
ছেলেদের বেতন আর মেয়েদের বয়্স জিজ্ঞেস করা আমাদের সমাজে ভব্যতার বিরোধী...আমিও এই নীতি মেনে চলার চেষ্টা করি...
কিনতু, কিছু দিন আগে, ফার্মগেটের 'রিক্সা প্রবেশ নিষেধ' সাইনবোর্ডটার উপর হেলান দিয়ে উদাস নয়নে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ আনসারকে দেখে কেন যেন এই প্রশ্নটা করে ফেলেছিলাম। হয়তো আনসারদের সম্পর্কে স্বাভাবিক একটি কৌতূহল বোধ থেকেই এই জিজ্ঞাসা করে ফেলা - ''আপনার বেতন কত?''।
প্রশ্নটি শুনে তরুণ আনসারটি মনে হয় লজ্জা পেলো। উত্তরে বললো-্''ভাই, জাইনতে পারি কি জইন্যে?''
তার প্রশ্নের উত্তরে আমি যখন জানালাম আমার কৌতূহলের কথা, তখন মনে হয় সে একটু ধাতস্থ হলো। জানালো যে, এখন তাঁরা ১২,৫০০ টাকা পান, সে সাথে মাসে ২৮ কেজি চাল আর ২৮ কেজি গম দেয়া হয় রেসন হিসেবে। হিসেব কষে দেখলাম, ভালোই তো! তাহলে শুধু শুধু কেন বেচারারা রিক্সাওয়ালাদের কাছ থেকে তারা টাকা-পয়সা নেন প্রায়শঃ-ই!
প্রশ্নটা মনে হতেই আবার শুধালাম- ''আপনি এ নিয়ে খুশি তো?''
''খুশি হইমু না কেন!'' আনসার যুবকের উত্তর। ''কত পোলাপানই তো চাকরী না পাইয়া পথে পথে ঘুরতাসে। তাগোর চেয়ে আল্লাহ তো অনেক ভালা রাখছে আমারে।''
এমন উত্তর আশা করিনি। তাই, কিছুক্ষণ চেয়ে রইলাম তার দিকে। হাত বাড়িয়ে দিলাম হ্যান্ডশেক করার জন্যে। যুবকটি এক গাল হেসে আমার হাতটি ধরলো।
আসার পথে মনে হলো আরো একবার পিছু ফিরে দেখি লোকটাকে। কেন যেন তা করলাম না। মনে মনে তাই ছবি আঁকলাম একজন আনসারের হাঁসি মুখ। হয়তো সে রোদে পোড়া সারা দিনের ডিউটি শেষে ক্লান্ত ঐ সন্ধ্যাবেলায় বেজার মুখ করা কোন যুবক নয় আর এখন।......সে রকমই কোন কিছুর মহান একটি আশা নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলাম হাঁসি মুখে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




