন অপরাধ করেছিল যার জন্য একটি অত লাশও তারা পেল না। এ কোন সভ্য দেশে বাস করছি আমরা। এই নির্মম সভ্যতার আমরা অবসান চাই, অবসান চাই এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেরও। "এক মা আহাজারী করে বলছিল এখনও মনে হয় আমার প্রিয়জন আমার কাছেই আছে। কখনও কখনও অবচেতন মনে মা ডাকটিও প্রতিধ্বনিত হয় বারবার। প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম আমাদেরকে মানতে হয়। কিন্তু এ নিয়মটি মানা যখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায় কষ্টটি হয় তখনই; নিজেকে মনে হয় অসহায়। নিরুপায় হয়ে মহান রবের কাছে প্রার্থনা করি,"আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়।"

শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আক্রমন করে লাঠি, লগি ও বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে এই সকল যুবকদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তাতে ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেছে প্রতিটি মমতাময়ী মায়ের হৃদয়। শুধু হত্যা করেই তারা ান্ত হয়নি বরং নিশ্চিত মৃতু্য জেনেও লাশের উপর উঠে যেভাবে নাচানাচি করেছে তাতে চরম শত্রুরও গা শিউরে উঠেছে। মানবতার এ নির্মম অপমান বিবেকবান মানুষকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একি স্বাধীন বাংলাদেশ! নাকি ফিলিস্তিন! নাকি ইরাক কিংবা কাশ্মীর ! জনমনে আজ প্রশ্ন আওয়ামীলীগের রাজনীতি এত নির্মম কেন? কেন এমন পাশবিক চিত্র আমাদেরকে দেখতে হয়েছে? কেন একের পর এক মায়ের বুক খালি হচ্ছে? কেন স্বজনের আর্তনাদ আকাশ বাতাসকে ভারি করে তুলছে? এ পাশবিকতা থেকে কি কোন মুক্তি নেই? কি সেই মুক্তির পথ ?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহদয় ও উপদেষ্টাবৃন্দকে বলছি যদি এ সন্তানটি আপনার হতো! আপনি কি পারতেন চুপচাপ বসে থাকতে? সরকার যদি তার বিচার না করে তবে কে করবে তার বিচার? আমরা কার কাছে বিচার প্রার্থনা করব ? এই অন্যায় যারা করেছে আমরা যারা নিরবে এই অন্যায় সহ্য করব জাতি যদি তাদেরকে সমান অপরাধি করে ফেলে তাতে কি এই সম্মানজনক আসনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে না ? নোবেল পুরস্কারে ভুষিত বাংলাদেশ যখন বিশ্বের দরবারে এক নতুন ইমেজে অধিষ্ঠিত ঠিক তখনই জীবন্ত মানুষকে পিটিয়ে হত্যার সেই ইমেজকে ম্লান করেছে বিশ্বের সর্বত্র। নিউইর্য়ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে রয়টার হেডকোয়াটর্ারের উপর স্থাপিত বিশাল টেলিভিশন স্ক্রিনে বারবার প্রদর্শিত হচ্ছিল এ অসহায় মানুষদেরকে নির্মমভাবে হত্যার এই দৃশ্য। ঘটনার বীভৎসতা দেখে চোখ ঢেকেছেন আমেরিকানরা। আমেরিকান বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের টিভি দেখতে দেয়নি, যাতে তারা জীবন্ত মানুষের হত্যার দৃশ্যটি না দেখে। যে দৃশ্য দেখে বিশ্ববাসী স্তব্ধ। বাংলার 14 কোটি জনগণ লজ্জায় বাকরুদ্ধ ! সেই দৃশ্য দেখে শেখ হাসিনা কি ব্যথিত হয়েছেন ? কারণ তিনিওতো কোন সন্তানের মা। এসব কিছূ দেখার পরেও এই নির্মম পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে দেশের বিবেকবান রাজনীতিবিদরা ঐক্যবদ্ধ হবে না ? আপনার শানিত কলমটি কি রুখে দাড়াবে না ? সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত আওয়ামীলীগ, 14 দলের বা অন্যকোন দলের নেতা কমর্ীদের প্রতি জাতির বিবেকবান নাগরিকদের আহ্বান দয়া করে সহিংসতা পরিহার করুন। গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা চালান যেন আর কোন তাজা প্রাণ অকালে ঝরে না পড়ে এবং জাতির আলোগুলোকে প্রজ্জ্বলিত রাখার ব্যাবস্থা করুন। সমাজের অন্ধকার দূরীভূত করে ভালো, সত্য এবং সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করুন। তাতে অন্তত আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগের কিছুটা মূল্য দেশ-জাতি উপভোগ করতে পারবে। আর যেন কোন মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়। মুজাহিদ কিংবা শিপনদের মায়েরাই হোক সর্বশেষ শোকাহত মা।

শেখ হুমায়ুন কবির
পুরনা পল্টন, ঢাকা
ঊ-সধরষ-সফযঁসধঁহ@ুধযড়ড়.পড়স
গড়ন: 0191953590:
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×