somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম প্রেম

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়ের সাথে সব কিছু আস্তে আস্তে সব সম্পর্ক গুলোর রং পরিবর্তন হতে থাকে ! যাকে ছাড়া একদিনও বাঁচবো না এমন মনে হত আগে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে তার চেহারাটা কেমন ঝাঁপসা হয়ে আসে ।
আজকে হঠাৎ তার দেওয়া ডায়েরি টা চোখে না পড়লে তার কথা মনেই হত না কিন্তু একটা সময় ছিল কেবল এই দিন নয়, বছরের পুরোটা দিন জুড়ে কেবল সে ই ছিল ! তাকে ছাড়া একটা নিঃশ্বাসও যেন নিতে পারতাম না ! আর আজকে ?
ডায়েরি টা তার কথা মনে করিয়ে দিল ?
কার কথা বলছি ?


বলছি আমার প্রথম প্রেমিকার কথা ! আমার জীবনের প্রথম মেয়েটির কথা যার প্রেমে পড়েছিলাম আশ্চার্য ভাবে প্রথম দেখাতেই ! প্রথম দেখাতে প্রেম যাকে বলে !
সোমা !
সোমা রহমান ! আমার তিন বছরের ছোট, আমার জীবনের প্রথম প্রেম ! আজকে এসেছি তার গল্প করার জন্য !
বানিয়ে বানিয়ে গল্প লিখি বলে দয়া করে এটাও মনে করবেন না যে এইটাও বানানো গল্প !
আমার সেই দিনের কথা এখনও মনে আছে । শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১ সাল ! আমার ইন্টার 1st ইয়ার পরীক্ষা চলছে, পরীক্ষা দিয়ে মেসে ফিরছি রাস্তায় হঠাৎ ওর সাথে দেখা চিকন গলির রাস্তা ধরে পাশাপশি হাটছি ! দুজন দুজনকে চিনতাম but কোনদিন কথা বলিনি,
আমার মেস ও তার বাসা পাশাপাশি ছিল, মেসের গেটের কাছেই আসতেই ও বলল তোমাকে আমার ভালো লাগে। আমি তো অবাক ! বিশ্বাস করুন আমার কথা একেবারে বন্দ হয়ে গেয়েছিল,
আমি জানি না, আমার বুকের মাঝে কি হল ! কেবল লক্ষ্য করলাম আমার অন্য রকম একটা অনুভুতি হচ্ছে ! বুকটা একটু যেন বেশি জোরে কাঁপছে ! এই অনুভুতি আমার কাছে নতুন ছিল !
ছোট বেলা থেকেই আমি মেয়েদের দিকে একদম তাকাতাম না, কথা তো দুরে থাকুক !
কিন্তু মেয়েটার দিক থেকে চোখ সরাতে পারলাম না !
তার কয়েক দিন পরে মেয়েটির সাথে আমার মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল ! একদম মুখোমুখি ! আমি যে স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম সেও সেখানে পড়ত ! দেখা হল সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল ! স্যারের বাসায় দরজার কাছে গিয়েছি ঠিক তখনই মেয়েটা এসে হাজির ! একদম মুখোমুখি ! সে কিছুক্ষন চেয়ে রইলো আমি কিছুক্ষন ! সে সেদিন বাদামী রংয়ের কামিজ আর বাদামী ল্যাগিংস পরেছিল ! চুল গুলো একটু যেন ভেজা ভেজা ছিল !
অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দিলাম প্রেমের প্রস্তাব !
স্যার তখন আসেনি ! একটা কাগজ লিখে পাঠালাম ! আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম যে উত্তর হ্যা আসছে কিন্তু উত্তর এল “না” !
তার বান্ধবী টেনে টেনে বলতে লাগলো “দেখো এখন ও এই সব কোন সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছে না” !
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম !
ছুটির সময় যখন সাইকেল স্ট্যান্ডে সাইকেল নিতে যাবো দেখি সোমা তার বান্ধবী সহ এসে হাজির ! বলতে গেলে এই প্রথম সে আমার মুখোমুখি হল ! আমি চলে যেতে চাইলে আমার সাইকেল আটকে দাড়ালো !
আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল
-তুমি রাগ করেছ !
আমার তখন মনে হয়েছিল না রাগ করবো কেন ? আমি তো অনেক খুশি হয়েছি ফাজিল মেয়ে !
কিছু বলললাম না !
