
২০১৫ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫,৮১৬টি হসপিটাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এইসবগুলোকে যদি বাংলাদেশ সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় নিয়ে এসে জনগণকে সেবা দান শুরু করে, তখন কি হবে? সরকারের কর্ম-পরিকল্পনা ও জমি এবং প্রাইভেটের দক্ষতা মিলে বাংলাদেশে কি ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিৎ করা সম্ভব? কেউ যদি করতে চান, তাহলে কি কি করতে হবে?
প্রথমেই আসি, বাংলাদেশে বর্তমানে কত জন ডাক্তার ও নার্স আছেন, আর কতইবা আসলে প্রয়োজন। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০,০০০ জনের জন্যে ৩.৫ জন ডাক্তার এবং ১.০৭-জন নার্স রয়েছেন। আসলে, কত জন ডাক্তার ও নার্স প্রয়োজন? এক্ষেত্রে, যদি সুইজারল্যান্ডকে আমরা যদি অনুসরণ করি, তাহলে, প্রতি ১০০০ জনের জন্যে লাগবে ৩.৬০ জন ডাক্তার এবং ১৮ জন নার্স। সেই হিসেবে, বাংলাদেশ বর্তমানে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার ডাক্তার এবং ২৭ লক্ষ নার্সের প্রয়োজন। আর, এই ডাক্তারদের গড় বেতন যদি বছরে ১২ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে সরকারের ৬৪,৮০০ কোটি প্রয়োজন প্রত্যেক বছর। যদি পাবলিক -প্রাইভেট পার্টনারশীপ মডেলে যাওয়া হয়, তাহলে তো এই ব্যয় ভার অনেক কমে যাবে। সেই সঙ্গে দরকার নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী'র জন্যে লাগবে আরো প্রায় ৬,৪৮,০০০ কোটি টাকা।
আর, প্রতি ১০০০ জনের জন্যে ৩টি হসপিটাল ব্যাডের প্রয়োজন হলে, প্রায় ৫ লক্ষ ২৫ হাজার হসপিটাল ব্যাড আর ১,০৫০টি হসপিটাল প্রয়োজন হবে যার একেকটিতে থাকবে ৫০০ ব্যাড। এই অত্যাধুনিক হসপিটালগুলো একেকটি বানাতে ১০০ কোটি টাকা খরচ হলে ১০৫০ বিলিয়ন টাকার প্রয়োজন। এভাবে, বছরে যদি একেক জনের গড়ে ৫০০০ টাকার ওষুধ লাগে, তাহলে, ৮৭৫০ বিলিয়ন টাকার ঔষধ লাগবে। আর, ইলেক্ট্রনিক হেলথ রেকর্ডের আওতায় নিয়ে আসা হলে, প্রেস্ক্রিপশন বা অন্যান্য কাগজ-পত্র যা লাগবে, সেগুলোর খরচও আর লাগেবে না।
এই বিশাল ব্যয় কি সরকার বহন করতে পারবে? পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপের মডেলে চলে আসলে হয়তো পারবে। এক্ষেত্রে, হেলথ ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে, ব্যয় ভার কমে আসবে। প্রতিটি মানুষকে যদি নূন্যতম ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলেও সম্ভব। আর, সবচেয়ে ভালো হবে, সরকার যদি রাজস্ব আয় থেকে আন্তর্জাতিক কোন লাভজনক ব্যবসায় বিনিয়োগ করে এবং প্রফিটের টাকা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে, তাহলে তো কথাই নেই!
সরকার কি তা পারবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

