
১) ২০১০ সালের কথা। চোখে রঙের আবীর মেখে প্লেনে উঠেছি। উদ্দেশ্য যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স পড়তে যাবো। সিলেটি ছেলে হওয়ায় ভালো পাত্রী পেলে সেখানে থেকে যাওয়ার স্বপ্নও হাতছানি দিয়ে ডাকছিলো। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে আমাকে রিসিভ করে আসা ছোট ভাই চোখ কপালে তুলে বললো- ''কোন জমানার স্যুট পরেছো! এটা বদলাতে হবে। আর, লম্বা টাই এই মূহুর্তে চলে না।'' বুঝলাম, আমাকে অনেক দূর পাড়ি দিতে হবে।
২) আমি আর আমার ছোট ভাইয়ে নর্থ লন্ডনের উডগ্রিনে থাকি। সে একটা সফটওয়্যার কোম্পানীতে চাকরী করে। তারপরো, প্রথম প্রথম রান্নার কাজটা সে-ই করতো। এমনকি, পেঁয়াজ কাটার কাজটাও সে করে দিতো। ব্যস্ততার দরুন প্রতি দিন রাঁধা হতো না। দুই দিনের খাবার একসাথে রেঁধে ফ্রিজে রেখে দেওয়া হতো। একদিন ঠিক করলাম আমি নিজে রান্না করবো। ভাই সেদিন বাসায় নেই। রান্নার প্রথমেই পেয়া্জ কাটার আয়োজন। উরিব্বাস! সে কি ঝাজ! নাকের পানি, চোখের পানিতে একাকার অবস্থা! ঝাঁজের চোটে বুঝতে পারিনি কোনটা আঙ্গুল আর কোনটা পেঁয়াজ। সোজা আঙ্গুলের উপর দিয়ে ছুরি চালালাম!
৩) লন্ডনের রাস্তা দিয়ে প্রথম প্রথম যখন হাঁটতাম, তখন দেখতে পেতাম মেয়ে-ছেলে-বুড়ো সবাই খুব ব্যস্ততায় দ্রুত হেটে যাচ্ছে। আমার আবার আস্তে আস্তে হাটার অভ্যাস। ফুটপাথ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় দেখতাম মানুষ খুব লেন মেন্টেন করে হেঁটে যায়। বাম দিকের মানুষ খুব কমই ডানের লেনে হেঁটে যায়। মাঝে মাঝে যখন ভিড় হতো, আমার এই আস্তে হেঁটে যাওয়া অনেকের বিরক্তির উদ্রেক করতো। আমার গদাই লস্করি চালের হাঁটায় পিছনে লাইন লেগে যেতো প্রায়ই!
৪) লন্ডনের মাটির নিচে ট্রেন চলে। আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন বলা হয় সেগুলোকে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্যে দরজা খুলে। সেই সমটাতে অনবরতঃ 'টি, টি, শব্দ করতে থাকে। প্রথম প্রথম খুব ভয় লাগতো। যদি আটকে যাই দরজার ফাঁকে! অনেকেই এরকম আটকে গিয়েছেন আগে! তবে, যে চার বছর ছিলাম, কখনোই আটকে যাইনি!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