সে বলল পহেলা বৈশাখের দিন বিকেলে তারা পার্কে বেড়াতে যাবে ! আমি যেন পার্কে দেখা করি !
পহেলা বৈশাখের দিন ওরা চার বান্ধবী আমাদের মেসের সামন দিয়ে রিক্সা করে পার্কে গেল ,আমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আর একটা রিক্সা নিয়ে ওদের পিছু নিলাম ! পার্কে যাওয়ার পর সোমা একটু দুরে আমাকে ডেকে নিয়ে গেল ! আমি চুপ করে ছিলাম । কি বলবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না ! সোমা বলল
-আমাকে কিছু বলতে চাও না ?
-না !
-তোমার কিছু বলার নেই ?
-আছে তো !
-তাহলে বল না কেন ?
-মুখে কিভাবে বলবো ? লিখে দেই ?
শুনতে হাস্যকর হলেও সেদিন এই কথাটাই বলেছিলাম !
তারপর কাগজে লিখলাম
ডু ইউ লাভ মি ? ইয়েস / নো !
সে আমার হাত থেকে কলম টা নিয়ে ইয়েস এ টিক দিয়ে নো টা কেটে দিল !
পুরাই মাল্টিপল চয়েজ প্রোপোজ !
তারপর ও মাথার খোপা থেকে ছোট একটা সাদা ফুল আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বান্ধবীদের কাছে গেল !
তখন মনের ভিতর কি পরিমান আনন্দ হচ্ছিল বলে বোঝানো যাবে না !
যখন রুমে ফিরে এলাম তখন আমি যেন অন্য জগতে ছিলাম !
এর পরেই আমার অন্য রকম একটা জীবন শুরু হল ! সোমার সাথে মোট ১৪ মাস রিলেশন ছিল ! বলতে কোন বাঁধা নেই কোন দ্বিধা নেই ১৪ টি মাসের প্রতিদিনই আমি আমি কাটিয়েছি অন্য এক জগতে ! জীবনে অন্য রকম একটা আনন্দময় সময় ছিল সেটা !
ওকে চিঠি লিখতাম খুব বেশি ! এত্তবড় বড় সব চিঠি ! সোমাও লিখত ! তখন আমাদের মোবাইল ছিল না ।
ওকে নিয়ে সাইকেল ভ্রমনে যেতাম প্রায়ই ! দুইজনের বিকালের প্রাইভেট কামাই দিয়ে চলে যেতাম যেদিকে চোখ যায় !
মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমাদের দেখাই হয় নি ! ও আমাকে এক জায়গায় দাড়াতে বলেছে আমি বুঝি নি, দাড়িয়ে রয়েছি অন্য জায়গায় ! ও রাগ করে আছে আমিও রাগ করে আছি !
এরকম কত স্মৃতি যে আমাদের রয়েছে । কতদিন হয়ে গেল তবুও যেন চোখের সামনে যেন সব ভাসে !
ওর সাথে সম্পর্কের পুরোটা সময়ে আমি আসলেই অন্য এক জগতে ছিলাম ! ছোট ছোট অনেক ঘটনা ইচ্ছে করলে বর্ণনা করা যায় তাহলে আজকে আর শেষ হবে না !
একটা সময় নিজেদের ভুলের কারনে সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে যায় ! দোষ ছিল দুজনেরই ! কারও বেশি কারও কম ! কে বেশি দোষী ছিল সেটা আজকে আর নাই বলি !
সেই কবেকার কথা ! প্রথম প্রেম ছিল, কোন চিন্তা ভাবনা ছিল না কেবল আবেগ ছিল ! আজও আছে মনের কোথাও ! আজও তাকে মনে পড়ে !
হয়তো আজকে আমাকে আর আগের মত মনে পড়ে না ! মনের গভীরে কোথাও আমার স্মৃতি গুলো ফেলে রেখেছো অবহেলায় ! তবে এই টুকু নিশ্চিত জানি আমাকে তুমি মনে রেখেছো ! মনের কোথাও না কোথাও আমার কথা কোন এক বিষন্ন বিকেলে ঠিকই মনে পড়ে তোমার ! যেমন টি আমার মনে পড়ে !
সবার শেষে তার কয়েকটা লাইন দিয়ে শেষ করি ! সে একটা চিঠিতে আমাকে লিখেছিল !
When I will Die,
Come to my grave
No Cry, No pray
On just Say “I love you”
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×