
মাননীয় শেখ হাসিনা একবার নিজের জনসভায় বলেছিলেন, এখন এত্তো মানুষ। অথচ, বঙ্গবন্ধু মারা যাবার সময়ে এই ভীড় কোথায় ছিলো! কথাটার মর্মার্থ অনেক গভীরে। প্রধানমন্ত্রী মনে হয় আস্তে আস্তে বুঝতে পারছেন, তাঁর চারপাশ একদল হিংস্র, চাটুকার, দূর্নীতিবাজ ঘিরে ধরেছে। এমন পরিস্থিতিতে, শেখ হাসিনা কি খুব একলা বোধ করছেন? এই আতংকজনক অবস্থায়, তিনি কি এখন নিজেকে গুটিয়ে নিবেন, নাকি নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে এসে সমস্যার মুখোমুখি হয়ে শক্ত হাতে দেশের হাল ধরবেন? এখানেই, আসল শেখ হাসিনার পরিচয় মিলবে।
আওয়ামী লিগে অনেক ত্যাগী নেতা ছিলেন। এখনো আছেনও। যেমন, আমার চাচা যিনি কি না নিজ এলাকার হাল ধরতে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীর চাকরী ছেড়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এরপর থেকে পাঁচ বারই এলাকার মানুষই তাঁকে সেই পদে মনোনিত করে। খুবই অতিথীপরায়ন এই মানুষটি বেশ কড়া প্রকৃতির লোক। কারো কোন ভুল পেলে, সবার সামনে লোকটিকে তিক্ত কথা শুনাতে পিছপা হোন না। তাঁর ভয়ে ইউনিয়ন অফিসের ধারে-পাশে ঘেষতে পারেন না চাটুকাররা। এই কারণেই কি না, দলের ক্ষতি হচ্ছে এই ধুয়া তুলে ইউনিয়ন আওয়ামী লিগ তিন ভাগে বিভক্ত। তবুও, পাঁচ বার তিনি চেয়ারম্যান পদে।
আমার চাচা যত ভালো লোকই হোন, হয়তো দলের হাত শক্ত ভাবে ধরে রাখতে পারেননি বলেই ইউনিয়ন পর্যায়েও তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। দলের পরবর্তী প্রজন্মকে কাছে টেনে সঠিক ট্রেইনিং দিতে না পারাতেই হয়তো সেইসব তরুণেরা লুকিয়ে-ছাপিয়ে দলের ক্ষতি হবে জেনেও তাঁর বিরুদ্ধে মিটিং করে।
কোথায় যেন শুনেছিলাম, বিরাট অশুত্থ গাছ (নাকি বট গাছ?) যখন মারা যেতে থাকে, তখন বাইরে থেকে কেউ বুঝতে পারে না। কেউ ঠাহর করতে পারে না সেই গাছের তলা ফাঁপা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা। একদিন সামান্য হাওয়াতেই সেই গাছ ভেঙ্গে পড়ে। কেউ কি ভেবেছিলো, আওয়ামী-মুসলিম লিগ শুধুই আওয়ামী লিগে পরিণত হয়ে যাবে? সেই আওয়ামী লিগ থেকেই খন্দকার মোস্তাকের মতো মানুষ তৈরী হবে? কেউ কি স্বপ্নেও ভেবেছিলো, এই আওয়ামী লিগেরই কিছু নেতা 'মাইনাস টু' ফর্মুলায় রাজি হয়ে যাবে?
তাই, সাধু সাবধান!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




